পদোন্নতির পরও চেয়ার আঁকড়ে আছেন গাজীপুর এলজিইডির প্রকৌশলীরা, উন্নয়ন কাজে স্থবিরতা
ডেক্স নিউজ :
গাজীপুর জেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর-এলজিইডির চারজন প্রকৌশলী পদোন্নতি পেলেও নতুন কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে পুরোনো চেয়ারে বহাল থাকার অভিযোগ উঠেছে। এতে জেলার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ, বিল পরিশোধ ও তদারকি কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তালিকা:
১. জনাব আব্দুল বাছেদ
বর্তমান পদ: উপজেলা প্রকৌশলী, কালিয়াকৈর উপজেলা
নতুন দায়িত্ব: নির্বাহী প্রকৌশলী - চলতি দায়িত্ব
২. বেলাল হোসেন সরকার
বর্তমান পদ: উপজেলা প্রকৌশলী, কাপাসিয়া উপজেলা
নতুন দায়িত্ব: নির্বাহী প্রকৌশলী - চলতি দায়িত্ব
৩. আল-আমিন সরদার
বর্তমান পদ: সহকারী প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর, এলজিইডি, গাজীপুর
নতুন দায়িত্ব: সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর - চলতি দায়িত্ব
৪. জামাল উদ্দিন
বর্তমান পদ: সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর, এলজিইডি, গাজীপুর
নতুন দায়িত্ব: নির্বাহী প্রকৌশলী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর - চলতি দায়িত্ব
কেন এই স্থবিরতা?
সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী পদোন্নতি বা বদলির আদেশ জারির পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান বাধ্যতামূলক। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, উল্লিখিত কর্মকর্তারা পদোন্নতির আদেশ পাওয়ার পরও আগের পদেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
ফলে একদিকে পদোন্নতিপ্রাপ্ত পদগুলোতে নতুন কর্মকর্তারা যোগদান করতে পারছেন না, অন্যদিকে উপজেলা পর্যায়ে প্রকল্পের ফাইল অনুমোদন, ঠিকাদারি বিল ও মাঠপর্যায়ের তদারকি আটকে আছে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া:
কাপাসিয়ার এক ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বিল আটকে আছে। অফিসে গেলে বলে স্যার নাই, নতুন স্যারও জয়েন করেন নাই। কাগজে-কলমে উন্নয়ন চললেও বাস্তবে কাজ বন্ধ।”
কালিয়াকৈরের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “রাস্তার কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল গত মাসে। কিন্তু ফাইল নড়ছে না। শুনছি স্যার বদলি হয়েছে, কিন্তু চেয়ার ছাড়েন নাই।”
অভিযোগ রয়েছে, 'বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ'-এর আশীর্বাদপুষ্ট এই চক্রটি বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং জনমনে অসন্তোষ ছড়াতে পরিকল্পিতভাবে ফাইল আটকে রাখছে। প্রশাসনিক আদেশ বাস্তবায়নে এই অনীহা কেবল শৃঙ্খলাভঙ্গই নয়, বরং বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে এক ধরণের 'নীরব অসহযোগিতা' হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
এ বিষয়ে গাজীপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলজিইডির এক কর্মকর্তা জানান, “বদলি ও পদোন্নতির আদেশ বাস্তবায়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কিছুটা সময় লাগছে। আশা করছি দ্রুতই সবাই নতুন কর্মস্থলে যোগ দেবেন।”
প্রাসঙ্গিক তথ্য:
এই কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসার পর স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা মনে করছেন, দ্রুত এদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম আরও বড় সংকটে পড়বে।
দাবি উঠেছে তদন্তের:
সচেতন নাগরিক সমাজ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে আদেশ বাস্তবায়ন এবং উন্নয়ন কাজে গতিশীলতা ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে যোগদান না করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

No comments