ads

শিরোনাম :

শ্যামনগরে ‘ভোল পাল্টে’ ধরাছোঁয়ার বাইরে আ.লীগ নেতা নুর ইসলাম রনি, অর্থ আত্মসাৎ ও রহস্যজনক নীরবতায় জনমনে ক্ষোভ।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :


সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ৯ নম্বর বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নে দীর্ঘ ১৭ বছরের আওয়ামী দুঃশাসনের অন্যতম সহযোগী হিসেবে পরিচিত মোঃ নুর ইসলাম রনি (পিতা- এবাদুল মোল্লা, গ্রাম- আবাদ চন্ডিপুর) এখন এলাকায় রহস্যজনকভাবে সক্রিয়। ভুয়া সমিতি ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা এবং তাকে গ্রেপ্তার না করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।



অনুসন্ধানে জানা যায়, নুর ইসলাম রনি একাধারে বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, শ্যামনগর উপজেলা বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক এবং ৯ নম্বর বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতির মতো প্রভাবশালী পদে আসীন ছিলেন। এই পদ-পদবি ব্যবহার করে তিনি এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত দিনগুলোতে তার দাপটে সাধারণ মানুষ শান্তিতে ঘুমানোর পরিবেশ পর্যন্ত হারিয়েছিল।



রনির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ—তিনি একটি ‘ভুয়া সমিতি’ গঠন করে এলাকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা আমানত হিসেবে সংগ্রহ করে তা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়াও আওয়ামী লীগের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে চাকরি দেওয়া বা সরকারি সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, আত্মসাৎকৃত টাকা উদ্ধারের কোনো পথ না পেয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।



৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী সরকার পতনের পর নুর ইসলাম রনি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। ভারতে অবস্থানকালেও তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে উস্কানিমূলক পোস্ট দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেন। তবে সম্প্রতি এক ‘অদৃশ্য শক্তির’ মাধ্যমে তিনি পুনরায় এলাকায় ফিরে আসেন। এলাকায় ফিরে এসেই তিনি নিজের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে আগের বিতর্কিত পোস্টগুলো সরিয়ে ফেলে নতুন সাজে বসবাসের চেষ্টা করছেন।



শ্যামনগর থানার অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হলেও রনি কেন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে—এ নিয়ে এলাকায় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, রনি এলাকায় ফিরে আওয়ামী লীগের পক্ষে গোপন তৎপরতা চালাচ্ছেন। এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) একটি বক্তব্য সাধারণ মানুষকে আরও ক্ষুব্ধ করেছে। ওসি জানিয়েছেন, “সে যদি আওয়ামী লীগ করে এবং কারো ওপর নির্যাতন না করে, তাহলে সে এলাকায় থাকবে।” ওসির এমন বক্তব্যকে আওয়ামী দোসরকে রক্ষার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।



স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রনি এখন ‘রাজনৈতিক রং’ বদলে নিজেকে নিরাপদ করার চেষ্টা করছেন। তবে তার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের যে মামলা ও অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোতে পুলিশি পদক্ষেপ না নেওয়া হলে বড় ধরনের সামাজিক অস্থিরতার আশঙ্কা করছেন তারা। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের প্রতি জনগণের দাবি—অতি দ্রুত এই আওয়ামী দোসর ও অর্থ আত্মসাৎকারীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক।

No comments