সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করা সিভিল সার্জন আব্দুস সালামকে ঘিরে নানা অভিযোগ ও প্রশ্ন সামনে এসেছে। দায়িত্ব পালনের ধরন, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড, অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আচরণ এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের অভ্যন্তরে ও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে শুরু হয়েছে ধারাবাহিক অনুসন্ধান।
অভিযোগকারীদের দাবি, একজন সিভিল সার্জন জেলার স্বাস্থ্য প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকেন। জেলার সরকারি হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে তাঁর দায়িত্ব সরাসরি সম্পৃক্ত। ফলে ওই পদে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত সংবাদ ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অফিসে উপস্থিতি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আচরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ সামনে এসেছে। কোনো কোনো অভিযোগের সঙ্গে সরকারি সম্পদ ও দাপ্তরিক ক্ষমতা ব্যবহারের প্রশ্নও জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া কিছু প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আচরণ ও নারীসংক্রান্ত অভিযোগও প্রকাশিত হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সবগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি। অভিযোগকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন না করে সংশ্লিষ্ট নথি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য যাচাই করেই পরবর্তী পর্বগুলো প্রকাশ করা হবে।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুস সালামের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে পূর্বে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয়ভাবে তদন্ত হয়েছে এবং তিনি নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন।
প্রশ্ন হচ্ছে—একজন জেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যদি ধারাবাহিকভাবে এত অভিযোগ ওঠে, তাহলে সেগুলোর প্রকৃত সত্যতা কী? কোনো অভিযোগের পেছনে প্রমাণ রয়েছে কি না? সংশ্লিষ্ট দপ্তর কি এসব বিষয়ে কোনো তদন্ত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে? আর যেসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি, সেগুলো কীভাবে ছড়াল?
দৈনিক সোনার বাংলাদেশের ৪০ পর্বের অনুসন্ধানী ধারাবাহিক প্রতিবেদনে এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হবে। পর্যায়ক্রমে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, অভিযোগকারী ও প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং আব্দুস সালামের বক্তব্য তুলে ধরা হবে।
পরবর্তী পর্বে: দায়িত্ব পালনে অনিয়ম ও অফিসে উপস্থিতি নিয়ে ওঠা অভিযোগের নেপথ্যে কী—নথিপত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নিয়ে থাকছে দ্বিতীয় পর্ব।




No comments:
Post a Comment