নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা জেলায় অর্শ, পাইলস, ভগন্দর, এনাল ফিশার, ফিস্টুলা ও পলিপাসসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দেওয়ার নামে দীর্ঘদিন ধরে এক ব্যক্তি পাইলস্ ডক্টর চেম্বারের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে একাধিক চেম্বার পরিচালনা করছেন এমন অভিযোগ উঠেছে ডা. এম আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। স্থানীয়ভাবে পরিচিত এই ব্যক্তি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করছেন সচেতন মহলের একাংশ, যা নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা পারুলিয়া বাসস্ট্যান্ডের সামনে সিঙ্গার শোরুম সংলগ্ন একটি চেম্বারে প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত রোগী দেখেন তিনি। এছাড়া কালিগঞ্জ উপজেলার মৌতলা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এবং কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা কলেজের সামনে প্রতি সোমবার একই সময়ে রোগী দেখার তথ্য পাওয়া গেছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে তার ডজনখানেক চেম্বার রয়েছে বলেও দাবি করছেন স্থানীয়রা, যেখানে পাইলস ও সংশ্লিষ্ট রোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
রোগীদের দেওয়া ব্যবস্থাপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সেখানে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে বিএসএস (সমাজবিজ্ঞান) এবং ডিইউএমএস (ডিপ্লোমা ইন ইউনানী মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি)। চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে রোগ নির্ণয়, ওষুধ প্রদান বা চিকিৎসাপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC) নিবন্ধনপ্রাপ্ত এমবিবিএস চিকিৎসক হওয়া প্রয়োজন। ফলে তার চিকিৎসা কার্যক্রমের আইনি বৈধতা এবং এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পাইলস বা অর্শের মতো রোগ অনেক সময় সাধারণ মনে হলেও ভুল চিকিৎসা বা বিলম্বিত চিকিৎসার কারণে গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই অননুমোদিত চিকিৎসা কার্যক্রম রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একাধিক রোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও চিকিৎসা পদ্ধতি দেওয়া হলেও সেগুলোর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি সম্পর্কে তারা স্পষ্ট ধারণা পাননি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক নজরদারির বাইরে থেকে এই কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। এতে সাধারণ মানুষ সহজে আস্থা পেয়ে চিকিৎসা নিতে আগ্রহী হচ্ছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে এম আমিরুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি কোন বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি বলে জানা গেছে।
সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুস সালামের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার এই সম্পর্কে জানতে হবে। আপনি বললেন আমি হুট করে বক্তব্য দিতে পারি না। ঠিক আছে ভালো থাকবেন। বলে তড়িঘড়ি করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। আবার অনেকে দাবি করছেন- সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন কে ম্যানেজ করে জেলা জুড়ে এই সকল হাতুড়ি ডাক্তাররা অবৈধভাবে তাদের এই কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন।
দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: সাইফুল ইসলামের নিকট পাইলস্ ডক্টর চেম্বার বিষয়ে কথা হলে তিনি আশ্বস্ত করেন আগামীকাল আমি ওইখানে যাবো। সম্ভবত এই নামে কোন রেজিস্ট্রেশন নেই। বিষয়টি শুনেছি ব্যবস্থা নিবো। জনস্বাস্থ্য ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি মনে করছেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা প্রয়োজন। তাদের মতে, যদি কোনো অনিয়ম বা আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, না হলে রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।
সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, চিকিৎসা সেবার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রশাসন ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সমন্বিত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরার দাবি উঠেছে।
হাতুড়ে ডাক্তার আমিরুল ইসলামকে নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন সাংবাদিক নাকি ডাক্তার
Reviewed by DAINIK SHOMOY BARTA
on
February 14, 2026
Rating: 5
No comments