রাত পোহালেই আমার পরীক্ষা, আর আজ আমার বাবা ট্রলির চাপায় নিহত
মোঃ হাফিজুল ইসলাম,সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: “রাত পোহালেই আমার পরীক্ষা, আর আজ আমার বাবা ট্রলির চাপায় নিহত”—কান্নাজড়িত কণ্ঠে এমন হৃদয়বিদারক আর্তনাদ করে সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থী পূর্ণিমা সরকার। তার এই কথায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
বুধবার (৬ এপ্রিল) বিকাল ৫টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কদমতলা বাজার সংলগ্ন এলাকায় ধান বোঝাই একটি ট্রলি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে গণেশ সরকার (৪৫) নামে এক চালকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। তিনি সদর উপজেলার বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা ও বিরিঞ্চি সরকারের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সেদিনও জীবিকার তাগিদে গণেশ সরকার ধান বোঝাই ট্রলি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। বিকেলের দিকে কদমতলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ ট্রলিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে যায়। এতে ট্রলির নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ত্রিদেব দেবনাথ জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
নিহত গণেশ সরকার পেশায় একজন ট্রলি চালক ছিলেন। তার উপার্জনেই চলত পরিবারের সব খরচ। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তিনি দুই কন্যা সন্তানের জনক। বড় মেয়ে পূর্ণিমা সরকার শিবপুর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং ছোট মেয়ে মিম সরকার বাঁশতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।
বাবার মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছে পূর্ণিমা। জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার আগের রাতে বাবাকে হারানোর বেদনা যেন তাকে বাকরুদ্ধ করে দিয়েছে। তার কান্না আর আহাজারি উপস্থিত সবার হৃদয় স্পর্শ করেছে।
স্থানীয়দের মাঝে শোক ও সহমর্মিতার আবহ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

No comments