নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় প্রশ্নবিদ্ধ সামেক হাসপাতালের পরিচালক ডা: কুদরত-ই-খুদা প্রতিকার হয় না হাসপাতালের ঔষধ দুর্নীতির
নিজস্ব প্রতিনিধি : বিগত কয়েক বছার যাবৎ সাতক্ষীরার চিকিৎসা অঙ্গনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ঔষধ দুর্নীতির খবর। মাটিতে পুতে রাখা, ময়লার স্তুপে ফেলে রাখা এবং সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একাধিক স্টাফের বাড়িতে বিপুল পরিমাণ সরকারি ঔষধ পাওয়া গেলেও এসবের কোন প্রতিকার হয়নি বা দৃশ্যমাণ কোন ব্যবস্থা নেননি হাসপাতালটির পরিচালক ডা: কুদরত-ই-খুদা। ফলে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কর্মকান্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছেন জেলার সচেতন মহল। স্থানীয়দের দাবি যথাযথ তদন্ত হলে সাম্প্রতিক সময়ের ঔষধকান্ডে পরিচালকের যোগসূত্র পাওয়া যাবে। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের দাবি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের নেতৃত্বে সেখানে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী ঔষধ পাচার সিন্ডিকেট। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রোগী ও তাদের স্বজনরা জানায়, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নেওয়ার পর ব্যবস্থাপত্রে ডাক্তারের লেখা ঔষধ নিতে গেলে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফার্মেসিতে তা পাওয়া যায় না। বলা হয় সাপ্লাই নেই। অথচ সরকার প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার ঔষধ সরবরাহ করছে। তাহলে এসব ঔষধ যায় কোথায়?
এদিকে তথ্যানুসন্ধানে দেখা গেছে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও জেলার সচেতন মহলের দাবির মিল পাওয়া যায় একেরপর এক ঘটে যাওয়া ঔষধ কেলেঙ্কারিতে। গতবছরের (১৯ নভেম্বর) বুধবার ভোর বেলায় এমনই এক ঘটনার স্বাক্ষী হয় সাতক্ষীরাবাসী। সেদিন ভোর বেলায় সাতক্ষীরা বাইপাস সড়কের পাশে খড়িবিলা সংলগ্ন এলাকায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্বেচ্ছাসেবক মো. শাহিনুর ইসলামের ভাড়া বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ঔষধ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। মো. শাহিনুর ইসলামের বক্তব্য অনুযায়ী ঔষধকান্ডে ডাক্তার থেকে শুরু করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফার্মেসি বিভাগের প্রধান মো. গোলাম হোসেন, ফার্মেসি স্টাফ আক্তারুল ইসলামসহ অন্যান্য স্টাফদের জড়িত থাকার কথা জানা যায়।’
এদিকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফার্মেসি বিভাগে কর্মরত আক্তারুল ইসলামের বক্তব্যে জানা যায়, হাসপাতালে ডাক্তারদের সহকারী হিসেবে যেসব স্বেচ্ছাসেবক এবং আউটসোর্সিং স্টাফ আছেন তাদের অধিকাংশই ডাক্তার সিল ব্যবহার করে ডাক্তারের স্বাক্ষর নকল করে ঔষধ সংগ্রহ করেন স্টাফরা। তাদেরকে ঔষধ দিতে অস্বীকৃতি জানালে অনেকসময় ডাক্তারদের ফোন ধরিয়ে দেন সেসব স্টাফরা। ফলে ফার্মেসি বিভাগের কর্মচারীরা অসহায় হয়ে ঔষধ দিতে বাধ্য হন।’ সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফার্মেসি বিভাগের ইনচার্জ মো. গোলাম হোসেন জানান, ‘ডাক্তারের স্লিপ ছাড়া তারা কাউকে ঔষধ দেন না। তবে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্বেচ্ছাসেবক মো. শাহিনুর ইসলামের ভাড়া বাড়িতে কীভাবে এত ঔষধ গেলো সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।’ মো. গোলাম হোসেন আরও জানান, ‘আগামীতে যাতে হাসপাতালের কোন স্টাফ ঔষধ তুলতে না পারে সে বিষয়ে পরিচালক মহোদয়ের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এর আগে ২০২৫ সালের ৩১ মে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে পুরাতন সাতক্ষীরা (কলবাগান পাড়া) এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ঔষধ সহ মো: রাজীব উদ্দীন নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে সাতক্ষীরা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা সাদেক আলী গাজীর ছেলে এবং সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতেন।
সাতক্ষীরা সচেতন মহলের দাবি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সরকারি ঔষধ কোথায় যায়, প্রতি মাসে কি পরিমাণ ঔষধ আসে, প্রতিদিনি কতগুলো ঔষধ সরবরাহ করা হল এবং কতগুলো ঔষধ স্টকে আছে তার হিসাব ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ডে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করলেই ঔষধ সরবরাহ সুনিশ্চিত হবে। সরকারপ্রদত্ত ঔষধ সুবিধা আর প্রশ্নবিদ্ধ হবে না, অপরাধীরা অপরাধ করার সুযোগ পবে না। এ ব্যপারে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং বিগত সময়ে ঘটে যাওয়া ঔষধ কেলেঙ্কারির বিষয়ে যথাযথ অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
এ বিষয়ে কথা বলতে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা: কুদরত-ই-খুদার মোবাইলে ফোন দিলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

No comments