সাতক্ষীরায় জুতা শিল্পের নতুন সম্ভাবনা তরুণ উদ্যোক্তা হাফিজুরের উদ্যোগে বেড়েছে কর্মসংস্থান - Dainik Shomoy Barta

Breaking

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Saturday, March 7, 2026

সাতক্ষীরায় জুতা শিল্পের নতুন সম্ভাবনা তরুণ উদ্যোক্তা হাফিজুরের উদ্যোগে বেড়েছে কর্মসংস্থান

 


 সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :

লোকসানের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে নতুন উদ্যোমে পথচলা শুরু করেছিলেন সাতক্ষীরার এক তরুণ উদ্যোক্তা। আজ তিনি নিজস্ব জুতা কারখানা প্রতিষ্ঠা করে ২০ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন।্ শুধু ২০ জনের কর্মসংস্থান নয়, সেখানে কাজ করা ২০ জনের উপরেই নির্ভও করে তাদের ২০ পরিবার। ভবিষ্যতে এক হাজার মানুষের কাজের সুযোগ তৈরির স্বপ্ন দেখছেন তিনি। তার এই উদ্যোগকে মহতী উদ্যোগ হিসেবেই দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল। নতুন এই উদ্যোক্তা “রাকিব সুজ ফ্যাক্টরি”-র স্বত্বাধিকারী সাতক্ষীরা শহরের পুরাতন সাতক্ষীরা আলিয়া মাদ্রাসা এলাকার বাসিন্দা এরশাদ আলীর ছেলে মোঃ হাফিজুর রহমান (৪০)।

তিনি জানান, যৌথভাবে পরিচালিত একটি ব্যবসায় লোকসানের মুখে পড়ার পরই নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে জুতা তৈরির কারখানা প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেন।

হাফিজুর রহমান বলেন, “শুরুতে স্বল্প প্রশিক্ষণ নিয়ে একটি ম্যানুয়াল মেশিন দিয়ে সীমিত পরিসরে উৎপাদন শুরু করি। ধীরে ধীরে বাজারে চাহিদা বাড়তে থাকে। বর্তমানে ডিজিটাল ফটো কাটিং মেশিন স্থাপন করেছি। এখন প্রতিদিন প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জোড়া জুতা উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি শিক্ষিত যুবক হয়েও কখনো চাকরির পেছনে ছুটিনি। শুরু থেকেই ব্যবসায় মনোযোগ দিয়েছি। সাহস, অধ্যবসায় ও সঠিক পরিকল্পনা থাকলে সফল হওয়া সম্ভব।”

কারখানায় কর্মরত নারী শ্রমিক মোসাম্মৎ সেলিনা খাতুন, মমতাজ পারভীন, হেলেনা পারভিন, বিলকিস পারভীন ও মাশকুরা পারভিন জানান, স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ায় তারা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পেরেছেন এবং পরিবারে অবদান রাখতে পারছেন।

কারখানার ম্যানেজার সোহাগ হোসেন বলেন,বর্তমানে আমাদের এই জুতার কারখানায়  নারী-পুরুষ ও বাচ্চাদের সব মিলে ২০ থেকে ২৫ টি আইটেমের জুতা উৎপাদন হয় “ এখানে উৎপাদিত জুতার মান ও ডিজাইন ভালো হওয়ায় বাজারে চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে।”

পণ্য সরবরাহকারী গফফার হোসেন জানান, জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত জুতা সরবরাহ করা হচ্ছে।

এলাকাবাসী খোকন সরদার বলেন, “স্থানীয় একজন তরুণ উদ্যোক্তার এমন উদ্যোগ আমাদের জন্য গর্বের। এতে অনেক পরিবারের জীবিকা নিশ্চিত হয়েছে।”

খুচরা ক্রেতা মনিরুজ্জামান বলেন, “এখানকার জুতাগুলো মানসম্মত ও দাম সাশ্রয়ী। তাই আমরা স্থানীয় পণ্য কিনতেই আগ্রহী।”

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে হাফিজুর রহমান বলেন, “আমার লক্ষ্য সাতক্ষীরায় এক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করা। সরকারি-বেসরকারি দাতা সংস্থার সহযোগিতা পেলে উৎপাদন সক্ষমতা ও বাজার সম্প্রসারণ আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।”

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয়ের উপ-ব্যবস্থাপক গৌরব দাস বলেন, জেলায় ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্প খাতে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়ছে। আলিয়া মাদ্রাসা এলাকার উদ্যোক্তা হাফিজুর রহমান নিজস্ব কারখানায় বিভিন্ন ধরনের জুতা উৎপাদন করে ইতোমধ্যে সুনাম অর্জন করেছেন।

তিনি বলেন, “তার উৎপাদিত জুতাগুলো আকর্ষণীয়, সাশ্রয়ী ও মানসম্মত হওয়ায় স্থানীয় বাজারে ভালো অবস্থান তৈরি হয়েছে। আর্থিক বা কারিগরি সহায়তার প্রয়োজন হলে বিসিক সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।”

সচেতন মহলের মতে, যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা পেলে সাতক্ষীরায় ক্ষুদ্র জুতা শিল্প আরও বিকশিত হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages