হানিট্রাপের অভিযোগ সেনাসদস্যের সম্মানহানি তদন্ত দাবি - Dainik Shomoy Barta

Breaking

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Tuesday, August 18, 2026

হানিট্রাপের অভিযোগ সেনাসদস্যের সম্মানহানি তদন্ত দাবি

 


মোঃ আছাদুজ্জামান লিটন 

বিশেষ প্রতিনিধিঃ


সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার যাদবপুর গ্রামের শেখ সালাউদ্দিন নামে এক ব্যক্তির ছেলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত। ওই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, সিরাজগঞ্জে মামলা দায়েরকে কেন্দ্র করে অভিযোগ উঠেছে। মামলাটি ও পরবর্তী ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেনাসদস্য ও তার পরিবারের ওপর হয়রানি, সামাজিক অপপ্রচার এবং অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তার বাবা শেখ সালাউদ্দিন।


শেখ সালাউদ্দিন অভিযোগ করেন, বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ থানাধীন মহিষচরনী এলাকার সাবিনা ইয়াসমিন তার ছেলের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ উত্থাপন করে ছেলের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল সিরাজগঞ্জ, আদলতে ৯১/২০২৪ নং মামলা দায়ের করা করেছে। এর ফলে তার ছেলে মানসিক, সামাজিক ও পেশাগতভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। আমার ছেলের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্তভার সিরাজগঞ্জ আদালত শাহজাদপুর থানার উপপরিদর্শক (এস আই) শরিফুল ইসলাম এর উপর ন্যস্ত করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে থানায় উপস্থিত হতে বললে তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্য ও একজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে থানায় যান। সেখানে তদন্ত প্রতিবেদনের পক্ষে দুই লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। তবে আমি অর্থ দিতে অসম্মতি জানাই।  যে কারনে তার ছেলের বিরুদ্ধে প্রতিকূল তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।


তিনি আরও দাবি করেন, ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও মামলা প্রত্যাহার বা বিষয়টি মীমাংসার বিনিময়ে ওই অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে ছেলে নিজেকে নির্দোষ দাবি করায় এবং এত বিপুল অর্থ দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় তারা প্রস্তাবে সম্মত হননি। 


এদিকে শেখ সালাউদ্দিনের দাবি বিচারাধীন বিষয়ে বিভ্রান্তিকর ও একপাক্ষিক প্রচারণা বন্ধে প্রয়োজনীয় ভূমিকা গ্রহণ, তার ছেলে ও পরিবারের বিরুদ্ধে চলমান হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের স্বার্থে বিষয়টির সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক তদন্ত করা হোক।


অন্যদিকে, ২০২৬ সালের ৯ জুলাই দৈনিক বরিশাল সময়, দৈনিক আজকের বরিশাল, দৈনিক সত্য সংবাদ, দৈনিক ভোরের অঙ্গীকার পত্রিকাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সাবিনা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে সেনাসদস্যদের টার্গেট করে ‘হানি ট্র্যাপ’-এর অভিযোগের কথা তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। 


সেনাসদস্য মোঃ সাদেক হাসান বলেন, ২০২৩ সালে ফেসবুকে পরিচয় হয় একসপ্তাহ তার সাথে কথা হয়, ভিডিও কলেও কথা বলি। সে এসময়ের ভিতর সে ফেসবুক আমার পরিচিতদের কাছ থেকে আমার তথ্য সংগ্রহ করে নেয়। এসময়ের ভিতর তার সাথে আমার কোনো প্রেমের সম্পর্ক হয়নি সে আমার সাথে দেখা করতে চায়। আমি অপারগতা শিকার করলে সে আমার ইউনিটে এসে আমার ইউনিট অধিনায়কের কাছে অভিযোগ করে। স্যার তাকে প্রমান উপস্থাপন করতে বললে সে(সাবিনা) ব্যার্থ হয়। অধিনায়ক স্যার বিষয়টি নিস্পত্তি করে দেন। পরে সে আমাকে মানশিক ভাবে পেইন দিতে থাকে, একপর্যায়ে মামলা করে। তার এই মিথ্যা অভিযোগ ও সম্মানহানীকর প্রচারণার কারনে আমি মানশিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি। তিনবার চিকিৎসা নিতে আমি সিএমএইচ এ ভর্তি হই, বর্তমানেও চিকিৎসাধীন আছি। আমি তদন্ত পুর্বক এই প্রতারক মহিলার বিচার দাবি করছি।


এবিষয়ে অভিযুক্ত সাবিনা ইয়াসমিন মুঠোফোনে জানান, সাদেক এর সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক ছিলো সে আমাকে বিয়ের কথা বলে দেখা করে। এরপর বিয়ে না করে কৌশলে হোটেলে আমার সাথে রাত্রি যাপন করে, সেখানে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করে। পরদিন সকালে আমাকে রেখে চলে যায়। আমার সাথে যোগাযোগ না করায় আমি তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করি, পরে তার সেনাবাহিনীর ইউনিটে যেয়ে অভিযোগ করলে সেখানে প্রতিকার পাইনি। তাই উপাই না পেয়ে মামলা করি, বিজ্ঞ আদালতে মামলা চলমান। 

তার একাধিক পুরুষের সাথে সম্পর্ক, হুমায়ুন কবির নামে একজন সেনাসদস্য চাকুরী হারিয়েছেন, জামালপুরের জুনায়েদ ক্রাইম পেট্রোল বিডি'তে আপনার নামে অভিযোগ করেছেন, গত মাসে "হানিট্রাপার সাবিনা বেপরোয়া, টার্গেট সেনাসদস্য" শিরোনামে নিউজ ইত্যাদি বিষয়ে জানতে চাইলে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন একটা মেয়ের সাথে একটা ছেলের সম্পর্ক থাকতে পারে ঝামেলাও হতে পারে আবার অন্য জায়গায় সম্পর্ক বা বিয়ে তো হতেই পারে। তাছাড়া আমি কাউকে ট্রাফে ফেলে টাকা নেইনি এবং আমার জন্য কারো চাকরি যাইনি, আমি হানিট্রাপার না সব মিথ্যা। 

সাদেকের সাথে সম্পর্কে থাকা অবস্থায় অন্য কোথাও সম্পর্কে জড়িয়েছে কিনা প্রশ্নের জবাবে সাবিনা বলেন, সাদেকের সাথে সম্পর্ক থাকা অবস্থায় সাইফুল নামে একটা ছেলের সাথে ফেসবুকে কথা(চ্যাটিং) হত। সাদেককের নামে মামলা করার এক বছর পরে সাইফুলের সাথে বিয়ে করি। স্বামীর নামে মামলা করেছেন কিনা প্রশ্নে বলেন হ্যা মামলা করেছি।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages