ads

শিরোনাম :

সাতক্ষীরার আম ব্যবসায়ীর ১১ ক্যারেট কাঁচা আম গন্তব্যে না পৌঁছে অন্য জায়গায় বিক্রি! ইভা ট্রান্সপোর্টের ইয়াসিনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ



গোলাম শাহরিয়া:

লাইনম্যানের ‘ভুলে’ বিক্রির দাবি—ক্ষতিপূরণের আশ্বাস, তবে প্রশ্ন উঠেছে পরিবহন ব্যবস্থার জবাবদিহি নিয়ে

নিজস্ব প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা:

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিয়ার গ্রামের আম ব্যবসায়ী মো. আকতারুল ইসলাম (৩৮) অভিযোগ করেছেন, ঢাকায় পাঠানো তার ১১ ক্যারেট কাঁচা আম নির্ধারিত গন্তব্যে না পৌঁছে কাওরান বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পরিবহন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

ভুক্তভোগী আকতারুল ইসলাম জানান, প্রতি বছরের মতো চলতি মৌসুমের শুরুতে তিনি ঢাকায় আম পাঠান। সেই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা বাইপাস খড়িবেলা চৌরাস্তা থেকে গাজিরহাট জয়েন্ট ট্রান্সপোর্টের মাধ্যমে ১১ ক্যারেট কাঁচা আম ঢাকার রায়েরবাজার আড়তে পাঠানোর জন্য গাড়িতে তোলেন।

কিন্তু নির্ধারিত সময়ে মালামাল গন্তব্যে না পৌঁছালে তিনি সংশ্লিষ্ট পরিবহন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় গাজিরহাট জয়েন্ট ট্রান্সপোর্টের প্রতিনিধি ফারুক জানান, তার গাড়িতে জায়গা না থাকায় তিনি আমগুলো অন্য একটি গাড়িতে তুলে দেন। পরে ইভা ট্রান্সপোর্টের মালিক ইয়াসিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানা যায়, তার গাড়িতে করে মালামাল ঢাকায় গেলেও কাওরান বাজারে পৌঁছানোর পর ‘লাইনম্যান’ সেটি বিক্রি করে দিয়েছে।

এ বিষয়ে আকতারুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একজন ব্যবসায়ীর মাল তার অনুমতি ছাড়া বিক্রি করা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। পরিবহনের কাজ হলো নিরাপদে মাল গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া—বিক্রি করা নয়। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান চাই।”

অন্যদিকে গাজিরহাট জয়েন্ট ট্রান্সপোর্টের ফারুক বলেন, “আকতারুল ইসলাম আমাদের নিয়মিত গ্রাহক। জায়গা সংকট থাকায় মাল অন্য পরিবহনে পাঠানো হয়েছিল। পরে জানতে পারি, মাল গন্তব্যে না পৌঁছে বিক্রি হয়ে গেছে।”

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে ইভা ট্রান্সপোর্টের ভূমিকা নিয়ে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক ইয়াসিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “মাল আমার গাড়িতে গিয়েছিল। ঢাকায় আমাদের লাইনম্যান ভুল করে কাওরান বাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন ক্ষতিপূরণ দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।”


এ ধরনের ঘটনা পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির বড় ঘাটতি প্রকাশ করে। একজন মালিকের অনুমতি ছাড়া তার পণ্য বিক্রি করা শুধু অনৈতিকই নয়, আইনের দৃষ্টিতেও অপরাধ। বিশেষ করে ইভা ট্রান্সপোর্টের মতো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে—কীভাবে তাদের অধীনে থাকা ব্যক্তি এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস পায়?

স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল বলছে, এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও ব্যবসায়ী ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভুক্তভোগী আকতারুল ইসলাম এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন কোনো পরিবহন প্রতিষ্ঠান এভাবে অন্যের মালামাল বিক্রির মতো অনিয়ম করতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারির আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

No comments