মোমিনুর রহমান সাতক্ষীরা :
দীর্ঘ তিন মাসের নীরবতা ভেঙে আবারও কর্মমুখর হয়ে উঠেছে সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় জনপদ। মাছ ও কাঁকড়া আহরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় বুকভরা আশা নিয়ে বনের গহিন নদীর দিকে ছুটছেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার হাজারো জেলে-বাওয়ালি। দীর্ঘদিন পর সুন্দরবনের দুয়ার খোলায় জেলেপল্লিগুলোতে ফিরে এসেছে হারিয়ে যাওয়া প্রাণচাঞ্চল্য।
শ্যামনগরের রমজাননগর, মুন্সিগঞ্জ, বুড়িগোয়ালিনী, গাবুরা এবং পদ্মপুকুরের মতো উপকূলীয় এলাকার মানুষের প্রধান জীবন-জীবিকা আবর্তিত হয় সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে। বন বিভাগের বৈধ পাশ পারমিট নিয়ে বনে প্রবেশ করে মাছ ও কাঁকড়া আহরণই তাদের একমাত্র সম্বল।
নিষেধাজ্ঞার দীর্ঘ সময়ে কাজ না থাকায় ঋণ, ধারদেনা কিংবা দিনমজুরি করে কোনোমতে দিন পার করেছেন জেলেরা।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের খবর পেয়েই জেলেরা এখন নৌকা মেরামত, জাল বুনন এবং শুকনা খাবার ও প্রয়োজনীয় রসদ গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
বনের পথে পা বাড়ানোর আনন্দ থাকলেও জেলেদের মনে পুরোপুরি স্বস্তি নেই। পাস-পারমিট পাওয়ার প্রক্রিয়াটি আরও সহজ, স্বচ্ছ এবং প্রকৃত জেলেদের জন্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন উপকূলের এই পরিশ্রমী মানুষগুলো।
তারা আরও দাবি তুলেছেন, বনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার, নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার এবং বন্যপ্রাণী হত্যা রোধে বন বিভাগ যেন আরও কড়া নজরদারি বজায় রাখে।
আইনসম্মত উপায়ে নিরাপদে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ করতে পারলে বিগত দিনের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে পরিবারে আবারও সচ্ছলতা ফিরবেন
এমন টাই এখন একমাত্র স্বপ্ন শ্যামনগরের হাজারো জেলে বাওয়ালির।




No comments:
Post a Comment