দেবহাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: চিকিৎসক পরিচয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কথিত ডিগ্রির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর এবার নতুন করে আলোচনায় সাতক্ষীরার দেবহাটার শেখ এবাদুল ইসলাম। প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে বক্তব্য ও তথ্য-উপাত্ত যাচাই করতে তার চেম্বারে যাওয়া দুই গণমাধ্যমকর্মীকে ঘিরে মব সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ওই দুই গণমাধ্যমকর্মী।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৪ অক্টোবর। শেখ এবাদুল ইসলামের চিকিৎসা কার্যক্রম, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ব্যবহৃত কথিত ডিগ্রি নিয়ে দৈনিক যশোর বার্তা-য় একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে তাকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দেওয়া এবং রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগসহ বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়।
এর পরদিন, ৫ অক্টোবর সোমবার দুপুরে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য যাচাই এবং শেখ এবাদুল ইসলামের বক্তব্য নেওয়ার জন্য স্থানীয় দুই গণমাধ্যমকর্মী দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের আস্কারপুরে তার চেম্বারে যান।
সাংবাদিকদের দাবি, চেম্বারে যেতেই শুরু হয় উত্তেজনা। তথ্য সংগ্রহ ও বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করার একপর্যায়ে একদল ব্যক্তি তাদের ঘিরে ফেলেন। পরে পরিস্থিতি মবের রূপ নেয় এবং তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
প্রশ্ন উঠেছে—নিজের ডিগ্রি বৈধ হলে কাগজ দেখাতে আপত্তি কোথায়?
শিক্ষাগত যোগ্যতা, চিকিৎসা-সংক্রান্ত সনদ কিংবা কথিত ডিগ্রি বৈধ হলে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র উপস্থাপন করেই অভিযোগের জবাব দেওয়া সম্ভব। কোনো সংবাদে আপত্তি থাকলে প্রতিবাদ, ব্যাখ্যা কিংবা আইনগত প্রতিকারের পথও খোলা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ঘেরাও করে চাপ সৃষ্টি বা ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ কেন উঠবে—এমন প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয় মহলে।
তবে সাংবাদিকদের ওপর মব সৃষ্টি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, একজন ব্যক্তির চিকিৎসা-যোগ্যতা ও ডিগ্রির বৈধতা নিয়ে সাংবাদিকরা তথ্য অনুসন্ধান করতে গেলেই যদি নিরাপত্তাহীনতায় পড়েন, তাহলে সাধারণ রোগীদের নিরাপত্তা ও আস্থার জায়গাটি কোথায়?
তাদের দাবি, শেখ এবাদুল ইসলামের শিক্ষাগত যোগ্যতা, চিকিৎসা-সংক্রান্ত সনদ, কথিত ডিগ্রি এবং রোগী দেখার বৈধ অনুমোদন রয়েছে কি না—তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দ্রুত যাচাই করা হোক। অভিযোগ সত্য হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ অসত্য হলে প্রয়োজনীয় প্রমাণসহ বিষয়টি জনসম্মুখে পরিষ্কার করা হোক।
এদিকে ঘটনার পর দুই গণমাধ্যমকর্মী নিজেদের এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। ভবিষ্যতে তাদের বা পরিবারের কারও ওপর হামলা, হুমকি কিংবা হয়রানির ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি বিষয়টি জানার পরও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে বলে তারা জানিয়েছেন।
ঘটনায় সাংবাদিক সংগঠন ও স্থানীয় সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্ত, গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং মব সৃষ্টির অভিযোগে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
শেখ এবাদুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
ঘটনার বিষয়ে শেখ এবাদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এখন দেখার বিষয়, অভিযোগের সত্যতা কতটুকু এবং শেখ এবাদুল ইসলামের চিকিৎসা-সংক্রান্ত যোগ্যতা ও কথিত ডিগ্রির বৈধতা আসলে কী—সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তেই মিলতে পারে এর উত্তর।




No comments:
Post a Comment