স্টাফ রিপোর্টার : আতিকুল ইসলাম রানা:
সাতক্ষীরা সদরের ফিংড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব শর্মিষ্ঠা সরকারের স্বামী সুশান্ত সরকারকে ব্লাকমেইল করে কয়েক দফায় প্রায় দুই লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন সুমন মূখার্জী নামের এক প্রতারক ও তার সহযোগীরা। আর এই প্রতারণার নেপথ্যে আছেন সাতক্ষীরা জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের এক সদস্য।
এদিকে ওই প্রতারক চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে এখন দিশেহারা নায়েব শর্মিষ্ঠা সরকারের পরিবার।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পরিবারের চেয়ারম্যান কন্যা শর্মিষ্ঠা সরকার। তার বয়স প্রায় ৪০ বছর। ১৭ বছর বয়সী এক পুত্র সন্তানের জননী তিনি। আছে সাজানো-গোছানো স্বামী-সংসারও। পেশায় তিনি একজন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা। সরকারী চাকুরীজীবি হিসেবে তিনি বিভিন্ন স্থানে কাজ করেছেন। বিভিন্ন সময়ে অনেকেই তার কাছে জমি সংক্রান্ত সেবা নিতে এসেছেন এবং আসেন। এরই সূত্র ধরে পরিচয় হয় সাতক্ষীরা জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের এক সদস্যের সাথে।
বিভিন্ন সময়ে নানান বিষয়ে সরাসরি এবং মোবাইলে শর্মিষ্ঠা সরকারের সাথে কথা হতো ওই স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতার সাথে।
হঠাৎ একদিন শর্মিষ্ঠা সরকারকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বসেন ওই স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা। সাথে সাথেই প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন শর্মিষ্ঠা সরকার। এরপর থেকে শুরু হয় ওই স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতার পাগলামি। প্রায়শ তিনি শর্মিষ্ঠা সরকারের অফিসে যেয়ে অফিসের টেবিলের সামনে থাকা চেয়ার অথবা বেঞ্চে বসে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করা শুরু করেন।
ঘটনাটি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে একাধিকবার কর্মস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন শর্মিষ্ঠা সরকার। বিপদ বুঝতে পেরে এসব বিষয় উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করেন শর্মিষ্ঠা সরকার। প্রেমের প্রস্তাবে প্রত্যাখাত হওয়ার পর বেপরোয়া হয়ে ওঠে ওই স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা। এমনকি শর্মিষ্ঠা সরকার যদি ওই স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতার সাথে প্রেম করে এবং তাকে বিয়ে করে তবে ওই স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মুসলিম থেকে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করবে বলেও প্রস্তাব দেন। তবে তার এসব ছেলেমি বিষয়গুলো সরাসরি প্রত্যাখান করেন শর্মিষ্ঠা সরকার। এরপর থেকে শর্মিষ্ঠা সরকারের চরিত্রহননের মিশন শুরু করেন ওই স্বেচ্ছাসেবক লীগ। নায়েব শর্মিষ্ঠা সরকারের বিরুদ্ধে মনগড়া দুর্ণীতির খবর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন এবং নিজেকে শর্মিষ্ঠা সরকারের প্রেমিক হিসাবে উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি ভূমি অফিসের একজন কর্মকর্তার সঙ্গেও ওই ভূমি সহকারী নারীর অনৈতিক সম্পর্ক আছে বলেও কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিত করা হয়। এরপর ওই স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা সাতক্ষীরার আশাশুনী উপজেলার বেউলা গ্রামের কার্তিক মুখার্জীর ছেলে সুমন মুখার্জীকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করেন এবং সুমন মুখার্জীকে দিয়ে শর্মিষ্ঠা সরকারের স্বামী সুশান্তকে ব্লাকমেইল শুরু করেন। কোন পত্রিকায় কোন প্রকার সংবাদ প্রকাশিত হবেনা এবং শর্মিষ্ঠা সরকারকে ভাল জায়গায় বদলি করে ওই স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার হাত থেকে রক্ষা করবে এমন আশ্বাস দেন। পরিবারের সম্মানের কথা চিন্তা করে শর্মিষ্ঠা সরকারের স্বামী প্রথমে ৭০ হাজার এবং পরবর্তী দুই ধাপে ৩০ হাজার করে মোট ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা সুমন মুখার্জীকে প্রদান করেন। যেটি লিখিতভাবে স্বীকারও করেছেন সুমন মুখার্জী। এছাড়া শর্মিষ্ঠা সরকারকে ব্লাকমেইল করে ওই স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় ৭০ হাজার টাকা। তবে বিধিবাম। টাকা নেওয়ার পরও ওই স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা ও সুমন মুখার্জীসহ ওই চক্র নায়েব শর্মিষ্ঠা সরকারের চরিত্রহরণে সিরিজ প্রোপাগান্ডা শুরু করেছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফিংড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব শর্মিষ্ঠা সরকার বলেন, আমার নিজের উপজেলার বাসিন্দা পরিচয় দানকারী এক অল্প বয়সী যুবক সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আমার অফিসে আসতো। কখনও কোন তদ্বির নিয়ে কখনও বা কোন কাজ ছাড়াই। তার আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে আমি এড়িয়ে চলা শুরু করি। এতে করে সে আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে নানা রকম ষড়যন্ত্র শুরু করে। এরপর সে ও তার সঙ্গী সুমন মুখার্জী আমাকে এবং আমার স্বামীকে এক প্রকার জিম্মি করে প্রায় দুই লক্ষ টাকা চাঁদাবাজি করেছে। তারপরও আমার বিরুদ্ধে মনগড়া কুরুচিপূর্ণ অন্তঃসারশূণ্য খবর তৈরি করে তা বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিচ্ছে। আমি এই ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।
এ ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত সুমন মুখার্জীর কাছে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০.৩০টার দিকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেন নাই, বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


No comments:
Post a Comment