সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার তালা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে ঘিরে ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়মের নানা অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, জমি রেজিস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন সেবাকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। আর এই চক্রের সঙ্গে অফিসের কয়েকজন কর্মচারীর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন অফিস সহায়ক জাহাঙ্গীর। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, অফিসের দৈনন্দিন কার্যক্রমে তার প্রভাব ও দৌরাত্ম্য নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন কাজের জন্য অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়—এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ যাচাই প্রয়োজন।
অন্যদিকে, অফিসের ঝাড়ুদার মোকামকে ঘিরেও এলাকায় নানা আলোচনা রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্বল্প বেতনের চাকরি করেও তার সম্পদ ও জীবনযাপন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ তাকে ঘিরে ‘কোটিপতি’ হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তবে তার প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ, সম্পদের উৎস এবং এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও সরকারি হিসাব যাচাই করা জরুরি।
ঘুষের অভিযোগে নাজেহাল সেবাগ্রহীতারা?
স্থানীয় কয়েকজন সেবাগ্রহীতার অভিযোগ, জমি রেজিস্ট্রেশন, দলিল সংক্রান্ত কাজ কিংবা বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, অতিরিক্ত অর্থ না দিলে কাজ বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্দিষ্ট ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, লেনদেনের প্রমাণ, সরকারি রসিদ ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তা সরকারি সেবাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করবে।
‘অফিস সহায়ক’ হয়েও প্রভাবশালী—প্রশ্নের মুখে জাহাঙ্গীর
অভিযোগকারীদের বক্তব্য, অফিস সহায়ক পদে কর্মরত একজন ব্যক্তি কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কর্মকাণ্ডে এতটা প্রভাব বিস্তার করছেন—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তার দায়িত্ব ও ক্ষমতার সীমা, অফিসে তার ভূমিকা এবং সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ সত্য কি না—এসব বিষয় তদন্তের দাবি রাখে।
ঝাড়ুদার মোকামের সম্পদ নিয়ে তদন্তের দাবি
অন্যদিকে ঝাড়ুদার মোকামের সম্পদ নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তার নামে বা পরিবারের সদস্যদের নামে কোনো অস্বাভাবিক সম্পদ রয়েছে কি না, চাকরির আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য আছে কি না—তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
এক্ষেত্রে ভূমি রেকর্ড, ব্যাংক হিসাব, আয়কর নথি এবং সংশ্লিষ্ট সম্পদের বৈধ উৎস যাচাই করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
কর্তৃপক্ষের নজরদারি কতটা কার্যকর?
একটি সরকারি গুরুত্বপূর্ণ সেবাকেন্দ্রে কর্মরত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। অভিযোগগুলো সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর অভিযোগ মিথ্যা হলে তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের দায়মুক্ত করাও জরুরি।
এ বিষয়ে তালা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর ও মোকামের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনের পরবর্তী সংস্করণে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।




No comments:
Post a Comment