হাফিজুর রহমান কালীগঞ্জ(সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ
আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে সারা দেশের ন্যায় সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ৫৫ টি মন্ডপে প্রতিমা তৈরীর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। তাই, সারাদেশের ন্যায় কালিগঞ্জ উপজেলা জুড়ে হিন্দু ধর্মাবলন্বিদের মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে সারা বছরের অপেক্ষা শেষ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা, চারদিকে সাজ-সাজ রব। অবশেষে দুয়ারে পা ফেলবেন দেবী, মাঝে আর কয়েকদিন বাকি। তাই ঘিরে কালিগঞ্জের ৫৫ টি মন্ডপের মধ্যে ৫৪টি সার্বজনীন ও কুশুলিয়া ইউনিয়নের রথ খোলায় ১ টি ব্যক্তিগত মন্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের তুলির আঁচড়।
১০ অক্টোবর মহালয়া দিয়ে শুরু হয়েছে, ১৬ অক্টোবর মহা ষষ্ঠী দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু, ১৭ ও ১৮ অক্টোবর ঘোড়ায় চড়ে দেবীর আগমন, ১৯ অক্টোবর কুমারী পূজা, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গা নৌকায় গমনের মাধ্যমে শারদীয়া উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। সে লক্ষ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করে শিল্পীরা এখন রং-তুলির শেষ আঁচড় লাগাতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। দম ফেলার ফুরসত নেই যেনো তাদের। তোরণ নির্মাণ ও মন্ডপ নানা রঙে সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যরা।
এদিকে পূজা চলাকালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। প্রতিটি পূজামন্ডপ সিসি ক্যামেরা স্থাপন ছাড়া পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কালিগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি রঞ্জিত সরকার, অসিত সেন, সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মিলন কুমার ঘোষ, কোষাধক্ষ্য বরুণ কুমার ঘোষ সহ নেতারা জানিয়েছেন, এবার কালিগঞ্জ উপজেলায় শহর ও গ্রাম মিলে মোট ৫৫টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে এর মধ্যে ৫৪ টি সার্বজনীন এবং ১ টি ব্যক্তিগত।
উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটি সূত্রে জানা গেছে, এবার ঘোড়ায় চড়ে কৈলাস থেকে দেবী দুর্গা আসছেন পৃথিবীতে, আর চলে যাবেন নৌকায় চড়ে। পূজা উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৬০০ কেজি চাউল দেওয়া হবে। শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে মন্ডপে, মন্ডপে সাজ-সাজ রবের পাশাপাশি প্রতিটি মন্ডপ সিসি ক্যামেরার আওতায় আনতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহিলা, পুরুষ দর্শনার্থীদের জন্য আলাদা প্রবেশ পথ ও গেটের জন্য বলা হয়েছে। ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীর আগমনী বার্তা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন মন্ডপগুলো আলোক-সজ্জায় সাজানো হচ্ছে। দুর্গাদেবীকে সাজিয়ে তুলতে মৃতশিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। খড়কুটো ও কাদামাটির কাজ প্রায় শেষ, চলছে শুধু রং-তুলির শেষ আঁচড়। তবে এবার আমিয়ান পূজা মন্ডপে বিশেষ আকর্ষণ ককশিট সোল দিয়ে বিশেষ ভাবে প্রতিমা নির্মাণ ও রেল সাদৃশ্যের তোরন নির্মাণ করা হয়েছে। এজন্য প্রচুর দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করছেন।
উপজেলা সদরের বাজার গ্রাম সার্বজনীন পূজা মন্ডপের কারিগর অসিত কুমার সরকার, পরিতোষ সরকার জানান, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রতিমা তৈরিতে কোনও সমস্যা হয়নি। তাই রং-তুলির কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে । তিনি বলেন, ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে কাদা-মাটি দিয়ে দেবীকে সাজানোর মধ্যে দিয়ে শুরু হয় প্রতিমা তৈরির কাজ। এখন এটাই আমার পেশা। এ সময় তিনি জানান, প্রতিমা তৈরি করা ভীষণ ধৈর্য্য ও মনোযোগের কাজ। যদি একবার ভুল হয়ে যায়, তা’হলে আবার নতুন করে সেটা তৈরি করতে হয়। মায়ের কাজ মন দিয়ে করতে হয়। সঠিকভাবে করতে গেলে একেকটি মন্ডপের প্রতিমা বানাতে প্রায় ৩ থেকে ৪ মাস লেগে যায়।’
তিনি আরো জানান, চুক্তি অনুযায়ী তারা মজুরি পান। উপকরণ ও মালামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় কাজ শেষে হাতে কিছুই থাকে না। এখন এই পেশায় জীবন-জীবিকা চলে না। অনেকেই অন্য পেশায় চলে গেছেন। বাপ-দাদার পেশা ধরে রাখতে কাজটি করছেন তারা।অপরদিকে মন্ডপের সভাপতি রঞ্জিত কুমার সরকার জানান, উপকরণ এবং কারিগরদের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় এবার প্রতিমা তৈরি ও পূজামন্ডপের সামগ্রিক খরচ অনেকটাই বেড়ে গেছে। সরকার থেকে ৬০০ কেজি চাউল দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার ও থানার অফিসার্স ইনচার্জ শাহিন হোসেন জানান, ‘দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে সেজন্য প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি আনসার, ভিডিপি ও স্বেচ্ছাসেবকরা সর্বদা সতর্ক অবস্থানে থাকবে। তবে উঠতি বয়সী তরুণদের মোটরসাইকেলের ওপর কঠোর নজরদারি রাখা হবে। একই সঙ্গে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আশা করছি, কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই পূজা সুন্দরভাবে শেষ হবে।




No comments:
Post a Comment