প্রেস বিজ্ঞপ্তি : সাতক্ষীরা/কলারোয়া সীমান্তে মাদক/চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ০৩ জন আসামীসহ প্রায় এক কোটি টাকার মাদক/চোরাচালান মালামাল জব্দ করেছে বিজিবি।
২৫ ও ২৬ জুন ২০২৬ তারিখ সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) এর অধীনস্থ ভোমরা, হিজলদী, মাদরা, চান্দুরিয়া, বৈকারী ও কাকডাঙ্গা বিওপির টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় উইনসিরাক্স সিরাপ, ইয়াবা, বিয়ার, বিভিন্ন ব্যান্ডের মোবাইল ফোন, চিংড়ি মাছের রেণু পোনা, ঔষধ, মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ ও বাংলাদেশী কাভার্ড ভ্যান আটক করে।

গত ২৫ জুন ২০২৬ তারিখ ভোমরা বিওপির দায়িত্বাধীন ভোমরা আইসিপিতে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যগণ মেইন পিলার ৩ হতে আনুমানিক ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিজিবি চেকপোষ্টে বিশেষ তল্লাশী অভিযান পরিচালনা করে ০২ জন আসামীসহ ভারতীয় চিংড়ি মাছের রেনুপোনা, বিয়ার এবং ০১টি বাংলাদেশী কাভার্ড ভ্যান আটক করে। এ সময়ে আভিযানিকদল অবৈধভাবে ভারতীয় চিংড়ি মাছের রেনুপোনা ও বিয়ার চোরাচালানের দায়ে ট্রাকের চালক রাসেল আহমেদ (২৫), পিতা-মোঃ মামুনুর রশিদ, গ্রাম-আমরাখালি, ডাকঘর-বেনাপোল, উপজেলা-শার্শা, জেলা-যশোর এবং সহকারী চালক আঃ গফুর (৪০), পিতা-মৃত ছৈলুদ্দিন, গ্রাম-পদ্মশাখরা, ডাকঘর-শাখরা কোমড়পুর, উপজেলা-সাতক্ষীরা সদর, জেলা-সাতক্ষীরাকে ট্রাকসহ আটক করে। আটককৃত চিংড়ি মাছের রেনুপোনা, বিয়ার ও কাভার্ড ভ্যানের আনুমানিক মূল্য ৭৭,৬৫,২৫০/- (সাতাত্তর লক্ষ পঁয়ষট্টি হাজার দুইশত পঞ্চাশ) টাকা। উক্ত বিওপির পৃথক আভিযানিক দল মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মোঃ লাভলু হোসেন (২৮), পিতা-মোঃ শফিকুল ইসলাম, গ্রাম-পদ্মশাখরা, ডাকঘর-শাখরা কোমরপুর, থানা-সাতক্ষীরা সদর, জেলা-সাতক্ষীরাকে তল্লাশীকালে তার নিকট ১৩ পিস ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়ায় তাকে আটক করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ৩,৯০০/- টাকা। এছাড়াও, অপর একটি আভিযানিক দল মেইন পিলার-৩ হতে আনুমানিক ৪০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ফলমোড় নামক স্থানে চোরাচালানী বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৫,৩৫,০০০/- টাকার মূল্যের ভারতীয় বিভিন্ন ব্রান্ডের ২০টি (ভিভো-০৭টি, ওয়ানপ্লাস-০১টি, রিয়েলমি-০২টি, স্যামসাং-০১টি, অপ্পো-০৪টি, শাওমি রেডমি-০১টি, পেকো-০২টি, মটোরোলা-০১টি এবং নাথিং-০১টি) মোবাইল ফোন আটক করে।

হিজলদী বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল সীমান্ত পিলার ১৩/৩-এস এর ১৪ আরবি হতে আনুমানিক ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কলারোয়া থানাধীন বড়ালী নামক স্থান হতে ৬০,৬০০/-টাকা মূল্যের ভারতীয় ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে। মাদরা বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল সীমান্ত পিলার ১৩/৩-এস এর ১১ আরবি হতে আনুমানিক ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কলারোয়া থানাধীন শ্মশান ঘাট নামক স্থান হতে ১,০৫,০০০/-টাকা মূল্যের ভারতীয় ঔষধ আটক করে। চান্দুরিয়া বিওপির পৃথক দুইটি বিশেষ আভিযানিক দল সীমান্ত পিলার ১৭/৭-এস এর ৬ ও ১৮ আরবি হতে আনুমানিক ১০০ ও ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কলারোয়া থানাধীন কাঁদপুর ও চাঁন্দুরিয়া নামক স্থান হতে ৪,৯২,০০০/-টাকা মূল্যের ৩০ বোতল ভারতীয় উইং কোরেক্স সিরাপ ও মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে। বৈকারী বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল সীমান্ত পিলার ৭/২৮-এস হতে আনুমানিক ১৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সাতক্ষীরা সদর থানাধীন চৌধুরী পাড়া নামক স্থান হতে ২,৫৫,৮০০/-টাকা মূল্যের ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ ও ঔষধ আটক করে।
এছাড়াও, কাকডাঙ্গা বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল সীমান্ত পিলার ১৩/৩ এস এর ৩ আরবি হতে আনুমানিক ২৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কলারোয়া থানাধীন কেরাগাছি নামক স্থান হতে ২,১০,০০০/-টাকা মূল্যের ভারতীয় ঔষধ আটক করে।
আভিযানিক দল সর্বমোট= ৯৪,২৭,৫৫০/- (চুরানব্বই লক্ষ সাতাশ হাজার পাঁচশত পঞ্চাশ) টাকা মূল্যের মাদক/চোরাচালানী মালামাল আটক করে।
চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।
Labels: আইন শৃঙ্খলা, সাতক্ষীরা সারাদেশ