কালভার্ট বন্ধ করে স্থাপনা! পানিবন্দি এতিমখানা, দুর্ভোগে অর্ধশত পরিবার - Dainik Shomoy Barta

Breaking

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Wednesday, July 8, 2026

কালভার্ট বন্ধ করে স্থাপনা! পানিবন্দি এতিমখানা, দুর্ভোগে অর্ধশত পরিবার

 

 


সোহারাফ হোসেন সৌরভ সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার ফিংড়ী এলাকায় একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার একমাত্র পানি নিষ্কাশনের সরকারি কালভার্ট দখল করে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা ভোলা সাধুর ছেলে মানিক সাধুর বিরুদ্ধে। অভিযোগে বর্ষা মৌসুমে মাদ্রাসা, এতিমখানা এবং আশপাশের প্রায় ৫০টি পরিবার চরম জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।


স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি কালভার্টটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারছে না। ফলে পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার এতিম শিশুরা। তাদের থাকার কক্ষ, পাঠদান ও পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের স্থান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।


মাদ্রাসার এক শিক্ষক  জানান, রাতে থাকার জন্য শিশুরা মাটি দিয়ে অস্থায়ীভাবে পানি আটকে রাখে। এরপর মগ দিয়ে পানি সেচে কোনোভাবে থাকার ব্যবস্থা করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে এমন দুর্ভোগের মধ্যেই দিন কাটছে তাদের।


স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি কালভার্ট দখলের প্রতিবাদ করায় মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুর ছবুর (কচি)-কে জমিজমা-সংক্রান্ত একটি মামলায় (সি.আর-১৬৮৩/২৫, সাতক্ষীরা) জড়ানো হয়েছে। তাদের দাবি, বর্তমানে তিনি কারাগারে থাকায় এতিম শিশুদের দেখভাল ও মাদ্রাসার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আরও জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।


স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন রোকন বলেন, এখানে প্রায় ৫০টি পরিবার, একটি মসজিদ, হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা রয়েছে। আগে ভারী বৃষ্টিতে পুরো এলাকা তলিয়ে যেত। স্থানীয়দের দাবির পর সরকার এখানে একটি কালভার্ট নির্মাণ করে। কিন্তু এখন সেই সরকারি কালভার্টটি ব্যক্তিস্বার্থে বন্ধ করে দেওয়ায় আবারও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।


তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পান। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। দ্রুত কালভার্টটি দখলমুক্ত করে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক ব্যবস্থা নিশ্চিত এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এস. এম. মহাসিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন।


ঘটনাস্থলে  সাংবাদিকরা যাওয়ার পর অভিযুক্ত মানিক সাধুর বাবা  ভোলা সাধু বলেন, হঠাৎ ভারী বৃষ্টির কারণে পানি জমে আছে। আপনারা যান, আমি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।


তবে সরকারি কালভার্ট দখলের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেননি।

স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সরকারি কালভার্টটি দখলমুক্ত করে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages