গোলাম শাহরিয়া :
সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার কথা থাকলেও সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে বিভিন্ন সেবার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শিশু রোগীর ছাড়পত্র (ডিসচার্জ) দেওয়ার সময় ২০০ টাকা এবং হাতের ক্যানুলা খোলার জন্য আরও ৫০ টাকা দাবি করার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন রোগীর স্বজন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নির্ধারিত কোনো সরকারি ফি না থাকলেও শিশু রোগীর ছাড়পত্র নেওয়ার সময় টাকা দাবি করা হচ্ছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ছাড়পত্র দিতে গড়িমসি করা এবং রোগীর স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
সম্প্রতি শিশু ওয়ার্ডে এক রোগীর স্বজনের কাছ থেকে ছাড়পত্রের জন্য ২০০ টাকা এবং ক্যানুলা খুলে দেওয়ার জন্য ৫০ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। টাকা নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা তাদের বেতন নেই—এমন বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই স্বজন।
এ সময় বেতন না থাকলে তারা কেন হাসপাতালে কাজ করছেন—এমন প্রশ্ন করা হলে সংশ্লিষ্টরা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দৈনিক মজুরি বা অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মরত কয়েকজন কর্মচারী রোগীদের কাছ থেকে বিভিন্ন সেবার নামে অর্থ আদায় করছেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
এদিকে, হাসপাতালের অস্থায়ী/দিনমজুরি ভিত্তিক কর্মীদের নিয়োগ ও তাদের দায়িত্ব পালনের বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব কর্মচারীর অনেকেই পর্যাপ্ত বেতন-ভাতা না পাওয়ার কথা বলে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার যৌক্তিকতা দেখানোর চেষ্টা করেন। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানে কোনো সেবার বিপরীতে অনুমোদিত ফি ছাড়া অর্থ আদায় করা হলে তা অনিয়ম হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত ওয়ার্ড মাস্টার আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি নিরসনের চেষ্টা করছি। ভবিষ্যতে এমন কাজ আর হবে না।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে কোনো কর্মচারীর কাছে জিম্মি হওয়ার পরিস্থিতি কাম্য নয়। তারা বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হাসপাতালের সেবাব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।




No comments:
Post a Comment