খোলপেটুয়া নদীর চর দখলে নায়েব আশরাফুজ্জামান হাতিয়েছেন কোটি টাকা, নেপথ্যে দালাল সিন্ডিকেট - Dainik Shomoy Barta

Breaking

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Tuesday, February 24, 2026

খোলপেটুয়া নদীর চর দখলে নায়েব আশরাফুজ্জামান হাতিয়েছেন কোটি টাকা, নেপথ্যে দালাল সিন্ডিকেট

 


আসাদুজ্জামান নয়ন সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি :

সরকারি জমি রক্ষার দায়িত্ব যার কাঁধে, সেই ‘রক্ষক’ ই এখন ‘ভক্ষক’ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব আশরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে খোলপেটুয়া নদীর চর দখল করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি গড়ে তুলেছেন এক বিশাল ‘দালাল সিন্ডিকেট’, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ব্যক্তিগত সম্পদের পাহাড় গড়েছেন এই নায়েব।



অনুসন্ধানে জানা গেছে, নায়েব আশরাফুজ্জামান আটুলিয়া ইউনিয়নের নওয়াবেঁকী বাজার সংলগ্ন খোলপেটুয়া নদীর বিশাল চর এলাকা টাকার বিনিময়ে প্রভাবশালীদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী ও সমিল মালিক মারুফ বিল্লাহকে মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে নদীর চর দখল করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি পেরিফেরিভুক্ত জমি এভাবে ব্যক্তিমালিকানাধীন দখলে দেওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন— "সরকারি কর্মকর্তা হয়ে তিনি কীভাবে নদীর বুক চিরে দখলদারিত্বের সুযোগ করে দেন?"



সূত্র বলছে, নায়েব আশরাফুজ্জামান একা নন, তার আশেপাশে একঝাঁক ‘বিশ্বস্ত দালাল’ পুষে রেখেছেন। এদের মধ্যে ‘শাহাদাৎ’ নামের এক দালালের মাধ্যমে তিনি প্রতিটি প্লট ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি করছেন। সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে ভুয়া কাগজপত্র ও মৌখিক আশ্বাসে এই কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তিকে ম্যানেজ করে এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের টাকার বিনিময়ে চুপ করিয়ে তিনি এই সাম্রাজ্য চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।



একজন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার বেতন কত? সেই প্রশ্ন এখন সবার মুখে। জানা গেছে, নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা এই নায়েবের বর্তমান মাসিক হাত খরচই প্রায় ৫ লাখ টাকা। সাতক্ষীরা শহরের প্রাণকেন্দ্রে রাজ হোটেলের পাশে ১ কোটি ২ লাখ টাকার দ্বিতল বাড়ি, আমতলা মোড়ে ৭৫ লাখ টাকার বাড়ি ও দোকান এবং সুলতানপুরে শ্বশুরের নামে ৬০ লাখ টাকার আম বাগান— এই বিপুল সম্পদের উৎস কী, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।



বর্তমানে এই নায়েবের দুর্নীতির মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, স্থানীয়রা এখন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। যদিও ইতোমধ্যে বিভিন্ন দপ্তরে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে, কিন্তু অদৃশ্য কারণে তিনি এখনো বহাল তবিয়তে তার ‘আলাদিনের চেরাগ’ চালিয়ে যাচ্ছেন।

"আমরা অসহায়। সরকারি জমি নায়েব নিজেই বিক্রি করে দিচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসন চুপচাপ থাকায় দখলদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।" — নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় বাসিন্দা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নায়েব আশরাফুজ্জামানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের দাবি, তার সম্পদের সুষ্ঠু তদন্ত করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।


আসছে তৃতীয় পর্ব...

নায়েব আশরাফুজ্জামানের এই অবৈধ সাম্রাজ্যের আরও গোপন তথ্য, কোন কোন রাঘববোয়াল এর ভাগ পাচ্ছেন এবং নথিপত্র জালিয়াতির রোমহর্ষক সব তথ্য ফাঁস করা হবে আগামী পর্বে। চোখ রাখুন।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages