ads

শিরোনাম :

ঘুস বাণিজ্যের দুর্নীতির অভিযোগে আটুলিয়া থেকে বদলি করা হলো ভূমি কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামানকে


নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাতক্ষীরায় একজন সরকারি কর্মচারী হয়েও সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে সরকারি জমি বন্দোবস্তের নামে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামানকে অবশেষে বদলি করা হয়েছে।

জনপ্রিয় পত্রিকা দৈনিক সময় বার্তা প্রকাশিত ৩ পর্বের ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি, অনিয়ম ও অবৈধ সম্পদ গড়ার চিত্র প্রকাশের পর প্রশাসন এ পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ মার্চ বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর মো. নাভিল হোসেন তামীম স্বাক্ষরিত এক বদলি আদেশে আটুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামানকে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বদলি করা হয়েছে। একই আদেশে বাঁশদহা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা প্রতুল জোদ্দারকে আটুলিয়া ইউনিয়নে পদায়ন করা হয়েছে। বদলি আদেশের স্মারক নম্বর ৩১.৪৪.৮৭০০.০০৬.০১.০০৬.২৫.৩৬৬

অনুসন্ধানে জানা যায়, আশরাফুজ্জামান সাতক্ষীরা শহরের প্রাণকেন্দ্রে বিলাসবহুল এলাকায় প্রায় ১ কোটি ২ লাখ টাকা মূল্যের দুইতলা বাড়িসহ জমি ক্রয় করেছেন। এছাড়াও আমতলা মোড়ে আরও একটি দুইতলা বাড়ি ও দুটি দোকান কিনেছেন, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭৫ লাখ টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, নিজের প্রকৃত আয় আড়াল করতে তিনি শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়স্বজনের নাম ব্যবহার করে সম্পদ গড়ে তুলেছেন। শহরের সুলতানপুর এলাকায় শ্বশুরের নামে প্রায় ৫ শতক জমিতে আমবাগান কেনা হয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

বর্তমানে আটুলিয়া ইউনিয়নে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

নওয়াবেঁকী বাজার এলাকায় সরকারি পেরিফেরিভুক্ত জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘শাহাদাৎ’ নামে এক দালালের মাধ্যমে প্রতিটি প্লট ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি করা হচ্ছে। সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ভুয়া কাগজপত্রের আশ্বাস দিয়ে এই অবৈধ বাণিজ্য চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একজন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার সরকারি বেতন ও বৈধ আয়ের সঙ্গে এই বিপুল সম্পদের কোনো সামঞ্জস্য নেই। অথচ তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ বিভিন্ন দপ্তরে জমা পড়লেও রহস্যজনক কারণে এতদিন কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তবে দৈনিক সময় বার্তা পত্রিকার প্রকাশিত ধারাবাহিক অনুসন্ধানী তৃতীয় পর্বের প্রতিবেদনে স্থানীয় প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরি করে। অবশেষে প্রশাসন তাকে আটুলিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

স্থানীয়রা বলছেন, শুধু বদলি নয় তার বিরুদ্ধে ওঠা অবৈধ সম্পদ অর্জন, সরকারি জমি বন্দোবস্তে অনিয়ম এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া জরুরি।

তাদের মতে, প্রকৃত তদন্ত হলে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে এবং সরকারি জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিয়মের চিত্র উন্মোচিত হবে।

No comments