কালিগঞ্জ থানার ওসি জুয়েল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়; আদালতের নির্দেশ উপেক্ষার অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছে জনপদ
নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল হোসেনের বিরুদ্ধে দায়িত্বে চরম অবহেলা, পক্ষপাতিত্ব এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতার একের পর এক অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার একাধিক ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেছেন, আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বিরোধপূর্ণ স্থানে দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় থানা পুলিশের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং ওসির নিষ্ক্রিয়তা ও এড়িয়ে যাওয়ার মনোভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে অভিযোগ। বুধবার (২২ এপ্রিল- ২০২৬) সরেজমিনে ঘুরে ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের মাদকাটি গ্রামের কুয়েত প্রবাসী জাফর আলী গাজীর স্ত্রী সালমা বেগম বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধে আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা চলমান রয়েছে এবং আদালত থেকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই নির্দেশ বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত ওসি জুয়েল হোসেন কার্যত কোনো উদ্যোগ নেননি। ফলে প্রতিপক্ষ মহাব্বত ও তার ভাই জাহাঙ্গীর স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে সেখানে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণ চালিয়ে যাচ্ছেন। একাধিকবার থানায় জানানো হলেও ওসি ‘অপারগতা’ দেখিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের দুলাবালা গ্রামে আলমগীর হোসেন, তার স্ত্রী সালমা খাতুন ও প্রতিবন্ধী পিতা আবুল কালাম প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাদের অভিযোগ, বারবার ফোন করেও ওসি জুয়েল হোসেনের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এতে করে তারা প্রশাসনিক সহায়তা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হয়েছেন এবং চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
একই ধরনের অভিযোগ উঠে এসেছে শ্রীকলা গ্রাম থেকেও। আব্দুস সাত্তারের কন্যা জান্নাতুল বুশরা জানান, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ তাদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। পুলিশের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে তাদের পরিবার এখন নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে।ভুক্তভোগীদের দাবি, থানায় অভিযোগ নিয়ে গেলে অনেক সময় তা গ্রহণ করা হয় না কিংবা গুরুত্বসহকারে দেখা হয় না। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে ওসির বিরুদ্ধে, যা পরিস্থিতিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে যেখানে দ্রুত ও নিরপেক্ষ সেবা প্রত্যাশিত, সেখানে এমন উদাসীনতা সাধারণ মানুষের আস্থা ভেঙে দিচ্ছে।
এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এবং সংশ্লিষ্ট ডিআইজি’র কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ওসি জুয়েল হোসেনকে প্রত্যাহার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।তবে এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুয়েল হোসেন বলেন, “আমার দায়িত্বকালীন সময়ে বিভিন্ন অভিযোগ এসেছে এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। তবে এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।” তার এই মন্তব্যকে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের মতে, “আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের মূল দায়িত্ব। কিন্তু যখন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছ থেকেই উদাসীনতা ও জবাবদিহিতার অভাব দেখা যায়, তখন পুরো ব্যবস্থাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা ও ভুক্তভোগীদের পাশে না দাঁড়ানো শুধু দায়িত্বহীনতা নয়, এটি আইনের প্রতি অবজ্ঞার সামিল। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা জরুরি, নইলে সাধারণ মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার কঠিন হয়ে পড়বে।

No comments