রাতের আঁধারে সরকারি জমিতে নির্মাণকাজ, আ.লীগ নেতার ঘর করে দিলেন দুই বিএনপি নেতা! - Dainik Shomoy Barta

Breaking

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Wednesday, June 3, 2026

রাতের আঁধারে সরকারি জমিতে নির্মাণকাজ, আ.লীগ নেতার ঘর করে দিলেন দুই বিএনপি নেতা!

 

কাজ বন্ধসহ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নোটিশ পৌর প্রশাসনের



ইমরান হোসেন, যশোর জেলা প্রতিনিধি:


যশোরের কেশবপুরে পৌর প্রশাসকের দু’দফা নির্দেশ অমান্য করে সরকারি জমিতে অবৈধভাবে নির্মাণাধীন একটি মার্কেটের ঘর সম্পন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতা একরামুস সালাম খানের দখলে থাকা সরকারি জমিতে নির্মাণাধীন মার্কেটের একটি ঘরে গভীর রাতে টিনের চাল ও দরজা স্থাপন করে দেন তারা। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।


পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে কেশবপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একরামুস সালাম খান শহরের বাস ও ট্রাক টার্মিনাল সংলগ্ন জেলা পরিষদ ও ওয়াকফ এস্টেটের জমি দখল করে সেখানে পৌর কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ১২টি দোকানঘরবিশিষ্ট একটি মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেন।


স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মোছা. রেকসোনা খাতুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। এরপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।


অভিযোগ রয়েছে, ঈদুল আজহার ছুটিতে সরকারি অফিস-আদালত বন্ধ থাকার সুযোগে গত ২৭ মে দিবাগত রাত এবং পরে ১ জুন সকালে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম মোড়ল ও সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম মোড়ল কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে মার্কেটের একটি ঘরে টিনের চাল ও দরজা স্থাপন করেন।


সোমবার সকালে বিষয়টি জানতে পেরে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেও সংশ্লিষ্টরা তা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।


পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মোছা. রেকসোনা খাতুন স্বাক্ষরিত পৃথক নোটিশের মাধ্যমে অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। নোটিশে দ্রুত সময়ের মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।


এ বিষয়ে বিএনপি নেতা আবুল কাশেম মোড়ল বলেন, “জমিটি নিয়ে প্রশাসনের কোনো নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা আমার জানা ছিল না। আমার ভাই সেখানে একটি ঘর নেওয়ার জন্য অগ্রিম টাকা দিয়েছেন। সেই ঘরের টিনের চাল ও দরজা লাগানোর কাজে আমি সহযোগিতা করেছি।”


অপর বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম মোড়ল বলেন, “ভাইয়েরা ডাকায় আমি সেখানে গিয়েছিলাম। এর বেশি কিছু নয়।”


বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য জানতে একরামুস সালাম খানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমি ফোনে কোনো বক্তব্য দেব না।” পরে তিনি কলটি কেটে দেন।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মোছা. রেকসোনা খাতুন বলেন, “জেলা পরিষদ ও ওয়াকফের জমিতে অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এরপরও রাতের আঁধারে সেখানে কাজ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারি জমি দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages