অসত্য সংবাদ প্রচারের বিরুদ্ধে তথ্য মন্ত্রণালয় ও প্রেস কাউন্সিলে ডিপিএইচইর চিঠি ভিত্তিহীন প্রতিবেদন প্রকাশে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই)-এর কার্যক্রম ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জড়িয়ে ধারাবাহিকভাবে ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলে পৃথক দুটি চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে প্রতিকার চেয়ে রাজধানীর রমনা থানায় দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিপিএইচই।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি থেকে নিয়মিত অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা সরকারের ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রমাণ চাইলে সংশ্লিষ্ট নামসর্বস্ব অনলাইন মাধ্যমগুলো কোনো গ্রহণযোগ্য তথ্য উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও জিডিতে উল্লেখ করা হয়।
ডিপিএইচই অভিযোগ করেছে, সরকারি নিবন্ধনবিহীন কিছু ব্যক্তিনির্ভর অনলাইন পোর্টাল মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গল্প প্রকাশ করে সেগুলোর লিংক হোয়াটসঅ্যাপসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। এতে একদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক পরিবেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
সংস্থাটি জানায়, গত ২ জানুয়ারি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে—কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধনে কিছু অনলাইন পোর্টাল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অসত্য ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করছে, যা কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য দিয়ে কনটেন্ট তৈরি করা হচ্ছে, ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ও সাইবার নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে এবং তারা সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন।
ডিপিএইচইর দাবি, গত ২৯ জানুয়ারি ‘৫ কোটিতে পদ দখল’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সংস্থার কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে জানান, উক্ত অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারলে তারা দায় নিতে প্রস্তুত রয়েছেন।
ডিপিএইচই আরও জানায়, একটি নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টাল থেকে নিয়মিতভাবে সংস্থাটিকে লক্ষ্য করে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ডিপিএইচইর প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুল আউয়াল বলেন,
‘সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সততা, স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। আমাদের সব কার্যক্রম নিয়মিতভাবে তদারকি করা হয় এবং কোনো ত্রুটি ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একটি স্বার্থান্বেষী চক্র সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে আমাদের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সমাজের দর্পণ হিসেবে গণমাধ্যমের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—যেন কোনো অসত্য বা যাচাইহীন তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে মানুষ বিভ্রান্ত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

No comments