উমরপুর ইউনিয়নে কৃষি প্রণোদনা বিতরণে চরম অনিয়মের অভিযোগ, স্বজনপ্রীতি ও তথ্য গোপনের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা
ওসমানীনগর (সিলেট) প্রতিনিধি:
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে হাওরের অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত কৃষি প্রণোদনা বিতরণে গুরুতর অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
অভিযোগকারী কৃষক ও এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, জনপ্রতি ১৫ কেজি চাল ও ৩ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রস্তুতকৃত সুবিধাভোগীর তালিকায় ব্যাপক অসঙ্গতি রয়েছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নাম ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, অন্যদিকে কৃষিকাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয় এমন ব্যক্তিদের নাম তালিকায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সৈয়দ মান্দারুকা গ্রামের খলকু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তালিকা প্রণয়নের সময় স্বচ্ছতার বালাই ছিল না। প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে অন্যদের নাম ঢুকানো হয়েছে কি না, তা অবশ্যই তদন্ত হওয়া উচিত।”
একই গ্রামের সৈয়দ দবির আলী বলেন, “সরকার কৃষকদের জন্য যে প্রণোদনা দিয়েছে, তা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছানোর দায়িত্ব ছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। কিন্তু তালিকা নিয়ে যেভাবে প্রশ্ন উঠেছে, তাতে স্পষ্ট হয়েছে যে দায়িত্বশীলদের তদারকিতে চরম ঘাটতি রয়েছে।”
সৈয়দ মান্দারুকা গ্রামের সমাজ সেবক দুলাল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “সরকারের দেওয়া এই প্রণোদনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অনেক প্রকৃত কৃষক তালিকার বাইরে রয়ে গেছেন, আবার তালিকায় যাদের নাম আছে তাদের মধ্যেও অনেকের যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ। আবার ইউপি সদস্যে মোবাইল নাম্বার অন্যে নামের পাশে এটা আমরা মেনে নিতে পারছি না। আমরা দাবি জানাচ্ছি, সম্পূর্ণ তালিকা পুনরায় যাচাই করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হোক। যদি অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি বা তথ্য গোপনের প্রমাণ মেলে, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, সুবিধাভোগী নির্বাচন ও তালিকা যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা উপজেলা কৃষি বিভাগ, ইউনিয়ন পরিষদ এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি সহায়তা ভুল ব্যক্তিদের পকেটে চলে যাচ্ছে, যা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে চরম প্রতারণা।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য:
এসব অভিযোগের বিষয়ে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানিয়েছেন, তিনি ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, উপজেলা কৃষি অফিসার উম্মে তামিমা অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি জবাব না দিয়ে দায় সারা উত্তর দেন।
উমরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সহিদ মিয়া বলেন, “এটা ইউনিয়নের কৃষি অফিসের মাঠকর্মীরা জানেন। তিনিই সবকিছু করেন উমরপুর ইউনিয়নে।”
এলাকাবাসী দ্রুত নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা উদঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।


No comments