শ্যামনগরে ইস্কুল ছাত্রী অপহরণের ৪৮ ঘন্টার পরও সন্ধান মেলেনি
বিশেষ প্রতিনিধি,মোঃ আছাদুজ্জামান লিটন :
সাতক্ষীরার শ্যামনগরের ভুরুলিয়া নাগবাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী তাসনিন আক্তার তন্নি(১৪) অপহরণের ৪৮ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো উদ্ধার হয়নি।
গত রবিবার (৪মে) সকাল ৯.৩০ টায় ভুরুলিয়া নাগবাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে ভুরুলিয়া ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামের সাঈদ হোসেনের নেতৃত্বে ৩/৪ জনের একটা কিশোর গ্যাং দুইটি মোটরসাইকেল যোগে তাসনিন আক্তারকে উঠিয়ে নিয়ে যায়।
স্থানীয় ভাবে জানা যায় ভুরুলিয়া ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামের মোঃ কেরামত আলীর পুত্র সাঈদ হোসেন একজন মাদকসেবী সে এলাকার উঠতি বয়সি ছেলেদের নেতৃত্ব দেয়। সাঈদ হোসেন দীর্ঘদিন যাবত একই এলাকার মোঃ কেরামত গাজীর মেয়ে তাসনীন আক্তার তন্নিকে বিভিন্ন ভাবে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। এ বিষয় অবগত হয়ে কেরামত গাজীর পরিবারের পক্ষ থেকে সাঈদের পরিবার সহ অন্যান্য গার্ডিয়ান দের অবগত করেন কিন্তু সেগুলোকে অগ্রাহ্য করে কিশোর গ্যাং নেতা সাঈদ হোসেন তার কার্যক্রম চালাতে থাকে একপর্যায়ে সে ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে গত রবিবার তন্নিকে কৌশলে অপহরণ করে।
অপহৃত তন্নির নানা মোঃ মাহবুব হোসেন বলেন, আমি বাজার করে ফিরছিলাম নাগবাটি স্কুল মাঠের ওখানে এসে দেখি আমার নাতনীকে সাঈদ হোসেন সহ তিন চারজনের একটি দল দুইটি মোটরসাইকেলে আমার নাতনিকে উঠিয়ে নিয়ে চলে যাচ্চে। আমি হাক ঢাকা করেও তাদের থামাতে পারিনি।
অপহৃত তন্নির মা বলেন, আমার মেয়েকে নিয়ে গেছে ২দিন পার হয়ে গেছে। আমি থানায় এজহার জমা দিয়েছি। এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি। আমার স্বামী বাইরে কাজ করতে গেছে কি জবাব দেবো। আপনারা আমার মেয়েটাকে খুজে দেন। আমি ওই ছেলের(সাঈদ হোসেন) শাস্তি চাই।
ভুরুলিয়া নাগবাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ রেজাউল ইসলাম বলেন, তাসনিন আক্তার তন্নি আমার স্কুলের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সে কয়েকদিন স্কুলে আসেনি, আর আমরা এবিষয়ে অবগত না। এছাড়াও তার পরিবারের পক্ষ থেকেও আমাদের কিছু জানায়নি।
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ পিয়ার উদ্দিন বলেন, অপহৃত তন্নির মা বাদী হয়ে থানায় এজহার জমা দিয়েছেন। অভিযুক্তদের আটকসহ আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়া দিন।

No comments