শেখ রেজাউল ইসলাম :
সারাদেশে যখন মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে, ঠিক তখনই সাতক্ষীরায় প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় কয়েকজন ‘ভুঁইফোড়’ সাংবাদিকের প্রকাশ্য শেল্টারে মাদক ও স্বর্ণ চোরাচালানের একচ্ছত্র সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে এক শীর্ষ কারবারি। তার নাম ইসরাফিল। তিনি সাতক্ষীরা জেলার মাহমুদপুর গোয়াল পাড়ার আবু হাসানের ছেলে। বিজিবি ও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন সীমান্ত গলে ঢুকছে লাখ লাখ টাকার মাদক ও অবৈধ মালামাল। আর এই সিন্ডিকেটকে গণমাধ্যমের ভুয়া পরিচয় দিয়ে আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা দিচ্ছে নামধারী কিছু সাংবাদিক।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ইসরাফিলের মাদকের নেটওয়ার্ক শুধু সাতক্ষীরাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। ভারত থেকে চোরাই পথে গাঁজা, ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডল, কোরেক্স, ফেনসিডিল এবং দেশি-বিদেশি মদসহ বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় নিষিদ্ধ ওষুধ অবৈধভাবে দেশে এনে সরবরাহ করছে এই চক্র। শুধু মাদকই নয়, ইসরাফিল সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে মারাত্মক স্বর্ণ চোরাচালান ব্যবসার সাথেও।
এই বিশাল অবৈধ সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে তার অধীনে কাজ করছে অন্তত ২৫ জনের একটি সশস্ত্র সহযোগী বাহিনী, যাদের দৈনিক ১,২০০ থেকে ১,৫০০ টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। এই বাহিনীর প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করছে কুখ্যাত অস্ত্র ব্যবসায়ী আসাদুল।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ইসরাফিলের এই অবৈধ ব্যবসার অন্যতম প্রধান রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছে স্থানীয় কয়েকজন ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা ভুঁইফোড় অনিবন্ধিত অনলাইন সাংবাদিক। এই অপসাংবাদিকরা নিয়মিত ইসরাফিলের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের মাসোহারা বা কালো টাকার ভাগ পায় এবং নিয়মিত মাদক সেবন করে। বিনিময়ে ইসরাফিলের মাদক ব্যবসা নির্বিঘ্ন করতে তারা প্রশাসনের কাছে তদবির করে এবং কোনো সৎ সাংবাদিক বা এলাকাবাসী এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে তাকে মিথ্যা সংবাদের ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ করে দেয়। মূলত এই ভুঁইফোড় সাংবাদিকদের অদৃশ্য শক্তির দাপটেই ইসরাফিল দিনের পর দিন ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।
মাদক ও চোরাচালানের কালো টাকায় ইসরাফিল গড়ে তুলেছে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের পাহাড়। বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ির পাশাপাশি নামে-বেনামে কিনেছে বিঘার পর বিঘা জমি।
তার দৃশ্যমান কিছু সম্পদের বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
নবাতকাটি এলাকায় ১০ বিঘার ওপর নিজস্ব মৎস্য ঘের, আলিপুর ডাকাত পোতা ব্রিজের পাশে ১৪ বিঘা, শ্বশুরবাড়ি বকচরা এলাকায় বেনামি ২৫ বিঘা জমি ও ১টি মুরগির খামার, বাইপাস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশে ১০ কাঠা (বর্তমান বাজার মূল্য ৯০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা) |
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইসরাফিলের নামে সাতক্ষীরা সদর থানায় একাধিক মাদকের মামলা রয়েছে। সম্প্রতি একটি মানব পাচার মামলায় সাতক্ষীরা জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর সে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এবং ওই ভুঁইফোড় সাংবাদিকদের অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করেই সে তার এই অবৈধ ব্যবসা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে।
তার এই বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী এবং পেছনে থাকা তথাকথিত সাংবাদিকদের ব্ল্যাকমেইলের ভয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পায় না। কেউ প্রতিবাদ করলে নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার হুমকি।
সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরাকে মাদকমুক্ত এবং যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এই শীর্ষ মাদক ও স্বর্ণ চোরাচালানি ইসরাফিল, তার সহযোগী অস্ত্র ব্যবসায়ী আসাদুল এবং তাকে মদদদাতা ভুঁইফোড় সাংবাদিকদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সাতক্ষীরাবাসী। একই সাথে তার এই অবৈধ আয়ের উৎস অনুসন্ধান করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
অনুসন্ধানী পর্ব 2

No comments:
Post a Comment