কালিগঞ্জ ব্যুরো ঃ সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) এর আওতাধীন কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লিমিটেড (ইউসিসিএ)-এর ৪৩তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উন্নয়ন, বাজেট ও সমবায় কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রায় ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগকে ঘিরে সদস্যদের তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের মুখে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
গত (২৮ জুন) বেলা ১১টায় কালিগঞ্জ অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউসিসিএর চেয়ারম্যান শেখ লুৎফর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা। তিনি সমবায় আন্দোলনের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সমবায়ের মূল শক্তি হলো সদস্যদের আস্থা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। এসব নীতি অক্ষুণ্ণ রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।অনুষ্ঠানের শুরুতে বিআরডিবির অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম বাজেট উপস্থাপন করেন। সাংবাদিক এম. হাফিজুর রহমান শিমুলের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আকরাম হোসেন, সাংবাদিক শেখ সাইফুল বারী সফু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ডা. শেখ শফিকুল ইসলাম বাবু, সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা লিটন কুমার ঘোষ, জুনিয়র হিসাবরক্ষক মেহেদী হাসান, প্রধান পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম, হিসাব সহকারী গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস, সমবায়ী আবুল কাশেম, বিআরডিবির সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ শাহাদাত হোসেন, সহ-সভাপতি রমেশ চন্দ্র, সমবায়ী আশরাফ হোসেনসহ অনেকে। কালিগঞ্জে বিআরডিবির সাধারণ সভায় ১৪ লাখ টাকার হিসাব চাইলেন সদস্যরা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভে উত্তাল সমবায়ীরা।
এছাড়া সমবায়ী, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে সমবায়ীদের মাঝে উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়।তবে সভার শেষ পর্যায়ে ঋণের কিস্তির প্রায় ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সামনে আসতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সদস্যরা অভিযোগ করেন, মাঠকর্মী সালাম এবং তৎকালীন বিআরডিবি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমের যোগসাজশে সমবায়ীদের জমা দেওয়া ঋণের কিস্তির অর্থ সমিতির হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অভিযোগের সুষ্ঠু নিষ্পত্তি ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দাবি করেন।
সভায় একাধিক সদস্য অভিযোগ করে এ প্রতিনিধিকে জানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে উল্টো ক্ষতিগ্রস্ত সমবায়ীদের ঋণখেলাপি দেখিয়ে বারবার নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এতে প্রকৃত ভুক্তভোগীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে তারা দাবি করেন। এ ঘটনায় সভায় হট্টগোল ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সদস্যরা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।বক্তারা বলেন, সমবায় প্রতিষ্ঠানের অর্থ সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত সম্পদ। এ ধরনের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ শুধু আর্থিক অপরাধ নয়, এটি সদস্যদের বিশ্বাস ও রাষ্ট্রের উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপরও আঘাত। তারা বলেন, দুর্নীতিবাজদের কোনো ধরনের প্রশ্রয় দেওয়া হলে সমবায় ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হবে। তাই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষী প্রমাণিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের জানান, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে ইতোমধ্যে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তারা আশ্বাস দেন।
এদিকে নিরীহ সমবায়ীদের কষ্টের টাকার হিসাব না দেওয়ায় দিনে দিনে বিষয়টি নিয়ে সমবায়দের মাঝে খোবের সৃষ্টি হয়ে তুষের আগুনের মত ভয়ংকর রূপ ধারণ করতে চলেছে।অনুষ্ঠানস্থল থেকে সমবায়ী আশরাফ প্রতিনিধিকে জানায় এ যেন শাক দিয়ে মাছ ঢাকা, দোষ করলো শাশুড়ি বউয়ের উপরে কোপ,মাঝে মাঝে সমবায়দের মাঝে রাঘববোয়ালের ভাবমূর্তি ভালো রাখার স্বার্থে সমবায়দের মন বুঝানোর মত, হাত উঁচু করে বলে বৌমা ভাত লাগবে নাকি? অন্যদিকের মাঠকর্মী সালামের হাতে গাজার কল্কে রেখে সমবায়ীদের ১৪ লাখ টাকা খেয়ে ফেলায় রাঘব বেয়াল।মাঠকর্মী সালামকে সাহস দিয়ে অপকর্মের সহযোগিতা করে শেষ পর্যন্ত তার ফোড়া যখন পেকে টনটন তখন বলে তুমি এই মত অবস্থায় দ্রুত বিদেশ চলে যাও।কারণ সালামের পদ খালি হলে নিয়োগ দিয়ে আবার চলবে ২০ লাখ টাকার বাণিজ্য।সালাম কে বিদেশ যাওয়ার জন্য সেই রাঘব বোয়াল স্থানীয় নেতাকর্মীদের সই সিল জাল করে আর ডিও জাহাঙ্গীরকে আওয়ামী লীগের দোসর সাজিয়ে স্টান্ড রিলিজ, আরডিও জাহাঙ্গীর কর্তৃক মাঠকর্মী সালামের সাসপেন্ড লেটার চেপে রেখে অফিস থেকে হাওয়া হয়ে বিদেশ যেতে সহযোগিতা এবং এই ন্যাক্কারজনক কাজকর্ম করার সহযোগিতা করি অফিসের এক অদৃশ্য শক্তি। ৪৩ তম সভায় বক্তৃতায় ফুটে ওঠে ঘুরেফিরে আওয়ামী,আওয়ামী লীগ,আওয়ামী লীগের দোশর,দোসর।আসলে কি শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায়।যায় কিন্তু মাছটা যদি প্লেটের চেয়ে বড় হয়ে যায় তখন সকলের কাছে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।ঘটনাটি ব্যাপারটি যেন তাই।ঠাকুর ঘরে কেরা রে আমি তো কলা খাইনি।সর্বোপরি কালিগঞ্জ উপজেলার বিআরডিবির অফিসটি জগখুচিরো অবস্থায় চলছে।বারোটি ইউনিয়নের সমবায়রী কৃষকেদের একদিকে অর্থের হয়রানি অন্যদিকে বুক ভরা চাপা খোপ। আমাদের দেশের সর্ব শ্রেণীর মানুষের মুখে খাদ্য তুলে দেওয়ার জীবন্ত কারিগর কৃষক।যে কৃষক তার কার্যক্রম বন্ধ করে দিলে কাল থেকে আমাদের মুখে উঠবে না খাদ্য আর সেই কৃষক কে নিয়ে হয়রানির মহা উৎসবে মেতে উঠেছে কালিগঞ্জের বিআরডিপি অফিসের সেই কুচক্রী মহল।সমবায়ীদের মাঝে একটাই কথা আসুন কৃষক কে বাঁচায় সাথে দেশকে বাঁচায়।

No comments:
Post a Comment