স্টাফ রিপোর্টার : সাতক্ষীরা সদর উপজেলার খানপুর বাজারে ভ্রাম্যমাণ এক পান ব্যবসায়ীকে মারধর এবং ১০ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুর প্রায় ১২টার দিকে বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত গ্রাম্য সালিশে অভিযুক্ত পান ব্যবসায়ী আদর আলী নিজের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ভুক্তভোগীর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পাটকেলঘাটা এলাকার কুমিরা গ্রামের রারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা আক্তারুল ইসলাম প্রতিদিনের মতো খানপুর বাজারে ভ্রাম্যমাণভাবে পান বিক্রি করতে যান। এ সময় বাজারের পান ব্যবসায়ী আদর আলীর সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আদর আলী তাকে প্রকাশ্যে বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন আক্তারুল ইসলাম।
ভুক্তভোগী আক্তারুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “আদর আলী আমার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। আমি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি আমাকে খানপুর বাজারে পান বিক্রি করতে নিষেধ করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন। পরে প্রকাশ্যে আমাকে মারধর করেন। অথচ তার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল না। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
ঘটনার সময় উপস্থিত বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী ও দোকানদার জানান, আক্তারুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে খানপুর বাজারে ভ্রাম্যমাণভাবে পান বিক্রি করে আসছেন। তিনি তুলনামূলক কম দামে পান বিক্রি করায় বিষয়টি নিয়ে কিছু ব্যবসায়ীর মধ্যে অসন্তোষ ছিল বলে তারা জানান।
এ ঘটনায় বাজারজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে বিষয়টি বাজার কমিটিকে অবহিত করা হয়। পরে বাজার কমিটির উদ্যোগে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে একটি গ্রাম্য সালিশ অনুষ্ঠিত হয়।
সালিশে অভিযুক্ত আদর আলী নিজের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সবার সামনে ভুক্তভোগী আক্তারুল ইসলামের হাত ধরে ক্ষমা চান। উপস্থিত ব্যক্তিরা ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি না করার আহ্বান জানান এবং বাজারে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বাজারে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের বিরোধ আইন ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

No comments:
Post a Comment