সীমান্ত সিন্ডিকেটের ‘ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইল, নেপথ্যে ভারত-বাংলাদেশ মাদক ও অস্ত্র পাচারকারী চক্র - Dainik Shomoy Barta

Breaking

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Tuesday, February 10, 2026

সীমান্ত সিন্ডিকেটের ‘ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইল, নেপথ্যে ভারত-বাংলাদেশ মাদক ও অস্ত্র পাচারকারী চক্র

 

নিজস্ব প্রতিবেদক সাতক্ষীরা :


 সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সীমান্ত এলাকা কেন্দ্রিক একটি শক্তিশালী মাদক, অস্ত্র ও মানব পাচারকারী সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে এবং এলাকার সাধারণ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সামাজিক প্রতিপত্তি ক্ষুণ্ণ করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সুপরিকল্পিত অপপ্রচার শুরু করেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভারত ও বাংলাদেশের দুই প্রান্ত থেকে এই চক্রটি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে, যাদের প্রত্যেকের রয়েছে দীর্ঘ অপরাধমূলক রেকর্ড।



অনুসন্ধানে এই চক্রের তিন প্রধান হোতার অতীত কর্মকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে

আব্দুল্লাহ (কালইঞ্চি) পিতা আকবার তরফদার। শ্যামনগর থানা পুলিশের হাতে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের ভিডিও ফুটেজ এবং নথিপত্র তার অপরাধের সাক্ষ্য দেয়। বর্তমানে সে আইন এড়াতে ভারতের বাড়ি ব্যবহার করে কুয়েতে আত্মগোপন করে আছে এবং সেখান থেকেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

 মামুন কয়াল (সাপখালি) পিতা জারালে কয়াল। গত ১১ই নভেম্বর ২০২৫ তারিখে কোস্টগার্ডের বিশেষ অভিযানে অবৈধ অস্ত্র ও মাদকসহ হাতেনাতে গ্রেফতার হয় এই মামুন। বর্তমানে সে সাতক্ষীরা জেলহাজতে বন্দি।

জামির আলী জামু (গোলাখালি) পিতা সিয়াম উদ্দিন মোল্লা। গোলাখালি এলাকায় ‘ডন’ হিসেবে পরিচিত এই জামু কিছুদিন আগেই সেনাবাহিনীর হাতে আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়েছিল। জামিনে বের হয়েই সে সিন্ডিকেটকে পুনরায় চাঙ্গা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।



অনুসন্ধানে জানা যায়, এই চক্রের অন্যতম প্রধান সদস্য ভারতের যোগেশ। সে ভারত থেকে বাংলাদেশে অস্ত্র ও গরু পাচারের মূল যোগানদাতা। সম্প্রতি মামুন কয়াল গ্রেফতার হওয়ায় এই পাচার কাজে ব্যাঘাত ঘটে। এর প্রতিশোধ নিতে এবং এলাকার প্রতিবাদী মানুষদের মুখ বন্ধ করতে যোগেশ ভারত থেকে একটি ভিডিও তৈরি করে। সেই ভিডিওটি পরিকল্পিতভাবে পলাতক আব্দুল্লাহর ফেসবুক আইডি থেকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য যে, ভারতীয় গণমাধ্যমের সূত্রমতে, যোগেশ নিজেও সম্প্রতি ওপারে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রসহ সেদেশের পুলিশের খাঁচায় বন্দি হয়েছে। অর্থাৎ, দুই দেশের দুই কয়েদি ও পলাতক আসামি মিলে এই ডিজিটাল ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছে।



ভিডিওটিতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কালইঞ্চি গ্রামের রবিউল ইসলাম (পিতা আবু দাউদ গাজী), পূর্ব কৈখালীর সুনামধন্য ব্যক্তি দেলোয়ার হোসেন (পিতা মনসুর মোল্লা) এবং সাপখালি গ্রামের আইজুল গাজী (পিতা রুলআমিন গাজী)-কে জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, এসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় কোনো অপরাধের রেকর্ড তো নেই-ই, বরং তারা এলাকায় সজ্জন এবং পাচারকারীদের বিরোধী হিসেবে পরিচিত। মূলত তাদের প্রতিবাদী কণ্ঠকে থামিয়ে দিতেই এই সাজানো ভিডিওর আশ্রয় নিয়েছে পাচারকারী সিন্ডিকেট।


ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইল,অপরাধীরা নিজেরা গ্রেফতার হওয়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে থাকলেও, তারা এআই বা এডিট করা ভিডিওর মাধ্যমে অন্যদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

সীমান্ত সিন্ডিকেট,ভারত থেকে যোগেশ অস্ত্র পাঠায়, আর বাংলাদেশে জামু ও মামুন সেই নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করে।

অর্থ পাচার,আব্দুল্লাহ অপরাধের অর্থে ভারতে স্থাবর সম্পদ গড়েছে এবং বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে বসে এই প্রোপাগান্ডা তদারকি করছে।



এলাকার সচেতন মহল এই জঘন্য অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষকে এভাবে হয়রানি করা এবং সাজানো ভিডিওর মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

 একজন অস্ত্র পাচারকারী (জামু), একজন জেলবন্দি মাদক ব্যবসায়ী (মামুন) এবং একজন পলাতক আসামি (আব্দুল্লাহ) যখন কোনো সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে, তখন তার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যৌক্তিক। এই আন্তর্জাতিক চক্রের মূল উৎপাটন করা না গেলে সীমান্ত সুরক্ষা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages