ব্যবসায়ীর ক্রয়কৃত জমি মামলা চলমান অবস্থায় জোরপূর্বক দখল চেষ্টা
খান আতাউর রহমান লিটন সাতক্ষীরা প্রতিনিধ:
পাটকেলঘাটা বাজার ব্যবসায়ী রিপন ঘোষের ২০ শতাংশ ক্রয় করা জমি বেআইনিভাবে গায়ের জোরে জোর জবর দখলের তথ্য পেয়ে গতকাল ৪ঠা জুন সকাল ১১ ঘটিকার সময় ঘটনা স্থানে গেলে উক্ত ক্রয়কৃত মালিক রিপন ঘোষের বাবা প্রশান্ত ঘোষ অভিযোগ করে এই প্রতিবেদককে জানান যে,
পাটকেলঘাটা খোদ্দো, বড়বিলা মৌজার ৯৯৭ খতিয়ান যার হাল ৪৫৯৫ দাগের ২০ শতাংশ জমি গত ৩০/০৩/২০২৩ সালে আমি প্রশান্ত ঘোষ ক্রয় করি আমার পুত্র রিপন ঘোষের নামে। যার কবলা দলিল নম্বর ১৫৪৯ এটা ইসলামকাটি সাব রেজিস্ট্রি অফিস থেকে রেস্ট্রি করা হয় কেস নং ৪৯৭৩ এর ২০২২-২৩ এই জমি এসএ বরাবর মিউটেশন/নামপত্তন করে ভোগ দখল করে আসছিলো ব্যবসায়ী রিপন ঘোষ।
যার পাটকেলঘাটা ভূমি অফিসে হোল্ডিং নম্বর ২১১৪।
পরবর্তীতে তফুরা বেগম স্বামী আব্দুর রাজ্জাক ২৭/০৮/২০০৯ সালে ২৭০৪৮/১৪ এই কেস বরাবর ১০৭ নং দলিলের যার হাল খতিয়ান ২০৭৩ এবং দগ নং ৪৫৯২ এর ৩২ শতাংশ জমি ভোগ দখল করেন।
কিন্তু পরবর্তীতে ১০৭ নং ওই একই দলিল পাটকেলঘাটার নায়েব তারক চন্দ্র মন্ডল বরাবর হাজির করিয়া অন্যের খরিদ করা সম্পত্তি মিউটেশন/নামপত্তন করে নেয় তফুরা বেগম স্বামী আব্দুর রাজ্জাক।
উক্ত জমি ক্রয়কৃত মালিক ব্যবসায়ী রিপন ঘোষ পাটকেলঘাটার তফসিল অফিসে মিউটেশন করতে যেয়ে জানতে পারেন যে, তফুরা বেগম স্বামী আব্দুর রাজ্জাক একই দলিলের উক্ত জমি মিউটেশন করে খাজনা পরিশোধ করেছেন।
তাৎক্ষণিক রিপন/প্রশান্ত ঘোষ তালা পাটকেলঘাটার এসিল্যান্ড ভূমি বরাবর উক্ত সমস্যা সমাধানের জন্য ১৫০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন।
যার ১ম শুনানির দিন ধার্য ছিল ৩রা জুন ২০২৬ উক্ত দিনে এসিল্যান্ড জনাব রাহাত খান উভয় পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করেন এবং নায়েব তারক চন্দ্র মন্ডলকে সরে জমিনে যেয়ে উভয় পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা ও বর্তমান ভোগ দখল তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন।
কিন্তুু একদিন পরেই ৪ঠা জুন ২০২৬ ভোররাতে আব্দুর রাজ্জাক নিজের দখল প্রমাণ করার উদ্দেশ্যে কুল ক্ষেতের ছোট ছোট রোপন করা কুলের চারা সহ জমি চাষ করে প্রায় ২০০০০ হাজার টাকা মূল্যের ক্ষতি সাধন করেন এমনটাই অভিযোগ করেন রিপন ঘোষের বাবা প্রশান্ত ঘোষ এবং স্থানীয় পাস আউলিজমির মালিকরা।
এ বিষয়ে ঘটনা স্থান থেকে স্থানীয় বাসিন্দা জাদব ঘোষের কাছে জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান যে, আমি ২০২৩ সাল থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় ৪ বছর মতো প্রশান্তের কাছ থেকে প্রতি বছরে ১৫ হাজার টাকা দরে হারি/লিচ নিয়ে চাষাবাদ করে আসছি কিন্তু বিগত দিন পর্যন্ত কোন সমস্যা হয়নি।
উক্ত জমির পাশে থাকা স্থানীয় বাসিন্দা নিমাই ঘোষের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি নিজেই এই জমি প্রশান্তকে ২০২৩ সালে ক্রয় করতে শেষ পর্যন্ত সহযোগিতা করেছিলাম।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত দখলদার আব্দুর রাজ্জাকের মুটোফোনে একাধিক বার ফোন দিলেও তার ব্যবহৃত ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়, যার ফলে আব্দুর রাজ্জাকের কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
উক্ত ব্যাপারে পাটকেলঘাটার নায়েব তারক চন্দ্র মন্ডলের কাছে জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিবেদককে জানাই যে, আমি অভিযোগ শুনেছি এবং গতকাল ৩রা জুন উক্ত জমির ১৫০ ধারা মামলার দিন ছিল তবে মামলাটির তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় আজ আব্দুর রাজ্জাক উক্ত জমি চাষ করেছেন এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তালা পাটকেলঘাটার এসিল্যান্ড (ভূমি) জনাব রাহাত খানের নির্দেশে উক্ত ঘটনা স্থান পরিদর্শনে গেলে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি উক্ত জমির পাশে থাকা স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে, তাৎক্ষণিক আব্দুর রাজ্জাকের খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং তার ব্যবহৃত ফোনে ফোন দিলেও তিনি ফোনটা রিসিভ করেনি। এবং নায়েব আরো বলেন স্থানীয় নবীন / প্রবীণ লোকজনের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন রিপন/প্রশান্ত ঘোষ এই জমি ২০২৩ সাল থেকে ক্রায় সূত্রে শান্তি শৃঙ্খলা ভাবে ভোগ দখল করে আসছেন।


No comments