Monday, June 29, 2026

অভয়নগরে সাংবাদিক আবুল বাশারকে হত্যার উদ্দেশ্যে ককটেল হামলা অল্পের জন্য রক্ষা, প্রতিবাদে উত্তাল যশোর

 


মোঃ আবু রায়হান : যশোরের অভয়নগরে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে ফেরার পথে ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মোঃ আবুল বাশারকে লক্ষ্য করে শক্তিশালী ককটেল (বোমা) হামলা চালিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। তবে নিক্ষেপ করা ককটেলটি অলৌকিকভাবে বিস্ফোরিত না হওয়ায় তিনি নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। গতকাল রবিবার (২৮ জুন) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার নওয়াপাড়া সংলগ্ন সিরাজকাঠি নুরানী মাদ্রাসার সামনের সড়কে এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনার পর থেকে অভয়নগরসহ গোটা যশোর জেলার গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ।


আহত সাংবাদিক আবুল বাশার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে পেশাগত কাজ শেষ করে একটি যাত্রীবাহী ভ্যানযোগে নওয়াপাড়া বাজারে ফিরছিলেন তিনি। ভ্যানটি সিরাজকাঠি নুরানী মাদ্রাসার সামনে পৌঁছামাত্র পূর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা ১৫-২০ জনের একটি সুসংগঠিত সশস্ত্র অপরাধী চক্র পেছন থেকে তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি একটি শক্তিশালী ককটেল নিক্ষেপ করে।

ককটেলটি তার পিঠে আঘাত করলেও তা বিস্ফোরিত হয়নি। তবে আকস্মিক এই হামলায় চলন্ত ভ্যান থেকে ছিটকে শক্ত পিচঢালা রাস্তার ওপর আছড়ে পড়েন তিনি। এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম হয়। ঘটনার পরপরই হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরবর্তীতে ভ্যানচালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন।

বর্তমানে তিনি হাসপাতালের বিছানায় চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পতনের কারণে তার শরীরে অভ্যন্তরীণ আঘাত লেগেছে এবং তিনি তীব্র ট্রমার মধ্যে রয়েছেন।


হাসপাতালের বিছানায় কাতরাতে কাতরাতে সাংবাদিক আবুল বাশার বলেন,

"কোনো কথা বা সতর্কবার্তা ছাড়াই পেছন থেকে সরাসরি আমার পিঠ লক্ষ্য করে বোমাটি ছোঁড়া হয়েছিল। এটি কোনো সাধারণ ভয় দেখানোর চেষ্টা ছিল না, আমাকে টুকরো টুকরো করে মেরে ফেলার সুপরিকল্পিত ছক ছিল। মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে বোমাটি ফাটেনি, তাই আজ আমি বেঁচে আছি।"


খবর পেয়ে অভয়নগর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশ ও স্থানীয় জনতা ঘটনাস্থলের পাশের একটি ঝোপ থেকে অবিস্ফোরিত ককটেলটি উদ্ধার করে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সিরাজকাঠি ও এর আশপাশের এলাকাটি দিন দিন অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হচ্ছে। একজন জেলা পর্যায়ের গণমাধ্যমকর্মীর ওপর এভাবে প্রকাশ্য ও সুপরিকল্পিত হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সাম্প্রতিক সময়ে কোনো দুর্নীতি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য প্রকাশের জেরে কোনো প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে বা পেশাগত আক্রোশ থেকে এই হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


সাংবাদিক আবুল বাশারের ওপর এই বর্বরোচিত ও কাপুরুষোচিত হামলার প্রতিবাদে আজ সোমবার সকাল থেকেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন অভয়নগরের সাংবাদিক সমাজ। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, "পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি সাংবাদিকদের জীবন দিতে হয়, তবে মুক্ত গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ হবে। মাঠ পর্যায় এখন সাংবাদিকদের জন্য মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে।"

এই ঘটনায় জড়িত স্থানীয় চিহ্নিত অপরাধী চক্রের ১৫-২০ জনকে আসামি করে অভয়নগর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ আলটিমেটাম দিয়ে বলেছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে এই ‘নরপিশাচদের’ গ্রেপ্তার করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।


যোগাযোগ করা হলে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানায়, লিখিত অভিযোগটি আমলে নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া অবিস্ফোরিত ককটেলটি নিষ্ক্রিয় করার পাশাপাশি আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। হামলায় জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম মাঠে অভিযান চালাচ্ছে। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

এদিকে, সাংবাদিক আবুল বাশারের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে যশোরের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।

No comments:

Post a Comment