কিছুতেই থামছে না নিলজ্জ ঘুষের মহারাণী শর্মিষ্টার ঘুষ বাণিজ্য : অতিষ্ঠ ফিংড়ীবাসী - Dainik Shomoy Barta

Breaking

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Monday, August 10, 2026

কিছুতেই থামছে না নিলজ্জ ঘুষের মহারাণী শর্মিষ্টার ঘুষ বাণিজ্য : অতিষ্ঠ ফিংড়ীবাসী

 




* ঘুষের কারণে সদর থেকে বদলি।

* রয়েছে নামজারি দালাল সিন্ডিকেট। 

* উদ্ধর্তন কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার।

* গভীর পরোকীয়া প্রেমে আসক্ত।


নিজস্ব প্রতিবেদক : 

কথায় আছে ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভাঙ্গে  আর কয়লা ধুইলে ময়লা যায় না প্রবাদটার সত্যতা মিলেছে সাতক্ষীরার শীর্ষ দুর্নীতিবাজ ভূমি কর্মকর্তা শর্মিঁষ্ঠার ক্ষেত্রে। 

সাতক্ষীরা জেলার বহুল আলোচিত শীর্ষ দুর্নীতিবাজ নায়েব শর্মিঁষ্ঠার সরকারের ঘুষ বাণিজ্য কোন ভাবে থামছে না। ঘুষের টাকার লোভ সামলাতে না পেরে বার-বার ঘুষ কেলেঙ্কারিতে ফেঁসেছে। শর্মিঁষ্ঠা সরকার খুবই চতুরমূখী মাক্সের আড়ালে রয়েছে ভয়ংকর ঘুষের চেহারা। ঘুষ কেলেঙ্কারির কারণে বিভিন্ন গণমাধ্যমে শর্মিঁষ্ঠার প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠলে তড়িঘড়ি করে তাকে ফিংড়ী বদলি করা হয়। ফিংড়ী গিয়েও তার ঘুষ বাণিজ্য থেমে নেই৷ ফিংড়ী অফিস শুরুর দিনে অফিস সহকারী আর নামজারি দালাল চক্র দিয়ে নতুনভাবে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। দফারফা হয় ঘুষের টাকার হিসাব নিকাশ। সেখানে চুক্তি হয় প্রতিটা নামজারির জন্য শর্মিষ্ঠাকে দিতে হবে ২ হাজার টাকা। ২ হাজার টাকার কম হলে ফাইল সার্ভারে আপডেট হবে না নামজারি হবে না । নামজারি দালাল চক্রের দাবি পূর্বে নায়েবদের ১ হাজার পেত কিন্তু ২ হাজার হলে আমাদের বেশি হয়। কিন্তু শর্মিষ্ঠা সরকার রাগান্বিত হয়ে বলেন ২ হাজারের চারপয়সা ও কম হবে না। এক পর্যায়ে দালাল চক্র শর্মিষ্ঠার প্রস্তাব মেনে নেয়। 


সরজমিনে অনুসন্ধানে  সাতক্ষীরা সদর ভূমি অফিসে গিয়ে জানা গেছে, নামজারি জন্য ৬ হাজার রির্পোট প্রদানে ২ হাজার  খাজনা দাখিলা ১ হাজার ,  ইজারায়সহ ঝামেলাপূর্ণ জমিতে লাখ টাকা বাগিয়ে নেন। সকল ফাইলে সেবগ্রহীতাদের টেবিলে টেবিলে দিতে হয় সরকার নির্ধারিত মূল্যর বাইরে ঘুষের টাকা।

সাতক্ষীরা সদর ভূমি অফিসে থাকাকালীন নিজে গড়ে তুলেছিল নামজারি দালাল সিন্ডিকেট। সে এসিল্যান্ডের সাথে গভীর সখ্যতা গড়ে তুলেছিল।  এসিল্যান্ড বদরুদ্দোজা নিজেই দুর্নীতির একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। যার নেতৃত্ব দেন স্বয়ং নিজেই এসিল্যান্ড। তার এই সিন্ডিকেটের প্রধান সেনাপ্রতি হিসাবে কাজ করেন  সদর ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নায়েব শর্মিঁষ্ঠা সরকার। তিনিই মূলত এই দুর্নীতি চক্রের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। প্রথমে কোন সেবাগ্রহীতা আসলেই এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা তাকে ঘিরে ধরেন এরপর সেই সেবগ্রহীতাকে নিয়ে যা-ওয়া হয় নায়েব শর্মিঁষ্ঠার কাছে। প্রথমে বিভিন ঝামেলাপূর্ণ খোড়া যুক্তি দেখিয়ে ফাইল ঘুরাতে থাকেন। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে ঘুষের টাকার চুক্তিবদ্ধ হতে হয় নায়েব শর্মিষ্ঠার সাথে। তারপর সেবগ্রহীতার কাছে নির্দিষ্ট দেন দরবার শুরু করেন। শর্মিঁসষ্ঠার চাহিদা মোতাবেক টাকা পেলে ফাইলের কার্যক্রম শুরু করেন শর্মিঁষ্ঠা নিজেই এসিল্যান্ডের কাছে। নায়েব সুন্দরী  শর্মিঁষ্ঠার গ্রীন সিগ্রনাল মিললেই এসিল্যান্ড ফাইলের কার্যক্রম শুরু করেন। এসকল তথ্য অনুসন্ধানে এমন সব দুর্নীতির  ঘটনা ভুক্তভোগীদের  নিকট থেকে বেরিয়ে এসেছে। 


তাছাড়া এসিল্যান্ড বদরুদ্দোজার সাথে নায়েব শর্মিঁষ্ঠার ঘনিষ্ঠতা রয়েছে যার কারণে নায়েব শর্মিঁষ্ঠা এসিল্যান্ডের রুমে গাড়িতে সার্বক্ষনিক দেখা যেত। শুধু এসিল্যান্ডের সাথে ঘনিষ্ঠায় ক্ষান্ত নন নায়েব শর্মিষ্টা পরোকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন এক সাংবাদিকের সাথে। সেই সাংবাদিক ও শর্মিঁষ্ঠার  অবাধ মেলামেশার কলরের্কড অন্তরঙ্গ মুহুর্ত সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে ছড়িয়ে পড়ে। প্রেমের ফাঁদে ফেলে নায়েব শর্মিঁষ্ঠা ওই সাংবাদিক থেকে হাতিয়ে নিয়েছে দামী দামী গিফট সহ নগদ অর্থ। তাদের প্রেমের ঘটনা হইচই পুড়ে যায় জেলাজুড়ে আলোচনা সমালোচনা জন্ম নেয়।


ভুক্তভোগী ফিংড়ীর মনিরুল ইসলাম মাসুম বলেন, নায়েব শর্মিষ্ঠার সরকার ১৪৫ ধারা একটা রিপোর্ট জন্য ২ হাজার টাকা নিয়েছে। কিন্তু রিপোর্ট প্রদান না করে তালবাহানা করে ঘুরাতে থাকে। সে বর্তমান সময়ে আলোচিত জেলার শীর্ষ দুর্নীতিবাজ। দুর্নীতির দায়ে বদলি হলেও লজ্জা নেই ফিংড়ীতে এসেও একই কান্ড চালাচ্ছে। ঘুষের টাকা নিচ্ছে কিন্তু কাজ না করে ঘুরাচ্ছে। 


অপরভুক্তভোগী জাফর জানান, আগরদাড়ি ইউনিয়নের কাশেমপুর মৌজায় আমাদের একটা জমি নিয়ে ঝামেলা চলে। নায়েব শর্মিষ্ঠা তখন আগড়দাড়ি ভূমি অফিসে কর্মরত। আমি ভূমি অফিসে নায়েব শর্মিঁষ্ঠার কাছে গেলে তিনি ৩ হাজার টাকা দাবি করে। আমি ৩ হাজার টাকা দিলে সে টাকা নিয়েও আমার বিপক্ষে রিপোর্ট দেয় প্রতিপক্ষের থেকে বেশি টাকা নিয়ে। সে মাক্সের আড়ালে নিরীহ মানুষের থেকে ডাকাতি কর নেয় ঘুষের টাকা।



আরেক ভুক্তভোগী ফিংড়ীর আলামিন হোসেন বলেন, ৫-৬ দিন আগে  ফিংড়ী ভূমি অফিসে নামজারির জন্য আমি আর আমার মা যায়। সেখানে গেলে এক দালাল আমার কাছে ৭ হাজার টাকা চায় সবকিছু সম্পূর্ণ করে দেবে। আমি দালালের কথা পাত্তা না দিয়ে নায়েব শর্মিষ্ঠার কাছে গেলে তিনিই একই কথা বলেন। নায়েআ শর্মিষ্ঠা বলেন অফিসের খরচ খরচা দিন আপনার নামজারি হয়ে যাবে। পরে সেই দালালের কাছে যেতে বলে বাধ্য হয়ে সেই দালালের কাছে যাই। চুক্তি মোতাবেক ৭ হাজার টাকা দেয়। এই মহিলা এসেছে ফিংড়ীর নিরহী মানুষের রক্ত চুষে খেতে।


অভিযুক্ত দুর্নীতিবাজ নায়েব শর্মিঁষ্ঠা সরকারকে একাধিকবার ফোন দিলে তার ব্যবহৃত দুটি নাম্বার বন্ধ থাকলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages