দেবহাটার কুলিয়ায় মাদক বিকিকিনির সর্গরাজ্য, প্রতিনিয়ত হচ্ছে চুরিসহ নানা অপকর্ম
নিজস্ব প্রতিবেদক, দেবহাটা:
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া বাজার ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে মাদকসেবী এবং মাদক বিক্রেতাদের দাপট চরম আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে এলাকায় প্রতিনিয়ত দিন ও রাতে চুরির ঘটনা ঘটছে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুলিয়া বাজার এবং এর আশপাশের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে দীর্ঘদিন ধরে একটি চিহ্নিত মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। দিন-রাত সমানতালে চলছে মাদক বেচাকেনা ও সেবন। উঠতি বয়সের যুবক থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষ এই মরণনেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। আর এই মাদকের টাকা জোগাড় করতেই মাদকসেবীরা বেছে নিয়েছে চুরির পথ।
ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কুলিয়া বাজার এলাকায় এখন কোনো কিছুই নিরাপদ নয়। সুযোগ পেলেই দোকানের তালা ভেঙে, স্থানীয় বাড়ি ঘরের জানালা দিয়ে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা, বাইসাইকেল, দোকানের মালামাল এমনকি বাসাবাড়ির হাঁস-মুরগি, ছাগল সহ গাছের ফল পর্যন্ত চুরি হয়ে যাচ্ছে। শুধু রাতের আঁধারেই নয়, দিনের বেলাতেও মানুষ একটু অসতর্ক হলেই ঘটে যাচ্ছে চুরির ঘটনা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবীদের এই সিন্ডিকেট এতটাই বেপরোয়া যে, তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পায় না। প্রতিবাদ করলে উল্টো নানাভাবে হুমকি-ধমকি ও হেনস্তার শিকার হতে হয়। ফলে অনেকেই ক্ষয়ক্ষতি সহ্য করেও মুখ বুজে থাকছেন।
কুলিয়া বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, কুলিয়া শহীদ মিনারে পাশে গাঁজা ব্যবসায়ী রাজ্জাক ওরফে খোঁড়া রাজ্জাক , একই এলাকার মোমে , কালো ময়না , হযরত আলী, আবু রায়হান ডিসি বাবু , কালু , মিজানুর রহমান মিজান, খোকন , মনি ও কুলিয়া পাল পাড়া দুর্গা মন্দিরের পাশের ইয়াবা সম্রাট মাদাই , মাদক ব্যবসায় জড়িত ,যে কারণে উঠতি বয়সী যুবকেরা মাদক সেবনের টাকা জোগাড় করতে
প্রতিনিয়ত চুরি ছিনতাইসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। আমরা ব্যবসায়ীরা এখন নিরাপত্তা নিয়ে চরম সংশয়ে মধ্যে আছি। বাজারে নৈশপ্রহরী থাকলেও চোরের উপদ্রব কমানো যাচ্ছে না। মাদক ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ না হলে এই চুরির সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন তারা। বিশেষ করে দিনের বেলায় দোকান বন্ধ থাকার সময়ে পাহারাদার না থাকায় দুপুরের সময় অনেক দোকানেও চুরির ঘটনা ঘটছে। এছাড়া রাতের বেলায় মাদকচক্র হয়ে উঠে বেপরোয়া। বাজারের নাইটগার্ডদের সাথেও প্রতিনিয়ত বাক বিতন্ডায় লিপ্ত হচ্ছে এই চক্র। সুযোগ বুঝে তারা বিভিন্ন ভাবে চুরির ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে বাজার কমিটির নির্দেশ অমান্য করে মধ্যরাত পর্যন্ত কিছু দোকানপাট খোলা রাখার কারনে উক্ত অপরাধ সিন্ডিকেট দোকানে যাবার সহজ অযুহাত দেখিয়ে অবাধ বিচরন করে। এছাড়া দিনের বেলায় কুলিয়া মৎস্য শেড বন্ধ হবার পর থেকে রাত্রব্যাপি সেখানে বসে মোবাইল জুয়ার আসর ও মাদক বিকিকিনি। শহীদ মিনার পাশে পরিত্যাক্ত দোকানের জায়গাগুলোতে এবং দোতলা মার্কেটের আন্ডারগ্রাউন্ড পরিত্যাক্ত স্থানে, চার রাস্তার মোড়ে যাত্রী ছাউনীর ভিতরে বাহিরে কুলিয়া ব্রীজের নিচের অংশে এদের নিয়মিত আডডাস্থল। তবে এই চক্রটি মুলত স্থানীয় হওয়ায় বাজারের ব্যবসায়ীরা সবকিছু দেখেও কিছু বলার সাহস পায়না। ইতিমধ্যে তারা অপ্রতিরোধ যোগ্য হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে সচেতন মহল অবিলম্বে কুলিয়া বাজার ও আশপাশ এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে মাদক কেনাবেচার মূল আস্তানাগুলোতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ ও দেবহাটা থানা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


No comments