মোঃ সাখাওয়াত হোসেন মামুন, পূর্বধলা( নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:
সরকারি চাকরিবিধি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠনের নীতিমালা ভঙ্গ করে নিজের মূল পেশা আড়াল করার অভিযোগ উঠেছে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন গৌরীপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: মিজানুর রহমান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি পূর্ণকালীন প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও (এমপিও ইনডেক্স নম্বর D471884), গোপনে পার্শ্ববর্তী পূর্বধলা উপজেলার বড়ুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির পদে আসীন হয়েছেন।
নিয়ম অনুযায়ী, কোনো এমপিওভুক্ত শিক্ষক বা পূর্ণকালীন চাকরিজীবী অন্য কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বা সদস্য হতে পারেন না। এটি সরাসরি আইনের পরিপন্থী এবং স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি করে।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষা বোর্ডে সভাপতি পদের জন্য জমা দেওয়া কাগজপত্রে তিনি কৌশলে নিজের পেশা গোপন করেছেন। সেখানে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিজের পরিচয় উল্লেখ না করে, পেশার জায়গায় ‘ব্যবসা’ লিখে অনুমোদন আদায় করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় শিক্ষক ও সচেতন মহলের দাবি, একজন দায়িত্বশীল প্রধান শিক্ষকের এমন কর্মকাণ্ড শুধু অনৈতিকই নয়, এটি শিক্ষকতা পেশার মর্যাদাকেও ক্ষুণ্ন করেছে। এর ফলে শ্যামগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সুনামও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বড়ুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর, নিয়ম অনুযায়ী সিনিয়র শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব না দিয়ে, নিজের পছন্দের একজন জুনিয়র শিক্ষককে ওই দায়িত্ব পাইয়ে দিয়েছেন তিনি।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এই প্রতারণার সুষ্ঠু তদন্ত ও তার সভাপতি পদ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, উভয় বিদ্যালয়ের তথ্য এবং এমপিও শিট সংযুক্ত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিইও) এবং ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।




No comments:
Post a Comment