সাতক্ষীরার আলোচিত সফি’র বিরুদ্ধে এবার তদন্ত শুরু - Dainik Shomoy Barta

Breaking

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Wednesday, May 21, 2025

সাতক্ষীরার আলোচিত সফি’র বিরুদ্ধে এবার তদন্ত শুরু




সাতক্ষীরার আলোচিত সফি’র বিরুদ্ধে এবার তদন্ত শুরু

# এলাকাবাসীর গণঅভিযোগের তদন্ত শুরু। 

# ১৮ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে ব্যংকের মাধ্যমে চাঁদা আদায়। 

# পৌর আ’লীগের সহসভাপতি ছিলেন।  

# দুদকে অভিযোগ করে মিমাংসার জন্য চান টাকা। 

# এবার ভোল পাল্টে বিএনপি’তে ঠাঁই পেতে মরিয়া।

# আদালতে সফির বিরুদ্ধে মামলা করেছে (এবি) ব্যাংক।  



সাতক্ষীরার আলোচিত সফি’র বিরুদ্ধে এবার তদন্ত শুরু


সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরার আলোচিত সফি’র বিরুদ্ধে এবার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এলাকাবাসীর লিখিত গণঅভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পুলিশ হেড কোয়ার্টারের নির্দেশনা অনুযায়ী সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পুলিশ সুপারের নির্দেশনা অনুযায়ি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাতক্ষীরা সদর সার্কেল আলোচিত সফি’র বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছেন। সম্প্রতি তিনি অভিযোগকারি এলাকাবাসির লিখিত স্বাক্ষ্য নিয়েছেন। আগামী ২৪ মে আরো ১০/১৫ জন ব্যক্তি তাদের লিখিত স্বাক্ষী দিবেন। সংশ্লিস্টরা নোটিশও পেয়েছেন। 

অভিযোগকারী সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা এলাকার স্থানীয় বিএনপি নেতা রবিউল ইসলাম বলেন, আওয়ামীলীগ নেতা সফিউর রহমান সফি’র নির্যাতনের শিকার সাতক্ষীরাসহ দেশের  বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ। আমরা এলাকাবাসী অভিযোগ করার ৪ মাস পরে তদন্ত শুরু করেছে সাতক্ষীরা সদর সার্কেল। আমরা ন্যায় পাবো বলে বিশ^াস করি। 

অভিযোগ সূত্র জানায়, সফিউর রহমান সফি বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে পৌর আওয়ামীলীগ নেতা পরিচয়ে বিভিন্ন স্থানে প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে বিদ্যুত সংযোগের কথা বলে প্রচুর অর্থ আদায় করেছে।

বিগত ২০০৩-২০০৪ সালে মানবপাচার করে শফি ও তার সহযোগীরা অর্থ আদায় করে বেশ কয়েকজনকে পথে বসিয়ে দিয়েছে। ভুক্তভোগীরা হলেন, পাবনা জেলার সুলতনের ছেলে আজিম ওরফে জুয়েল, কলিমুদ্দিন বিশ^াসের ছেলে ইলিয়াস, আরিফ হোসেনের ছেলে ফিরোজ, রাঙ্গামাটি জেলার আসলাম হোসেনের ছেলে জাকির হোসেন, ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া থানার সত্যনগর গ্রামের মোস্তফা চৌধুরী ও আনোয়ার হোসেনের পরিবারের কাছ থেকে প্রায় পনেরো লক্ষ টাকা ও পাসপোর্ট আত্মসাৎ করে। এঘটনায় আদালত শফিকে এক বছরের কারাদন্ড প্রদান করেন। এছাড়াও শফি ঢাকা, নীলফামারী ও সাতক্ষীরা জেলার ১০ থেকে ১৫ জনের নিকট থেকে প্রতারনার মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সে তার বর্তমান শ্যালিকার (স্ত্রীর বোন) সাথে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপনের জন্য বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রদান করে। কিন্তু তার শ্যালিকা রাজি না হয়ে পরিবারের মতে বিয়ে করেন। সে কারনে ঐ দম্পতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় বিভিন্ন লোকজন দিয়ে মামলা করে তাদের পারিবারিক জীবন বিষিয়ে তোলে বলেও জানান এলাকাবাসী।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গত ১৫ বছর নিজেকে আওয়ামী সরকারের লোক, পৌর আ’লীগ নেতা ও পতিত সরকারের একজন পুলিশ কর্মকর্তা ও একজন সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তার নাম ভাঙ্গিয়ে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডে দু’টি বিভাগে (পওর-১ ও ২) নিয়ন্ত্রণ নিতে কর্মকর্তাদের জিম্মি করে রাখতো। ঠিকাদারি কাজের চেয়ে তার আগ্রহ বেশি ছিলো চাঁদাবাজিতে। ইচ্চামত চাঁদা দাবি করতো, না দিলেই হয়রানি। ফোঁন ধরিয়ে দেওয়া হতো কথিত সেই দুই কর্মকর্তাকে। নতুন কাজ টেন্ডার হলে তাকে একটা কাজ দেওয়াই লাগবে লাইসেন্স না থাকার পরেও এমন ভাবেও মানসিক নির্যাতন করতো অফিসারদের। সে সময়ে শফির চাঁদাবাজির বিষয়টি প্রকাশ্যে না আসলেও বর্তমানে কর্মকর্তারা মুখ খুলতে শুরু করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, সফির বাড়ির সামনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিস হওয়ায় সে নির্বাহী প্রকৌশলীদেরকে  জিম্মি করে রাখতে নানা পন্থা অবলম্বন করে। অফিসারেরা যদি তার কথা না শোনে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে নামে বেনামে মিথ্যা তথ্য দিয়ে দুর্ণীতি দমন কমিশনে বিভিন্ন আবেদন করে। নিজের কোন লাইসেন্স না থাকলেও তিনি নির্বাহী প্রকৌশলীদের অন্যের নামে কাজ দিতে বাধ্য করেন। তার কথায় কাজ না হলে বিভিন্ন লোকজন দিয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেন। এর আগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল খায়েরের কাছ থেকেও সুযোগ সুবিধা গ্রহন করেছে সে। পরে তিনি অনৈতিক সুযোগ সুবিধা দিতে রাজি না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে লাগাতার বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ করে চলেছে। বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী সালাউদ্দিনের নিকট হতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অর্থ আদায় করেছে। পওর-১ ডিবিশন থেকে ৩ লক্ষ টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে নিয়েছে সফি। গত ১৮ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে  ২ লাখ ও ১ লাখ করে দুটি স্লিপে মোট তিন লক্ষ টাকা ৩ লাখ টাকা সাউথ বাংলা এগ্রিকালচারাল ব্যাংক সাতক্ষীরা শাখায় মেসার্স শফি এন্টারপ্রাইজ নামের একাউন্টে জমা করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি বিএনপি অফিসের নাম করে বাপাউবো এর শাখা কর্মকর্তা  ও নির্বাহী প্রকৌশলীর থেকে মোট অংকের চাঁদা নিয়েছে।

এলাকাবাসী আরো জানান, বর্তমানে তার বাড়ি সাতক্ষীরা শহরে হলেও তার আদি বাড়ি সীমান্ত এলাকায়। বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে সে প্রভাব বিস্তার করে এলাকায় গরুর খাটাল, মাদক, অস্ত্র, শাড়ি কাপড় ও স্বর্ণ চোরাচালানের সাথে জড়িয়ে পরে। সে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রানালয়ের তালিকা ভূক্ত চোরাচালানি ও হুন্ডি ব্যবসায়ী বলেও জানা গেছে। তদন্ত করলে তার অপরাধের রাম রাজত্ব খুজে পাওয়া যাবে। এলাকায় প্রচলিত আছে বীমার টাকা পাওয়ার জন্য সে তার পূর্বের দুই স্ত্রীকে হত্যা করেছেন। এ বিষয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তার পূর্বের স্ত্রীদের সন্তানদের নিকট তথ্য সংগ্রহ করা হলে প্রকৃত তথ্য পাওয়া যাবে। বিমার টাকা পাওয়ার জন্য সে তার স্ত্রী কে মেরে ফেলে এমনও জনশ্রুতি আছে । সে সরকারী কাজের বিরুদ্ধে কিংবা দরপত্রের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে হাইকোর্টে রিট করে কমর্কর্তা ও ঠিকাদারদের জিম্মি করে অর্থ আদায় করে। ইতোপূর্বে সাতক্ষীরা পওর পানি উন্নয়ন-১ এর খাল পুন:খনন কাজের বিরুদ্ধে ২০২১-২০২২ সালে একটি রিট করে কাজটি অন্যের নামে নিয়ে বিশেষ কায়দায় অর্থ আদায় করেছে। সম্প্রতি সময়ে মজুমদার মানিকতলা খাল নিয়ে রিট করেছেন।

এবিষয়ে বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলীকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন, তাকে কাজ না দিয়ে অন্য কাউকে দিলে কাজ করতে দিবে না। একারনে সে রিট করেছে যাতে নির্বাচিত ঠিকাদার কর্তৃক কাজটি করতে দেরী হয়। তার সাথে না মিটিয়ে ঠিকাদার কাজ শুরু না করতে পারে। তার এধরনের অনৈতিক রিটের কারনে সাতক্ষীরা শহরের জলাবদ্ধতা সমস্যা একটি বড় আকার ধারন করেছে। অবশ্য সফিকে টাকা দিয়ে ঠিকাদার কাজ শুরু করেছে।

৫ আগষ্টের পরে সে নতুন করে একটি বাহিনী সৃষ্টি করেছে। যার মাধ্যমে সে শহরে প্রভাব বিস্তারসহ নিরীহ মানুষদেরকে জিম্মি করে চলেছে। ২০১৮ সালে এবি ব্যাংক সাতক্ষীরা শাখার তৎকালিন ম্যানেজার খেলাপি ঋন আদায় ও সংশ্লিষ্ট সম্পদ ব্যাংকের অনুকুলে নেওয়ার জন্য আদালতে সফিউর রহমান সফির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটি চলমান।

ইটাগাছা এলাকার শিমুল হাসান জানান, সফি’র স্ত্রী হত্যার বিষয়টি পূণ: তদন্ত করলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিসারদের জিম্মি করতে আওয়ামী পন্থী ঠিকাদার বিএম রাজ্জাককে ব্যবহার করে কতিথ ভূমিহীনদের ভাড়া করে মানববন্ধন করাতো। অবশ্য পট পরিবর্তনের পরে রাজ্জাক পালিয়েছে। এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে সফি। তাকে আইনের আওতায় আনলে বড় চাঁদাবাজ চক্রের সন্ধান মিলবে। শফির অত্যাচারে অতিষ্ঠ পানি উন্নয়ন বোর্ড সহ বিভিন্ন সরকারি অফিসের বড় থেকে ছোট সব ধরনের কর্মকর্তা কর্মচারী। চাঁদা না দিলেই নামে বেনামে অভিযোগ অভিযোগ দেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। পরে মীমাংসার জন্য চান টাকা।

ইটাগাছা এলাকার রেজাউল জানান, সফি একজন ঋণখেলাপী সে কিভাবে অন্যের লাইসেন্সে কাজ করে। তাকে যারা এবিষয়ে সহযোগীতা করে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান।     

এদিকে, গত ৫ আগষ্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর নতুন রুপ ধারন করেছেন বহু অপকর্মের হোতা সফিউর রহমান সফি ভোল পাল্টে এলাকায় একটি চাঁদাবাজ বাহিনী গড়ে তুলেছেন। বিএনপিতে ঠাঁয় পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। অবশ্য জেলা বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা বলেছেন কোন চাঁদাবাজ বিএনপিতে ঠাঁয় পাবে না। শফি আমাদের কেউ না। 

ইটাগাছা এলাকার বিএনপি নেতা রবিউল ইসলাম জানান, সফি’র যন্ত্রণায় এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। এমন কোন খাবার কাজ নেই যে সে করে না। বর্তমানে নির্দিষ্ট কোন পেশা না থাকলেও তিনি পুরটায় চলে চাঁদার টাকায়। সঠিক তদন্ত করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। প্রশাসনের কাছে এলাকাবাসী সফি’র শাস্থি দাবী জানান।

এ ব্যাপারে সহকারী পুলিশ সুপার সাতক্ষীরা সদর সার্কেল অফিসের ষ্টোনো  রফিকুল ইসলাম তদন্তের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সফির বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে সদর সার্কেল স্যার। 

তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে সফিউর রহমান সফি জানান, যা পারে হোক।  আমি অপরাধ মূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত নয়। 

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages