কালীগঞ্জে গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের ক্যাশিয়ার লাপাত্তা - Dainik Shomoy Barta

Breaking

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Wednesday, September 2, 2026

কালীগঞ্জে গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের ক্যাশিয়ার লাপাত্তা

 



 হাফিজুর রহমান কালিগঞ্জ(সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের বাঁশতলা বাজারে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ (পিএলসি) এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মালিক শামিম আজাদের যোগসাজসে ক্যাশিয়ার শরিফুল ইসলাম ওরফে সবুজ গ্রাহকদের প্রায় কোটি টাকা নিয়ে আত্মগোপন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ম্যানেজার শামীম আজাদ গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের  বিষয়টি অস্বীকার করে এ প্রতিনিধিকে জানান ক্যাশিয়ার শরিফুল ইসলাম সবুজ স্থানীয় আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিত গ্রাহকের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে আমার অজান্তে আমার সহ গ্রাহকের প্রায় ৪০ লক্ষ নিয়ে আত্মগোপনে চলে গেছে। বিষয়টি নিয়ে আমি থানায় অভিযোগ করেছি এতে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নাই। গত ২০ আগস্ট বিষয়টি আমি জানতে পেরে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানায়াছি এবং ব্যাংকিং কার্যক্রমে কোনো দুর্নীতি হয়নি বলে জানান।   ব্যাংকিং আউটলেট থেকে ক্যাশিয়ার শরিফুল ইসলাম ওরফে সবুজ মানুষের সঙ্গে জালিয়াতি, প্রতারণা করে বিভিন্ন জনের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে উধাও হন বলে জানাইছেন গ্রাহকরা। স্থানীয় গ্রাহকদের দাবি প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি গ্রাহকদের নিকট থেকে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানান তারা নিয়মিত ব্যাংকে এসে টাকা জমা দিতেন এবং ব্যাংক থেকে জমা টাকার রিসিড বুঝে নিতেন। মাঝে মাঝে নেটওয়ার্কের সমস্যার কথা বলে ক্যাশিয়ার শরিফুল ইসলাম সবুজ রিসিড পরে দিবেন বলে তালবাহানা করতেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ক্যাশিয়ার শরিফুল ইসলাম ওরফে সবুজ সেই টাকা গ্রাহকের মূল অ্যাকাউন্টে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দিতেন এবং এবং গ্রাহকের উঠানো টাকা থেকে পরে দেবো বলে ধার হিসাবে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে না দেওয়ার বিস্তার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অনেক সময় মৌখিক আলোচনা ও  সমঝোতার ভিত্তিতে গ্রাহকের টাকা ব্যক্তিগত ব্যবসা ও কাজে ব্যবহার করার একাধিক অভিযোগের কথা বলেন গ্রাহকরা। গত ২০ আগস্ট থেকে ব্যাংকে ক্যাশিয়ার সবুজকে না দেখে এবং এজেন্ট শাখার  গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন আমরা ব্যাংকে এসে টাকা জমা দিয়েছি। তবে প্রাথমিক ভাবে ৬০ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ( পি এল সি) কালিগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক প্রিন্সিপাল অফিসার ওহিদুজ্জামান বাঁশতলা এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট পরিদর্শন করেন বলে জানান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান ব্যাংকিং নিয়ম অনুযায়ী যাদের বৈধ লেনদেন ও একাউন্টিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে তাদের কোন সমস্যা হবে না এবং এ ব্যাপারে এখনো আমরা কোন গ্রাহকের অভিযোগ পাইনি।  বাঁশতলা এজেন্ট ব্যাংকের আউটলেট ম্যানেজার শামীম আজাদের  অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানার অফিসার্স ইনচার্জ শাহিন হোসেন এ প্রতিনিধিকে জানান লিখিত অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত ও ক্যাশিয়ার শরিফুল ইসলাম সবুজকে আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে। অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মুকুন্দ মধুসূদনপুর গ্রামের আব্দুস সালামের পুত্র। ঐ ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে একই গ্রামের শেখ শাহাদাত হোসেনের পুত্র শামীম আজাদ। তবে ম্যানেজার এবং ক্যাশিয়ারের যোগসাযোগে টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলেও ম্যানেজারের বিষয়ে কোন সত্যতা মেলেনি।  বিগত ৫/৬ বছর যাবত বাঁশতলা বাজারে ইসলামী ব্যাংকের আউটলেট এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম সুনামের সঙ্গে চলে আসলেও এবারই প্রথম গ্রাহকরা প্রতারনার খপ্পরে পড়ে প্রায় কোটি টাকা খোয়াইয়ে দিশেহারা হয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক ক্যাশিয়ার শরিফুল ইসলাম ওরফে সবুজকে আটক করে গ্রাহকের টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages