বেনাপোল কাস্টমস গোয়েন্দা সিপাহী জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও যাত্রী হয়রানির অভিযোগ সংবাদ প্রকাশের পর তদবিরের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি - Dainik Shomoy Barta

Breaking

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Tuesday, October 27, 2026

বেনাপোল কাস্টমস গোয়েন্দা সিপাহী জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও যাত্রী হয়রানির অভিযোগ সংবাদ প্রকাশের পর তদবিরের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

 


বেনাপোল প্রতিনিধি:

বেনাপোল কাস্টমস গোয়েন্দা সার্কেলের সিপাহী জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, পাসপোর্ট যাত্রীদের হয়রানি, ল্যাগেজ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং স্বর্ণ পাচারকারীদের সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ নিয়ে একাধিক জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার পরিবর্তে তদবিরের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের দাবি, বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনে ভারতগামী ও ভারত থেকে আসা পাসপোর্ট যাত্রীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে অর্থ আদায়ের ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে ঘটে আসছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে ‘দৈনিক আমার একুশ’ পত্রিকায় সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে সিপাহী জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নতুন করে আলোচনায় আসে।

অভিযোগকারীদের দাবি, ঘুষের অর্থ লেনদেনে সিপাহী জাহাঙ্গীরের ব্যবহৃত একটি বিকাশ নম্বর রয়েছে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের তথ্য, বিকাশ স্টেটমেন্ট এবং প্রাসঙ্গিক কল রেকর্ড আইনসম্মতভাবে যাচাই করা হলে অভিযোগের সত্যতা নিরূপণ করা সম্ভব হতে পারে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা প্রয়োজন।

এদিকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জবাবদিহি এবং সম্ভাব্য প্রশাসনিক তদন্তের বিষয়টি সামনে আসার পর সিপাহী জাহাঙ্গীর বিদায়ী বেনাপোল সার্কেলের সহকারী পরিচালক আবু সেলিম মো. মোশারফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর পরামর্শে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ওঠা মাদক সেবন এবং কাস্টমস গোয়েন্দা অধিদপ্তরের নাম ব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ আড়াল করার চেষ্টা চলছে।

এ ছাড়া গত ২০ অক্টোবর ‘রূপান্তর প্রতিদিন’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদ তাঁর ব্যক্তিগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট বলে দাবি করেছে একটি সূত্র। তবে এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বিভিন্ন মহল ও সাংবাদিকদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের আরও দাবি, সিপাহী জাহাঙ্গীর এর আগে বেনাপোল কাস্টমস গোয়েন্দা সার্কেল থেকে বদলি হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি আবার একই কর্মস্থলে ফিরে আসেন। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনের পেছনে প্রভাব খাটানোর অভিযোগও উঠেছে। এমনকি তিনি নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার করেন বলেও অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাঁদের দাবি, এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তাঁর আয়-ব্যয়ের হিসাব, সম্পদের বিবরণ এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগকারীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার বেনাপোল ইমিগ্রেশনে সাধারণ যাত্রীরা যেন কোনো ধরনের হয়রানি বা অনিয়মের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সরকারি দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত কাস্টমস গোয়েন্দা সিপাহী জাহাঙ্গীরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages