সাতক্ষীরায় মাদকবিরোধী সমাবেশ, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি

 


সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ “মাদককে না বলুন, খেলাধুলাকে হ্যাঁ বলুন”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কুখরালী এলাকায় মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এলাকায় মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবীর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং অল্পবয়সী কিশোর-তরুণদের মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষার দাবিতে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় কুখরালী এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।


দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে এলাকায় মাইকিং, সচেতনতামূলক র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয়দের অংশগ্রহণে মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে কয়েকটি সন্দেহভাজন মাদকসেবনের আস্তানা ও অভিযুক্ত মাদক কারবারিদের বাড়ির আশপাশে প্রতীকী গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালিত হয়।


বক্তব্য রাখেন, ৬নং ওর্য়াড বিএনপির সাবেক আহবায়ক শেখ আশরাফ হোসেন,৬নং ওর্য়াড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ হোসেন,যুবদলের নেতা সাইফুল ইসলাম, ৬নং ওর্য়াডের ওলামা বিভাগের সভাপতি রুস্তম আলী সহ আরো অনেকে।


সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনই নয়, একটি পরিবার, সমাজ এবং পুরো জাতির ভবিষ্যৎকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই মাদকের বিস্তার রোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে।


বক্তারা আরও বলেন, তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসারের কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মাদকের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।


আলোচনা সভায় বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সীমান্তবর্তী জেলায় মাদক পাচারের ঝুঁকি দীর্ঘদিনের একটি চ্যালেঞ্জ। তারা সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।


সমাবেশে উপস্থিত এলাকাবাসী মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং ভবিষ্যতেও মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন, জনসচেতনতা কার্যক্রম ও সম্মিলিত প্রতিরোধ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন।

সাতক্ষীরায় নানা আয়োজনে এনটিভির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত




সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: প্রতিষ্ঠার ২৩ বছরে এনটিভি নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে কখনো পিছপা হয়নি। সাহসী সাংবাদিকতা ও রুচিশীল বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দর্শক হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। 

শুক্রবার বিকালে দর্শকনন্দিত স্যাটালাইট চ্যানেল এনটিভির ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ২৪তম বছরে পদার্পণ উপলক্ষে সাতক্ষীর শহরের রয়েল প্লাস কনভেনশন হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে অতিথিরা এসব কথা বলেন। 

এসময় তারা এনটিভির উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনার পাশাপাশি রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহবান জানান। 

অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনুর রহমান, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুদ বিল্লাহ শাহীন, সিনিয়র সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মমতাজ আহমেদ বাপী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম কামরুজ্জামান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মাদ আলী সুজন, বর্তমান সহসভাপতি আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি আব্দুস সামাদ প্রমুখ। 

অনুষ্ঠানে মানবজমিনের জেলা প্রতিনিধি এসএম বিপ্লবের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এনটিভির জেলা প্রতিনিধি এসএম জিন্নাহ ও এনটিভি অনলাইনের প্রতিনিধি কেএম আনিছুর রহমান।

আলোচনা শেষে অতিথিবৃন্দ এনটিভির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন।  

এর আগে রয়েল প্লাস কনভেনশন হলের সামনে থেকে একটি র‌্যালি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

সাতক্ষীরায় প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ প্রকল্পে বাঁশ ও গোবর সারে প্রকাশ্য হরিলুট!



নিজস্ব প্রতিনিধি : জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। কিন্তু সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পটিতেই ভর করেছে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির ছায়া। ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে গাছের চারা, বাঁশের খুঁটি ও জৈব সার বিতরণের নামে চলছে প্রকাশ্য হরিলুট।

সরকারি পত্রে বরাদ্দের যে হিসাব দেখানো হয়েছে, বাস্তবতার সাথে তার কোনো মিল নেই। সাধারণ কৃষকদের মুখ বন্ধ রেখে কাগজে-কলমে সই নিয়ে লাখ লাখ টাকা পকেটে ভরার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চলতি অর্থ বছরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১ হাজার ২০০ জন কৃষককে এই প্রণোদনা সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিজন কৃষক পাঁচটি গাছের চারা, ৫টি বাঁশের খুঁটি এবং ১৫০ কেজি জৈব সার (গোবর) পাওয়ার কথা। সরকারি হিসাব অনুযায়ী ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে—প্রতি পিস গাছের চারা ১৬০ টাকা, প্রতি পিস বাঁশের খুঁটি ৫০ টাকা এবং প্রতি কেজি জৈব সার (গোবর) ৪ টাকা। এছাড়া পরিবহন ও আনুষঙ্গিক অপ্রত্যাশিত ব্যয়ও ধরা হয়েছে পৃথকভাবে।

কিন্তু গত সোমবার (২৯ জুন) সদর উপজেলায় চারা ও উপকরণ বিতরণকালে দেখা যায় এক ভিন্ন চিত্র। কৃষকদের ১৫০ কেজি গোবর সার দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৪০ কেজি। অথচ চতুর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের কাছ থেকে ১৫০ কেজি সার বুঝে পেয়েছেন মর্মে স্বাক্ষর বা টিপসই করিয়ে নিচ্ছেন।




মাঠে দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তন্ময় মন্ডলের কাছে এই গড়মিলের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। ধোঁয়াশাপূর্ণ কণ্ঠে তিনি কেবল বলেন, একটু সমস্যা আছে। স্যারদের সঙ্গে কথা বলেন।

প্রকল্পের বড় ধরনের জালিয়াতি ধরা পড়েছে গাছের চারা সোজা রাখার জন্য দেওয়া বাঁশের খুঁটিতে। সরকারি খাতায় প্রতি পিস খুঁটির মূল্য ধরা হয়েছে ৫০ টাকা। কিন্তু কৃষকদের সরবরাহ করা হয়েছে অত্যন্ত নিম্নমানের বাঁশের কঞ্চি বা খুঁটি, যার বাজারমূল্য কোনোভাবেই ১০ থেকে ২০ টাকার বেশি নয়।

বিষয়টি নিশ্চিত হতে স্থানীয় বাঁশ ব্যবসায়ী আশারুল ইসলামের দ্বারস্থ হলে তিনি খুঁটি পরীক্ষা করে জানান, এই খুঁটির মান খুবই খারাপ, স্থানীয় বাজারে এর মূল্য ১০ টাকার বেশি হতে পারে না।

এমনকি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. জামালউদ্দীনও খুঁটির নমুনা দেখে স্বীকার করেছেন, যে এগুলোর মান অত্যন্ত নিম্ন এবং এর প্রকৃত মূল্য ১০ টাকার বেশি নয়।

সার বিতরণের এই হরিলুট নিয়ে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ শুভ্র'র দাবি এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। ১৫০ কেজি গোবরের পরিবর্তে তাদের ৬০০ টাকা মূল্যের ৪০ কেজির ‘কোম্পানির সার’ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে খামারবাড়ির অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. জামালউদ্দীনের দাবি, ওই এক বস্তা সারের মূল্য ৪৮০ টাকা। সরকারি পত্রে যেখানে ৪ টাকা কেজি দরে ১৫০ কেজি গোবরের দাম ৬০০ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, সেখানে কর্মকর্তারা একেক সময় একেক দামের বস্তা সারের অজুহাত দিয়ে কৃষকদের ঠকাচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কৃষক প্রশ্ন তুলে বলেন, সরকারি পত্রে যেখানে স্পষ্ট ‘গোবর সার’ ও সুনির্দিষ্ট ওজনের কথা উল্লেখ আছে, সেখানে কর্মকর্তারা কার অনুমতিতে কোম্পানির বস্তা সার দিলেন এবং ওজনে ১১০ কেজি কম দিলেন?

ভুক্তভোগী কৃষকেরা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী পরিবেশবান্ধব এই উদ্যোগকে মাঠপর্যায়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা নিজেদের পকেট ভারী করার হাতিয়ারে পরিণত করেছেন।

হিসাব কষে দেখা গেছে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১ হাজার ২০০ কৃষকের বরাদ্দের কেবল বাঁশের খুঁটি এবং জৈব সারের অংশটি থেকেই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রায় ৩ লাখ ২৪ হাজার টাকা লুটপাট করেছেন। সমগ্র সাতক্ষীরা জেলায় এই প্রকল্পের আওতায় মোট ৪৮ হাজার ৬০০ জন কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যার মোট প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৭১ লাখ১৩ হাজার ৫০০ টাকা। সদর উপজেলার এই চিত্র যদি পুরো জেলার প্রতিফলক হয়, তবে সামগ্রিক লুটপাটের অঙ্ক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের এ ধরনের অনিয়ম, জালিয়াতি ও সরকারি অর্থ লুটপাটের অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সাতক্ষীরা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা সংগঠনটির সভাপতি মো. তৈয়েব হাসান সামছুজ্জামান বলেন, সরকারি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অভিযোগ ওঠা এসব বিষয় যথাযথভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানাচ্ছি।


কৃষি বিভাগের এই প্রকাশ্য অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাউসার আজিজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হবে এবং তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আশাশুনিতে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু

 


এস,এম মোস্তাফিজুর রহমান,আশাশুনি : 

আশাশুনিতে অসাবধানতাবশত ফ্যানের সুইচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে লতিকা সরকার (৪৫) নামের এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ১ টার দিকে উপজেলার শোভনালী ইউনিয়নের খলিসানি গ্রামে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত লতিকা সরকার ওই গ্রামের সুশান্ত সরকারের স্ত্রী।

​পরিবার সূত্রে জানা গেছে,দুপুরে ঘরের ফ্যানের সুইচ অন করতে যান লতিকা সরকার। এ সময় অসাবধানতাবশত তিনি বিদ্যুতায়িত হয়ে গুরুতর আহত হন। পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

​হাসপাতালে নিয়ে আসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অঞ্জন কুমার চক্রবর্তী তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

​বর্তমানে নিহতের মরদেহ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে রয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় ও নিহতের পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।



আশাশুনি সদর ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী তুষারের পক্ষে কর্মী সমাবেশ

 


এস.এম.মোস্তাফিজুর রহমান,আশাশুনি: 

আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আশাশুনি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আশাশুনি উপজেলা আমির আবু মুছা তারিকুজ্জামান তুষারের পক্ষে ১,২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে এক কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (০৩ জুলাই) আশাশুনি বাজারে অবস্থিত সদর ইউনিয়ন জামায়াত কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ আব্দুল্লাহ। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু মুছা তারিকুজ্জামান তুষার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন,জনগণের আস্থা ও সমর্থন নিয়ে একটি সেবামুখী,স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ইউনিয়ন গড়ে তুলতে তিনি কাজ করতে চান। এ লক্ষ্যে তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থেকে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার আহ্বান জানান।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সদর ইউনিয়ন জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি মাওলানা জুবায়ের হোসেন, সহ-সেক্রেটারি এস.এম.শহীদুজ্জামান বাবলু,ওয়ার্ড সভাপতি রবিউল ইসলাম ও আবুল হাসান,সদর ইউনিয়ন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আবুল কাশেম সানা,সেক্রেটারি হযরত আলী,শ্রমিক নেতা রুহুল আমিন,মুর্তাজুল হক,মোবারক আলী,মিজানুর রহমান তসলিমসহ ১,২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার, গণসংযোগ বৃদ্ধি এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।##


সাতক্ষীরায় মাদক ব্যবস্থা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ : তিনদিনের আল্টিমেটাম

 



সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : মাদক ব্যবসা বন্ধে সাতক্ষীরা পৌরসভার গড়েরকান্দার মাদক ব্যবসায়ী আনজুয়ারা ও ইটাগাছা পূর্বপাড়ার মাহফুজার মাদক ব্যবসা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 


তিনদিনের মধ্যে মাদক ব্যবস্থা বন্ধ করা না হলে বাড়ি ঘর ভেঙে উচ্ছেদ করে দেওয়ার হুশিয়ারি দেন এলাকাবাসী।


শুক্রবার বাস জুম্মাা গড়েরকান্দা - ইটাগাছা সম্মিলিত জামে মসজিদ কমিটির নেতৃত্বে এলাকাবাসী এ আল্টিমেটাম দেয়। 


এ সময়ে মাদক ব্যবসায়ী আনঞ্জুয়ার মাদক বন্ধসহ তিন দিনের মধ্যে এলাকা ছাড়ার ঘোষণা দেন। ইটাগাছা পূর্ব পাড়া এলাকার মাদক ব্যবসায়ী মাহফুজা খাতুন একই অঙ্গীকার করেন। বিক্ষোভ চলাকালে জামিরুল নামের এক মাদক সেবনকারী মাদক ক্রয় করতে আসলে তাকে উপস্থিত এলাকাবাসী উত্তম মাধ্যম দিয়ে এলাকা ছাড়া করে। 


এ সময় উপস্থিত ছিলেন মসজিদ কমিটির সভাপতি আশরাফ আলী,  সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালেব,মৎস্যজীবীদল নেতা রাজু, ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম, অহিদুজ্জ্ামান, জামায়াত নেতা আফসার আলী, মাহফিজুল ইসলাম , গড়েরকান্দা মৃত্যুফান্ডের সভাপতি বেলাল হোসেনসহ অন্যরা। 


পরে সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তারা বলেন, ইতিপূর্বে একাধিক বার তাদেরকে সতর্ক করা হলেও মাদক ব্যবসা বন্ধ করেনি। উল্টো মাদক ব্যবসার প্রসারতা বাড়িয়ে এলাকার পরিবেশ নষ্ট করে আসছিল। প্রশাসনের কাছে বার বার অভিযোগ দিলেও প্রশাসন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। ফলে এলাকায় চুরি ছিনতাইসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যে কারনে এলাকাবাসী মসজিদের কমিটির নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। মাদকের ব্যবসা বন্ধ করে এলাকা না ছাড়লে তাদের বাড়ি ঘর ভেঙে উচ্ছেদ করে দেওয়ার হুশিয়ারি দেন তারা। ##

সাতক্ষীরা সদর ও দেবহাটার অবকাঠামো ও শিক্ষা উন্নয়নে ২০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ

 


মোমিনুর রহমান:সাতক্ষীরা সদর ও দেবহাটা উপজেলার অবকাঠামো ও শিক্ষা খাতের উন্নয়নে সরকার ২০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ অনুমোদন দিয়েছে। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ বরাদ্দের অনুমোদন প্রদান করেছে।


জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মো. আব্দুর রউফ জানান, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের লক্ষ্যে তাঁর ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলেই এসব উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন লাভ করেছে।


বরাদ্দকৃত অর্থের আওতায় প্রথম পর্যায়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আলিপুর ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের চলাচলের অনুপযোগী ৬টি সড়ক নতুন করে নির্মাণ করা হবে। এছাড়া বাঁশদহা ইউনিয়নে ১টি, বল্লী ইউনিয়নে ১টি, ভোমরা ইউনিয়নে ২টি এবং বৈকারী ইউনিয়নে ১টি নতুন সড়ক নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে আলিপুর ইউনিয়নের আরও ৫টি সড়কের সংস্কার কাজও সম্পন্ন করা হবে।


দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নে ৩টি এবং পারুলিয়া ইউনিয়নে ১টি নতুন সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।


শিক্ষা খাতেও নেওয়া হয়েছে ব্যাপক উন্নয়ন উদ্যোগ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণ এবং আরও ১০টি প্রতিষ্ঠানের ভবন ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি সাতক্ষীরা সদর ও দেবহাটা উপজেলার ১৭টি স্কুল ও কলেজ ভবনের সংস্কার করা হবে।


কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণ, ১০টি প্রতিষ্ঠানের ভবন ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ এবং ১৫টি বেসরকারি ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন সংস্কার করা হবে।


এছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের “সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন” প্রকল্পের আওতায় সাতক্ষীরা সদর ও দেবহাটা উপজেলার ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণ ও সম্প্রসারণের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। জরাজীর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেরামত ও সংস্কার করা হবে। পাশাপাশি অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে আরও ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণ ও সম্প্রসারণ এবং ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেরামত ও সংস্কার কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


আলহাজ্ব মো. আব্দুর রউফ বলেন, পর্যায়ক্রমে তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাতক্ষীরা সদর ও দেবহাটার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তিনি কাজ করে যাবেন।