সাতক্ষীরার দেবহাটায় বৈধ ক্রেতাকে উচ্ছেদ করে জমি ও হ্যাচারী জবরদখলের চেষ্টা! থানায় জিডি
মোমিনুর রহমান : সাতক্ষীরার দেবহাটায় ক্রয়কৃত জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মালিককে উচ্ছেদ করে সম্পত্তি জবরদল, হামলা-ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকিসহ অপচেষ্টায় লিপ্তের অভিযোগ উঠেছে জমি বিক্রেতা ও তাদের মদদপুষ্ট একটি প্রভাবশালী পক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বৈধ ক্রেতা শামসুর রহমান খোকন দেবহাটা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডিতে তিনি জমি দখল, ভাঙচুর, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শামসুর রহমান খোকনের অভিযোগ, পারুলিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে অবস্থিত চার শতক জমি ও সেখানে গড়ে তোলা ‘ইছামতি হ্যাচারী’ নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কয়েক বছর আগে মাঝ পারুলিয়ার মৃত গোলাম আলী সরদারের ছেলে রফিক উদ্দীন আহমেদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করে ব্যবসা করে আসছিলেন তিনি। পরে একই মালিকের আরও পাঁচ শতক জমি কেনার জন্য আনরেজিস্ট্রি চুক্তিপত্রের মাধ্যমে ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম প্রদান করেন এবং জমির দখলও গ্রহণ করেন।
তবে জমির মালিক রফিক আহম্মেদের মৃত্যুর পর তার স্ত্রীসহ উত্তরাধিকারীরা লোভের বশবর্তী হয়ে ওই জমি দ্বিতীয় দফায় স্থানীয় নজরুল ইসলামের ছেলে ইব্রাহিমের নামে হেবা বিল এওয়াজ দলিল করে দিলে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে এবং আদালত শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নোটিশও জারি করেছে।
শামসুর রহমান তার জিডিতে উল্লেখ করেছেন, আদালতের নির্দেশনা ও প্রশাসনের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার উদ্যোগ উপেক্ষা করে গত ১৪ মার্চ রাতে জমির দখল নিতে হামলা চালায় ইব্রাহিম ও তার লোকজন। সেসময় তারা ইছামতি হ্যাচারির গেট ও ভবনের তালা ভেঙে ফ্রিজ, শোকেজ, খাট, আলমারি, বৈদ্যুতিক ফ্যানসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র এবং হ্যাচারিতে থাকা দুটি সোলার ও আটটি মোটর নিয়ে যায়। একই সঙ্গে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার।
জমি নিয়ে চলমান এ বিরোধ নিষ্পত্তিতে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও জমির বিক্রেতা রফিক উদ্দীন আহমেদের উত্তরাধিকারগণ ও নতুন করে হেবা বিল দলিল করে নেওয়া ইব্রাহিম শালিস বৈঠক মানছেন না। এমনকি জমি ছেড়ে না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও জিডিতে উল্লেখ করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শামসুর রহমান খোকন বলেন, ‘আমি বৈধ কাগজপত্রের মাধ্যমে জমি ক্রয় করেছি। স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু প্রতিপক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত মানছে না। উল্টো দখল ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। তাছাড়া নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে আমার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে,এবং ফেক আইডি থেকে আমাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে ,তাই আইনের আশ্রয় নিয়েছি।’
এ ঘটনায় শামসুর রহমানের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দেবহাটা থানা পুলিশ। আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন ওসি।


No comments