ads

শিরোনাম :

মাদকের ছোবলে নবাবগঞ্জে অপরাধ বৃদ্ধি




মাদকের ছোবলে নবাবগঞ্জে অপরাধ বৃদ্ধি

প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি, অভিযুক্ত চোরচক্রের সদস্য পলাতক


নিজস্ব প্রতিবেদক, নবাবগঞ্জ (ঢাকা):

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের পাতিলঝাপ গ্রা

মে মাদকসেবনের ভয়াবহ প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মাদকাসক্তির সঙ্গে জড়িয়ে পড়া এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ চুরি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং এলাকায় সামাজিক অবক্ষয় ছড়িয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, একই গ্রামের শাহজাহান মৃধার ছেলে হাসান মৃধা দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত এবং তার কর্মকাণ্ডে এলাকায় অপরাধ প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মাদকাসক্তির কারণেই সে একাধিক চুরির ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছে এবং একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিচালনা করছে।

সর্বশেষ গত ১৬ মার্চ দিবাগত রাতে কাতার প্রবাসী আশিক খানের বাড়িতে একটি দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। ওই সময় আশিক খানের মা ও স্ত্রী হ্যাপি আক্তার লাইলাতুল কদরের নামাজ আদায় করছিলেন। সুযোগ বুঝে দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করে আসবাবপত্র তছনছ করে এবং মূল্যবান স্বর্ণালংকার খুঁজতে থাকে।

নামাজ শেষে হ্যাপি আক্তার ঘরে ফিরে সবকিছু এলোমেলো দেখতে পান। পরে রান্নাঘরে গেলে তিনি অভিযুক্ত হাসান মৃধাকে দেখতে পান। তাকে চিনে ফেলায় অভিযুক্ত তার গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে ৫ লাখ টাকা দাবি করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। হ্যাপি আক্তার চিৎকার করলে তার গলায় থাকা প্রায় দেড় ভরি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় আরও কয়েকজন সহযোগীকে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে দেখা যায়।

ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত হাসান মৃধা ও তার সহযোগীরা পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার নবাবগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, হাসান মৃধা দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন করে আসছে এবং তার পরিবারেও মাদকসেবনের প্রবণতা রয়েছে। এমনকি তার বাবা বয়স্ক হওয়া সত্ত্বেও গাঁজা সেবন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, এই মাদকাসক্তির প্রভাবেই গ্রামের উঠতি বয়সী তরুণরা ধীরে ধীরে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে, যা সামাজিকভাবে অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

অভিযুক্তের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অতীতেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল এবং স্থানীয়ভাবে তাকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। অভিযুক্তের স্ত্রী দীপা খাতুন বলেন, “আমার স্বামী মাদক বিক্রি করে না, তবে সে মাদক সেবন করে। এর আগেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, তখন এলাকাবাসী তাকে সংশোধনের সুযোগ দিয়েছিল। এবারও যদি সে এমন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

এলাকার ইউপি সদস্য আয়নাল মেম্বার বলেন, “আমাদের এলাকায় মাদকসেবন একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ এতে জড়িয়ে পড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা স্থানীয়ভাবে বিষয়টি প্রতিরোধের চেষ্টা করছি। অভিযুক্ত যদি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।”

নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ার আলম জানান, “ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এলাকাবাসী দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং মাদকসেবনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে সামাজিক অবক্ষয় আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

No comments