আশাশুনিতে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বরতদের অব্যাহতির ঘটনা নিয়ে গুঞ্জন - Dainik Shomoy Barta

Breaking

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Sunday, May 10, 2026

আশাশুনিতে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বরতদের অব্যাহতির ঘটনা নিয়ে গুঞ্জন

 


সাতক্ষীরা  প্রতিনিধি:

আশাশুনি উপজেলার দরগাহপুর এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব, ট্যাগ অফিসার ও কমিটির এক সদস্যকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। গত ৫ মে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড যশোর পনি/পিএ-১২২৭ নং স্মারকে প্রেরিত নির্দেশনা মোতাবেক তাদেরকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।  

কেন্দ্রে বিধি বহির্ভূতভাবে পরীক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন অনেকে অবাধে প্রবেশ করা, সহকারী প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন-এর ছেলে এই কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে, পছন্দমত শিক্ষককে কক্ষ প্রত্যাবেক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে তাকে অনৈতিক সুযোগ প্রদান করা, ট্যাগ অফিসার পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র কেড়ে নিয়ে ৩০/৪০ মিনিট আটকে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি, কমিটির সদস্য সহকারী শিক্ষক রাখিদুল ইসলাম প্রশ্নপত্র বাইরে নিয়ে সলিউশনের চেষ্টা করে ভিজিলেন্স টীমের হাতে ধরা পড়ে দ্রুত সটকে পড়ার অভিযোগে কেন্দ্র সচিব, ট্যাগ অফিসার ও পরীক্ষা কমিটির সদস্যকে পরবর্তী সকল কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। ঘটনাগুলো সম্পর্কে সরেজমিন তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন একদল সাংবাদিক। 

জানাগেছে, কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কেন্দ্রটিতে যথারীতি প্রস্তুতি নেয়া হয়। এ কেন্দ্রে ৯টি প্রতিষ্ঠানের ৪৬৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে। নকলমুক্ত, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরীক্ষা অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে কেন্দ্রের কক্ষে, গেটে ও ক্যাম্পাসে ২২টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পুরো সময় ভিডিও ফুটেস সংরক্ষণ করা হয়। প্রত্যেক রুমে দেওয়াল ঘড়ি, পর্যাপ্ত লাইট, ফ্যান ও খাবার পানির ব্যবস্থা করা হয়। কেন্দ্রে প্রবেশের সময় মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার করে পরীক্ষার্থীদের চেক করে কেন্দ্রে ঢোকান হয়। ছাত্রীদের ম্যাডাম ও আয়াদের সহায়তায় পৃথক বুথে চেক করা হয়। সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি, কমিটির সদস্য, জন প্রতিনিধি, রাজনীতিবীদ, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, কেন্দ্রটি প্রাচীর, গেটে গেটম্যান ও পুলিশ প্রহরা, সিসি ক্যামেরায় দৃশ্যধারন, দায়িত্বরতদের পাশাপাশি ভিজিলেন্স টিম সদস্যসহ অন্যান্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের পরিদর্শনের মাধ্যমে পূর্বের যেকোন সময়ের তুলনায় যথেষ্ট গ্রহনযোগ্য ব্যবস্থাপনায় সুনিয়ন্ত্রিত। এপর্যন্ত ভিজিলেন্স টিমের ৫ জন প্রতিনিধি কেন্দ্রটিতে পরিদর্শনে এসেছেন। তারপরও কোন প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে সিসি টিভি ফুটেজ দেখার সুযোগ রয়েছে। রয়েছে অভিযোগ তদন্তের সুযোগ। একটি পরীক্ষা কেন্দ্র অনেক মূল্যবান। সেখানে অনিয়ম হওয়া যেমন বিপদজনক, তেমনি কেন্দ্র বা কেন্দ্র সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন বাঞ্চনীয়। কেন্দ্রের ৩ জনকে অব্যাহতি প্রদানের ক্ষেত্রে ন্যায্যতা রক্ষা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্ন তুলে তারা দীর্ঘশ্বাসের সাথে অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

এব্যাপারে ট্যাগ অফিসার সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার ঝংকর মন্ডল জানান, পরীক্ষার্থীদের ওয়ার্নিং দেওয়ার পরও নিয়ন্ত্রিত না হওয়ায় দু'টি খাতা নিয়ে ৫ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে ফেরৎ দেয়া হয়। 

কেন্দ্র সচিব অধ্যক্ষ গৌরপদ মন্ডল জানান, কেন্দ্র সচিব হিসাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের প্রশ্নপত্র প্রদান ও উত্তরপত্র সংরক্ষন সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছি। তবে অধিনস্থ স্কুলের কতিপয় প্রধান শিক্ষক পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট পূর্বে তাদের স্ব স্ব পরীক্ষার্থীদের খোঁজ খবর ভিতরে প্রবেশ করলেও পরীক্ষা শুরুর পূর্বেই তারা কেন্দ্র ত্যাগ করে থাকেন। এছাড়া সাংবাদিকরা আমার অফিস পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য আসেন এবং তথ্য নিয়ে বাইরে চলে যান। প্রমান হিসাবে সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। তবুও আমাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদানে আমি বিস্মিত।

কমিটির সদস্য জিএম রাখিদুল ইসলাম বলেন, এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬ কমিটির আমি একজন সদস্য। আমি (কেন্দ্র সচিব কর্তৃক দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়ে) থানা ট্রেজারী থেকে পুলিশ প্রহরায় প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে নিয়ে আসি এবং পরীক্ষা শেষে পুলিশ প্রহরায় উপজেলা পোষ্ট অফিসে উত্তরপত্র জমা দিয়ে আসি। বোর্ডের ভিজিলেন্স টিমের কোন সম্মানিত সদস্যর সম্মুখে আমার যে অভিযোগ করা হয়েছে তেমন কোন ঘটনা ঘটেনি। অথচ আমাকে অব্যাহতি প্রদানের ঘটনায় আমি বিস্মিত হয়েছি। 

এব্যাপারে ভিজিলেন্স টিম সদস্য প্রভাষক মোসাঃ জহুরা ইয়াসমিন এর সাথে বারবার মোবাইলে যোহাযোগ করা হলেও ধরেননি। কিছু পরে রিং ব্যাক করলেও এ প্রান্ত থেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দরগাহপুর পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিবসহ ৩ জনকে অব্যাহতি প্রদান বিষয়ে জানতে চাইলে "আমি বাইরে আছি, পরে কথা বলবো" বলে মোবাইল কেটে দেন। কিন্তু তিনি পরবর্তীতে ফোন করেননি এবং আমরা একাধিকবার রিং করলেও রিসিভ করা হয়নি। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু এব্যাপারে জানান, যশোর শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধির সুপারিশে ৩ জনকে অব্যাহতি দিয়েছি। তবে অভিযোগের ব্যাপারে আমি ব্যক্তিগত ভাবে তদন্ত করছি। প্রকৃত তথ্য বের হয়ে আসবে।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages