ঘোনায় ফসলি জমির মাটি বিক্রি
গভীর খাদের কারণে হুমকিতে গ্রামীণ সড়ক: অস্তিত্ব সংকটে কৃষি জমি
নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঘোনা ইউনিয়নের বাকাঘোজ এলাকায় ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে লিটন হোসেন নামের এক মাটি ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। ড্রেজার ও ভেকু মেশিন ব্যবহার করে জমির বুক চিরে মাটি তুলে নেওয়ায় সড়কের পাশে তৈরি হয়েছে বিশাল আকারের গভীর খাদ। এতে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে সরকারি সড়কটি ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাকাঘোজ এলাকার একটি প্রধান সড়কের কোল ঘেঁষেই ফসলি জমি থেকে অবাধে মাটি কাটা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মাটি ব্যবসায়ী লিটন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই দিনরাত ট্রাক্টর যোগে বিভিন্ন স্থানে মাটি সরবরাহ করছেন। মাটি কাটার গভীরতা এতটাই বেশি যে, তা এখন সড়কের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “যে স্থান থেকে মাটি কাটা হচ্ছে তার পাশ দিয়েই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি চলে গেছে। যেভাবে গভীর গর্ত তৈরি করা হয়েছে, তাতে সামান্য বৃষ্টি হলেই পাড় ভেঙে সড়কটি বিলীন হয়ে যেতে পারে। এছাড়া ফসলি জমির বিশাল এলাকা জুড়ে মাটি কাটার ফলে ফসলি জমির সংকট দেখা দিতে পারে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা আরো জানায়, “যে জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে সেটিও কথিত একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির এবং লিটন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় থাকার কারণে কেউ সরাসরি কথা বলতে সাহস পাচ্ছে না। তাদের শঙ্কা, এভাবে মাটি কাটা চলতে থাকলে বর্ষা মৌসুমে যাতায়াতের রাস্তাটি খাদের মধ্যে মিশে যাবে। কৃষি জমি সুরক্ষা ও বালু মহাল নীতিমালা অনুযায়ী ফসলি জমি নষ্ট করা বা জনপথের ক্ষতি করে মাটি কাটা নিষিদ্ধ থাকলেও এখানে তার কোনো প্রতিফলন নেই বলে জানান তারা।”
এ ব্যাপারে মাটি ব্যবসায়ী লিটন হোসেন জানান, ‘তার চাচা শাহিনের জমি থেকে মাটি কেটে বাড়ির উঠান ভরাট করছেন তিনি। তাছাড়া ফসল ভালো না হওয়ার কারণে এখানে মাছের ঘের করা হবে তাই মাটি কাটা হচ্ছে।’ ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়ার কথা জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘ওই এলাকার নায়েব আব্দুল বারির পরামর্শে তিনিসহ কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সাথে মৌখিকভাবে কথা বলা হয়েছে। এখানে মাটি কাটায় কোন নিষেধাজ্ঞা নেই।’
এ ব্যাপারে ঘোনা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব আব্দুল বারি মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জানান, ‘অফিস যাওয়ার পথে মাটি কাটার বিষয়টি তার নজরে আসলে মাটি ব্যবসায়ী লিটনকে মাটি কাটতে নিষেধ করেছেন।’ তিনি আরো জানান, ‘নিষেধাজ্ঞা না মানায় ৪ থেকে ৫ দিন আগে বিষয়টি এসিল্যান্ড মহোদয়কে জানানো হয়েছে।’ ফসলি জমির মাটি কেটে গভীর খাদে পরিণত করার ঘটনায় এসিল্যান্ড কার্যকরী কোন পদক্ষেপ নিয়েছেন কি’না জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘সেটা এসিল্যান্ড মহোদয় বলতে পারবেন।’
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ বদরুদ্দোজা বলেন, ‘বিষয়টি আমি দেখছি। প্রয়োজন হলে অ্যাকশানে যাবো।’

No comments