মিডিয়া ট্রায়াল নয়, তথ্যভিত্তিক তদন্তই হোক সত্য উদঘাটনের পথ
মো:কামাল উদ্দিন :
জাতীয় ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তবে কোনো ঘটনার মূল্যায়ন আবেগ, গুজব বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের ভিত্তিতে নয়; বরং নিরপেক্ষ তদন্ত ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই হওয়া উচিত।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ব্যাগ তল্লাশির জন্য জিজ্ঞাসাবাদ ও হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত কার্যক্রমগুলো করেন এসআই শফিক এস আই মনীরের মেসেজ এর মাধ্যমে নির্দেশ পেয়ে. তবে এ বিষয়ে খুলশী থানার ওসি আরিফুর রহমানকে পূর্বে অবহিত করা হয়নি। পরবর্তীতে বিষয়টি জানার পর তিনি থানার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেন বলে জানা যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওসির বিরুদ্ধে প্রচারিত হলেও সেগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে, ওসির কথিত “চোখ নামিয়ে কথা বলো” মন্তব্যটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।আসলে তিনিবলেছেন কিনা, কিভাবে বলেছেন, এ ধরনের মন্তব্য কোন পরিস্থিতিতে এবং কী প্রেক্ষাপটে দেওয়া হয়েছিল, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। একটি উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে
যদি কোনো ব্যক্তি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কঠোর বা আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলেন, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনে কিছু প্রতিক্রিয়া আসতে পারে। তাই পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করে একটি নির্দিষ্ট মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা ন্যায়সংগত নয়। দোষ করেছে এস আই সফিক ও মনির, এখানে ওসির দোষ নেই। অথচ মিডিয়াতে শুধু ওসির ছবি আসছে,দোষীদের ছবি আসছে না কেন?
বর্তমানে বিষয়টি অনেকাংশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কাউকে দায়ী বা নির্দোষ ঘোষণা করা হলে তা এক ধরনের ‘মিডিয়া ট্রায়াল’-এর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করাই যুক্তিযুক্ত।
অতএব, প্রকৃত সত্য উদঘাটনের স্বার্থে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক তদন্ত অপরিহার্য। কে নির্দেশ দিয়েছেন, কে অভিযান পরিচালনা করেছেন এবং কার সিদ্ধান্তে ঘটনাটি ঘটেছে—এসব বিষয় যথাযথভাবে যাচাই করেই দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করা উচিত। ন্যায়বিচার তখনই নিশ্চিত হবে, যখন সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে প্রমাণ ও বাস্তবতার ভিত্তিতে, কোনো গুজব, আবেগ বা মিডিয়া ট্রায়ালের প্রভাবে নয়!
একই সঙ্গে এমন আলোচিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেক সময় কিছু তৃতীয় পক্ষ বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলার চেষ্টা করে। প্রচলিত ভাষায় যাকে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকার’ বলা হয়। তাই প্রকৃত সত্য উদঘাটনের স্বার্থে গুজব, অপপ্রচার বা ব্যক্তিগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রচারণার পরিবর্তে নিরপেক্ষ তদন্তের ফলাফলের ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।


No comments