সাতক্ষীরার বৈচনায় দুই সন্তানের জননীর মৃত্যু, হত্যা কি আত্মহত্যা এ নিয়ে নানান গুঞ্জন! - Dainik Shomoy Barta

Breaking

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Monday, June 8, 2026

সাতক্ষীরার বৈচনায় দুই সন্তানের জননীর মৃত্যু, হত্যা কি আত্মহত্যা এ নিয়ে নানান গুঞ্জন!

 


 মোমিনুর রহমান:সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়নের বৈচনা গ্রামে নিপা খাতুন রুনা (৩২) নামে দুই সন্তানের জননীর হত্যা কি?  আত্মহত্যা এ নিয়ে এলাকা জুড়ে নানা গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে । মৃত্যু পরিবারের অভিযোগ স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্বেও অন্য মেয়ের সাথে পরকীয়া জনিত কারণে তার স্ত্রীকে মারপিট করে হত্যা করার পর গালে বিষ দিয়ে আত্মহত্যার বলে চালিয়ে দেওয়ার পায়তারা করছে৷ প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার ৭জুন রাত আনু: ৯/১০টার দিকে এবং দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটেছে  সোমবার ৮ জুন ২০২৬  ভোরের দিকে।  নিহত নিপা খাতুন রুনা ভোমরা ইউনিয়নের চৌবাড়িয়া গ্রামের আওরঙ্গজেব এর কন্যা এবং বৈচনা গ্রামের মৃত বাবর আলীর ছেলে মুজাফফর হোসেনের স্ত্রী । জানা যায়, প্রায় ১৪ বছর আগে তাদের বিয়ে হয় । তাদের সংসারে ইমরান হোসেন(১২) ও ইব্রাহিম হোসেন(৮) নামের দুইটি ছেলে সন্তান হয়েছে। 

মৃত্যু নিপা খাতুন এর বাবা জানান, আমার জামাই মোজাফফর হোসেন এর সহিত তার মামাতো বোন এর পরকীয়া সম্পর্কের কারণে আমার মেয়েকে প্রায় মারপিট করত। সেই সুবাদে ৭ জুন রবিবার রাত ৯-১০ টার দিকে  স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বাক বিতন্ডা দেখা দেয়। এবং গত সোমবার ৮ জুন সকালে আমার মেয়েকে মেরে তার গালের মধ্যে বিষ ঢেলে দিয়ে আমাদের না জানিয়ে শ্রীরামপুরে এক ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। পরে অবস্থা খারাপ দেখে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানকার কর্তব্যরত ডাক্তাররা আমার মেয়েকে মৃত্যু ঘোষণা করেন । মৃত্যু নিপা খাতুন এর স্বামী   মোজাফফর হোসেন বলেন, আমি সেনাবাহিনীতে চাকুরী করি। আমি গত শনিবার ছুটিতে বাড়িতে এসেছি, সরকারি ভাবে  আমার বিদেশ কুয়েত মিশনে যাওয়ার কথা কিন্তু আমার স্ত্রী আমাকে বিদেশ যেতে দিবে না । এ নিয়ে তার সাথে আমার কথা-কাটাকাটি হয়। আমি রাত্রে ভাত না খেয়ে শুয়ে পড়ি । সকালেও আমার স্ত্রী আমাকে ভাত খেতে বলে কিন্তু আমি ভাত না খাওয়ায় আমার সাথে অভিমান করে সকালে ভোরে কোন এক সময় আমার স্ত্রী বিষপান করে আমার পার্শ্বে শুইয়া পড়ে। পরে সে বমি করে এবং তখন সে নিজে আমাকে বলে আমি বিষ খেয়েছি । তার পরপরই আমি প্রথমে তাকে শ্রীরামপুর এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায় এবং পরে সেখান থেকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তার মৃত্যু বরণ করে। তিনি আরোও বলেন,  আমি কোন মেয়ের সাথে পরকীয়া ও কোন  বিবাহ করি নাই। এবং কোন প্রকার শারিরিক নির্যাতন মারধর ও করি নাই । ঘটনা খবর পেয়ে সাতক্ষীরা থানা পুলিশ এসআই  মিনহাজ ঘটনাস্থল সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে যেয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং পরে মহিলা পুলিশ পান্নার দ্বারা লাশের শরীরে কোন মারির দাগ আছে কিনা পর্যবেক্ষণ করে লিখিত রিপোর্ট লিপিবদ্ধ করেন।  পরে ময়না তদন্তের জন্য লাশ মর্গে  পাঠানো হয়।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে এবং সঠিক তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages