ads

শিরোনাম :

শ্যামনগরে ত্রাসের রাজত্ব ও নিয়োগ জালিয়াতি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা রাজ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

 

নিজস্ব প্রতিবেদক সাতক্ষীরা :


সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ৯ নং বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নে ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি, ভূমি দস্যুতা এবং সরকারি হাসপাতালের ওষুধ চুরির এক ভয়াবহ সাম্রাজ্য গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের স্থানীয় সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন রাজের বিরুদ্ধে। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ হলেও এই নেতার দাপট ও রহস্যজনকভাবে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।


অনুসন্ধানে জানা যায়, আল-আমিন রাজের উত্থানের পেছনে রয়েছে জালিয়াতির এক অভিনব কৌশল। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে 'আউটসোর্সিং' পদ্ধতিতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে প্রবেশ করে পরবর্তীতে মোটা অংকের আর্থিক লেনদেন ও রাজনৈতিক প্রভাবে নিজের পদটি স্থায়ী করে নেন তিনি। নিজেকে সরকারি কর্মচারী পরিচয় দিলেও মূলত তিনি হাসপাতালের সরকারি ওষুধ পাচারকারী চক্রের মূল হোতা বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, হাসপাতালের বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ চুরি করে রাজ তার আবাদ চন্ডিপুর গ্রামের 'মোল্লাবাড়ি মোড়ে' অবস্থিত নিজস্ব ফার্মেসিতে বিক্রি করেন। এই ফার্মেসি পরিচালনা করেন তার ছোট ভাই আমিনুর রহমান। এই ওষুধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের প্রাপ্য চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।


আল-আমিন রাজের ক্ষমতার মূল খুঁটি ছিল তার শ্বশুরবাড়ি। তার শ্বশুর আনসার আলী সাবেক এমপি আতাউল হক দোলনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং শ্যালক অয়েজ উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ায় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় রাজত্ব কায়েম করেন তিনি। সাধারণ মানুষের জমি দখল এবং ঘের দখল ছিল তাদের নিত্যনৈমিত্তিক কাজ। ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতিবাদ করলে ছাত্রলীগের ক্যাডার বাহিনী দিয়ে চলত অমানবিক নির্যাতন।


রাজের পিতা আবু দাউদ তরফদারের বিরুদ্ধেও পাহাড়সম অভিযোগ রয়েছে। আবাদ চন্ডিপুর হাই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য থাকাকালীন তিনি স্কুলের উন্নয়ন তহবিল তছরুপ এবং শিক্ষক নিয়োগের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বাবা-ছেলের এই অবৈধ উপার্জিত অর্থে নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ ও জমি কেনা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।


ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পর নিজেকে আড়াল করতে রাজ ও তার পরিবার নতুন কৌশল নিয়েছেন। বর্তমানে তার পিতা আবু দাউদ তরফদার স্থানীয় বিএনপি সমর্থিত ইউপি সদস্য আবিদ হাসানের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে এলাকায় পুনরায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা হয়েও রাজ কেন এখনও আইনের আওতায় আসছেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও রাজের নিয়োগের বিষয়টি এবং ওষুধ চুরির সিন্ডিকেট খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি—অবিলম্বে আল-আমিন রাজকে গ্রেপ্তার, তার অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং দখলকৃত জমি প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দিতে হবে।

No comments