কালিগঞ্জ থানায় ‘পুলিশ ক্লিয়ারেন্স’ বাণিজ্য মামলার তথ্য গোপন করে আসামিকে বিদেশ পাঠানোর অভিযোগ - Dainik Shomoy Barta

Breaking

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Monday, February 16, 2026

কালিগঞ্জ থানায় ‘পুলিশ ক্লিয়ারেন্স’ বাণিজ্য মামলার তথ্য গোপন করে আসামিকে বিদেশ পাঠানোর অভিযোগ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক সাতক্ষীরা :



সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ থানায় ‘পুলিশ ক্লিয়ারেন্স’ বা অপরাধমুক্ত সনদ নিয়ে ভয়াবহ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। থানার কম্পিউটার অপারেটর পিয়াসের বিরুদ্ধে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণ করে একাধিক মামলার আসামিকে দেশত্যাগের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এক ভুক্তভোগী। এমনকি মামলার নথি ও জিডি থাকা সত্ত্বেও তথ্য গোপন করে এই ছাড়পত্র প্রদান করা হয়েছে।



অনুসন্ধানে জানা যায়, কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের মদপুর গ্রামের নুর আলী মোল্লার মেয়ে মঞ্জুয়ারা বেগমের নামে আদালতে একাধিক সিআর (CR) মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তিনি ‘পুলিশ ক্লিয়ারেন্স’-এর জন্য আবেদন করেন। গত ৩ জুন ২০২৫ তারিখে আবেদন করার মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় ১৭ জুন থানা থেকে রহস্যজনকভাবে ক্লিয়ারেন্স সনদ বাগিয়ে নেন তিনি।

মঞ্জুয়ারার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার বাদী কাজী আব্দুস সালাম অভিযোগ করেন, আসামি যেন কোনোভাবেই দেশত্যাগ করতে না পারেন, সেজন্য তিনি নিজে কালিগঞ্জ থানায় গিয়ে মামলার সমস্ত নথিপত্র কম্পিউটার অপারেটর পিয়াসের হাতে তুলে দেন এবং একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।



ভুক্তভোগী আব্দুস সালাম সাংবাদিকদের জানান, "আমি নিজে পিয়াসের কাছে গিয়ে মামলার কফি দিয়ে আসি যাতে ক্লিয়ারেন্স না পায়। পিয়াস আমার কাছ থেকে ২ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে সে এটা আটকে দেবে। কিন্তু পরবর্তীতে জানতে পারি, বড় অংকের টাকার বিনিময়ে পিয়াস কোনো তদন্ত ছাড়াই তাকে ক্লিয়ারেন্স দিয়ে দিয়েছে। এমনকি এর সাত দিন পর ২৪ জুন থানায় তার বিরুদ্ধে আরও একটি এফআইআর (FIR) মামলা হয়।"



বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা অভিযুক্ত কম্পিউটার অপারেটর পিয়াসের মুখোমুখি হলে তিনি প্রথমে ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে প্রমাণের মুখে তিনি স্বীকার করেন যে তিনি ক্লিয়ারেন্স দিয়েছেন। পিয়াস দাবি করেন, "অনলাইনে সার্চ দিয়ে আমি কোনো মামলা পাইনি এবং তিনি একটি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।"

তবে প্রশ্ন উঠেছে, একজন কম্পিউটার অপারেটর কীভাবে একজন তদন্তকারী কর্মকর্তার (IO) ভূমিকা পালন করলেন এবং ডিএসবি (DSB) ভেরিফিকেশন বা মাঠ পর্যায়ের তদন্ত ছাড়াই নিজ সিদ্ধান্তে ছাড়পত্র ইস্যু করলেন?



এ ঘটনায় স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী কাজী আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, পুলিশের সেবাকে কলুষিত করা এবং আসামিকে পালানোর সুযোগ করে দেওয়ার দায়ে তিনি সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার (SP) এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স সিকিউরিটি সেলে লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, একজন কম্পিউটার অপারেটরের হাতে থানার এমন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থের বিনিময়ে ছাড়পত্র দেওয়ার ঘটনা পুলিশের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এ বিষয়ে দ্রুত বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।

এটা আমাদের প্রথম পর্ব দ্বিতীয় পর্বের জন্য আমাদের সাথে থাকুন।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages