শ্যামনগরে তেল সংকটের সুযোগে দুর্ধর্ষ ছিনতাই চক্র ‘ত্রাস’ সাঈদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ জনজীবন - Dainik Shomoy Barta

Breaking

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Monday, April 13, 2026

শ্যামনগরে তেল সংকটের সুযোগে দুর্ধর্ষ ছিনতাই চক্র ‘ত্রাস’ সাঈদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ জনজীবন

 


নিজস্ব প্রতিবেদক, 


সারাদেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের সুযোগে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী ও ডাকাত চক্র। বিশেষ করে বংশীপুর লস্কর পাম্প এলাকায় তেলের জন্য অপেক্ষমাণ সাধারণ মানুষ ও দূরপাল্লার যাত্রীদের টার্গেট করে প্রতিনিয়ত ঘটছে মোবাইল ও টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা। এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে উঠে এসেছে স্থানীয় শেখপাড়া গ্রামের ফারুক মিস্ত্রির ছেলে ‘চিহ্নিত চোর’ সাঈদের নাম, যার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা থাকলেও সে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।


গত শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে বংশীপুর লস্কর পাম্পে তেলের সিরিয়াল দিতে আসা এক যুবকের সাথে ঘটে চাঞ্চল্যকর ছিনতাইয়ের ঘটনা। সোনার মোড় সংলগ্ন এলাকায় ক্লান্ত ওই যুবক যখন মোটরসাইকেলে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, তখন সাঈদসহ তিনজনের একটি দল সেখানে হাজির হয়। জরুরি কথা বলার অজুহাতে ফোন চেয়ে নিয়ে কৌশলে যুবকের মোবাইল এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয় তারা। প্রাণভয়ে ওই যুবক তখন চুপ থাকলেও পরে পাম্প কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরদিন সকালে এলাকাবাসী সাঈদকে পাম্পের আশেপাশে ঘুরতে দেখে তাকে গণধোলাই দেয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় একটি রাজনৈতিক দলের (বিএনপি) নাম ব্যবহারকারী একটি সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী কৌশলে তাকে জনতার হাত থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।



স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সাঈদ একজন পেশাদার অপরাধী। তার অপরাধের পরিধি কেবল পাম্প এলাকাতেই সীমাবদ্ধ নয়

 সম্প্রতি ঢাকা থেকে ফেরা এক যাত্রী নূরনগর যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলের তেল ফুরিয়ে গেলে সাঈদ ও তার দল তাকে একা পেয়ে সর্বস্ব লুটে নেয়।

 গত কয়েকদিনে শ্যামনগর কলেজপাড়া ও বাদঘাটায় একাধিক চুরির ঘটনায় সাঈদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।

 এই চক্রটি মেয়েদের দিয়ে সাধারণ মানুষকে ফোন করিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে নির্জন স্থানে ডেকে আনে। পরবর্তীতে অশালীন ছবি বা ভিডিও ধারণ করে ‘হানিত্রাপ’ এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।


শ্যামনগর থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. খালেদুর রহমান যোগদানের পর থেকে অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। বিশেষ করে মাদক ও চুরির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরলেও সাঈদের মতো অপরাধীদের অবাধ বিচরণে জনমনে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সাঈদ একাধিকবার গ্রেফতার হয়ে জেল খাটলেও বেরিয়ে এসে আবারও একই পেশায় লিপ্ত হয়। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর ও মানসম্মানহানির হুমকি দেওয়া হয়।


বংশীপুর ও শ্যামনগর সদর এলাকার সাধারণ মানুষ এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা অবিলম্বে সাঈদসহ তার সহযোগীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, পাম্প এলাকায় রাতের বেলায় পুলিশের বিশেষ টহল জোরদার করা হলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে।

এই দুর্ধর্ষ ছিনতাই চক্রের মূল হোতাদের দ্রুত গ্রেফতার করে জনমনে শান্তি ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শ্যামনগরের সর্বস্তরের মানুষ।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages