শিরোনাম :

সাতক্ষীরায় ‘মা মটরস’ এ ক্রেতা লাঞ্ছিত ও হুমকি, উদ্ধার করল পুলিশ

 



সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:


 সাতক্ষীরায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা পুরাতন মোটরসাইকেল শোরুমগুলোকে কেন্দ্র করে এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এই সিন্ডিকেটের হাতে ক্রেতা হয়রানি, লাঞ্ছিত হওয়া ও হুমকির ঘটনা এখন নিত্যদিনের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সর্বশেষ শহরের পলাশপোল এলাকার ‘মা মটরস’ নামের একটি শোরুমে পছন্দের মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র যাচাই করতে চাওয়ায় ক্রেতাদের আটকে রেখে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশ গিয়ে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে।


এ ঘটনায় সাংবাদিক আবু সাঈদ বাদী হয়ে শোরুম মালিক জিল্লুর রহমান ও কর্মচারী আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৩ জুন) দুপুরে পাইকগাছা থেকে সাংবাদিক মোস্তাক আহমেদ ও আবু তাহের পুরাতন মোটরসাইকেল কেনার উদ্দেশ্যে সাতক্ষীরায় আসেন। পলাশপোলের ‘মা মটরস’ শোরুমে একটি মোটরসাইকেল পছন্দ হওয়ার পর তারা সেটির বৈধ কাগজপত্র যাচাই করতে চান। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন শোরুম মালিক জিল্লুর রহমান ও তার কর্মচারী আইয়ুব আলী।


ভুক্তভোগীদের দাবি, কাগজপত্র দেখতে চাওয়ামাত্রই তাদের ওপর চড়াও হওয়া হয়। একপর্যায়ে শোরুমের সাটার নামিয়ে তাদের আটকে রেখে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। খবর পেয়ে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মা মটরস-এর মালিক জিল্লুর রহমান একসময় শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ ব্যবহার করে এলাকায় ব্যাপক ক্ষমতার দাপট দেখাতেন। তার বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন সময় চোরাচালান ও মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।


সাতক্ষীরা পৌরসভার সাবেক এক কাউন্সিলর বলেন, জিল্লুর রহমান বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে খুব অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি সবসময় পার পেয়ে যান।


মা মটরস-এর বিরুদ্ধে সাধারণ ক্রেতাদের জিম্মি করার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। রনি নামের এক ভুক্তভোগী জানান, তিনি ওই প্রতিষ্ঠান থেকে একটি এফজেট ফেজার মোটরসাইকেল কিনে এক লাখ টাকা অগ্রিম দেন। পরবর্তীতে সামান্য বকেয়া টাকার অজুহাত তুলে তিনি অনুপস্থিত থাকা অবস্থায় তার মোটরসাইকেলটি শোরুমের লোকজন জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। বিগত ১১ মাস ধরে ঘুরোঘুরি করেও তিনি গাড়ি বা টাকা কোনোটিই ফেরত পাননি। উল্টো তাকে নানা ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলাজুড়ে গজিয়ে ওঠা এই পুরাতন মোটরসাইকেল সিন্ডিকেটের পেছনে একটি বড় শক্তি কাজ করছে। চোরাই ও কাগজপত্রহীন গাড়ি কেনাবেচা এবং ক্রেতাদের ব্ল্যাকমেইল করাই এই চক্রের মূল কাজ।


এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত জিল্লুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।


সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

No comments