শিরোনাম :

সাতক্ষীরায় স্বামীর কাছ থেকে শিশু সন্তানকে ফেরত পেতে এক গৃহবধূর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

 


সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরাড ৯ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্বামী গোস্ট কুমার ঘোষ তার স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় ইতোমধ্যে তার একমাত্র শিশু সন্তানকে ছিনিপড নিপড গেছে গোস্ট কুমার।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবো আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে শ্যামনগর উপজেলার চাঁদনীমুখা গ্রামের মো. আতিয়ার গাজীর মেয়ে পারুল আক্তার এই অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বিগত ২০২২ সালে খুলনার পাইকগাছা থানার বাঁকা গ্রামের গোপাল ঘোষের ছেলে গোস্ট কুমার ঘোষের সাথে হিন্দু আইন মতে কোর্টে বিয়ে হয়। বিয়ের পরে আমাদের কোল জুড়ে একটি সন্তান জন্মগ্রহণ করে। যার নাম-স্বপ্ন কুমার ঘোষ (২ বছর ৪ মাস)। বিয়ের পর থেকে গোস্ট কুমার ঘোষ আমাকে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করতে থাকে। সে আমার কাছে তার আগের বিয়ে ও সন্তান আছে সেটা গোপন করে। বিয়ের আগে আমাকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে, সম্পদের লোভ দেখিয়ে এমনকি আমাকে কবিরাজের মাধ্যমে তাবীজ করে পাগল মতো করে আমাকে বিয়ে করতে বাধ্য করে।

পারুল আক্তার অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকে আমার স্বামী গোস্ট কুমার ৯ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হয়রানি করতে থাকে। যদি তাকে  ৯ লাখ টাকা এবং গহনা ও ভিটাবাড়ি লিখে না দেই, তাহলে সে আমার সন্তান ও  আমাকে প্রাণে শেষ করে দেবে বলে হুমকি দেয়। এরই মধ্যে সে আমার সন্তানকে মাস্তান দ্বারা আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়ে গেছে। আমি ছেলের সাথে দেখা করতে গেলে সে দা, কুড়াল ও লাঠি দিয়ে আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে মারধর করতে উদ্যত হয় এবং জীবন নাশের হুমকি দেয়। একপর্যায়ে আমি কোন রকমে পালিয়ে জীবনে রক্ষা পাই।


তিনি আরো বলেন, গোস্ট কুমার ঘোষ একজন নারী লোভী, প্রতারক ও পরসম্পদ লোভী। এভাবে আমার মতো আরও কয়েকজন নারীর সাথে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করে তাদের জীবনকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এরই মধ্যে সে আমার কাছ থেকে স্বর্ণ ও নগদ টাকা এবং আমার নামীয় একটি জমির দলিল জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। এ ঘটনার পর থেকে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।


তিনি তার একমাত্র সন্তান, স্বর্ণ ও জমির দলিল যাতে দ্রুত ফেরত পেতে পারেন এবং প্রতারণার অভিযোগে গোস্ট কুমার ঘোষকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করা হয় সে ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন  কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

No comments