বগুড়ার ‘ফেন্সী রিমন’ এখন সাংবাদিক পরিচয়ে করছে নানা অপকর্ম
বিশেষ প্রতিনিধি বগুড়া :
বগুড়ায় তানভীর আলম ওরফে ‘ফেন্সী রিমন’কে ঘিরে দীর্ঘদিনের নানা অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দা, সাংবাদিক ও বিভিন্ন সূত্রের অভিযোগ, একসময় মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আলোচিত এই ব্যক্তি বর্তমানে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার, প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইলিং এবং বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিতর্কের জন্ম দিচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, তানভীর আলম ওরফে ফেন্সী রিমনের বিরুদ্ধে অতীতে মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসার ঘটনা রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, ফেন্সিডিলসহ বিভিন্ন মাদক কারবারের সঙ্গে তার নাম দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ছিল। এ কারণেই স্থানীয়ভাবে তিনি ‘ফেন্সী রিমন’ নামে পরিচিতি পান বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
মাদক সংশ্লিষ্ট অভিযোগের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে ও প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নারীকে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলার পর বিয়ের ঘটনা ঘটলেও এসব সম্পর্ককে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধ ও প্রতারণার অভিযোগ ওঠে। কয়েকটি ঘটনায় নিজের অতীত কর্মকাণ্ড ও ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক একটি প্ল্যাটফর্ম পরিচালনার মাধ্যমে তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের পক্ষে নিয়মিত প্রচারণা চালাতেন তানভীর। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক আনুগত্যকে কাজে লাগিয়ে প্রশাসনিক ও সামাজিক প্রভাব অর্জনের চেষ্টা করতেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীন মহলের ঘনিষ্ঠ পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সাংবাদিকের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দ্রুত নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে সাংবাদিক পরিচয়কে সামনে নিয়ে আসেন তানভীর। পরে বগুড়া প্রেসক্লাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়ে সেই পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন মহলে প্রভাব বিস্তার শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকতার পরিচয়কে ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে আর্থিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা চালানো হয়েছে। কয়েকজন ভুক্তভোগী দাবি করেছেন, সংবাদ প্রকাশ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার ভয় দেখিয়ে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগের ঘটনাও ঘটেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত হয়নি।
জেলার কয়েকজন প্রবীণ সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল ও সম্মানজনক পেশা। ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের হাতিয়ার হিসেবে এ পেশার পরিচয় ব্যবহার করা হলে তা পুরো সাংবাদিক সমাজের জন্য বিব্রতকর হয়ে ওঠে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, তানভীর আলম ওরফে ফেন্সী রিমনের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সামাজিকভাবে প্রতিবাদও হয়েছে। যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ ও তথ্য সংগ্রহ করে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন কয়েকজন বাসিন্দা।
এলাকার একাধিক সূত্রের দাবি, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ঘনিষ্ঠ পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তার করেছেন তানভীর। তাদের অভিযোগ, এ কারণেই অতীতে বিভিন্ন অভিযোগ উঠলেও তিনি অনেক ক্ষেত্রে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছেন। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো প্রামাণ্য মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে তানভীর আলম ওরফে ফেন্সী রিমনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য জানার জন্য মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বগুড়ার সচেতন নাগরিকদের দাবি, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তাদের মতে, মাদক, প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইলিং, চাঁদাবাজি এবং সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহারের মতো অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে এবং সমাজে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হবে।
এদিকে অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তানভীর আলম ওরফে ফেন্সী রিমনের বিরুদ্ধে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ, চাঁদা দাবির অভিযোগ এবং বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের আরও তথ্য-উপাত্ত রয়েছে। এসব বিষয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। পরবর্তী পর্বে এসব অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য, নথিপত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তুলে ধরা হবে।


No comments