Sunday, May 31, 2026

শ্যামনগরে জুয়ার টাকা আদায়ে মোটরসাইকেল কেড়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে

 


মোঃ আছাদুজ্জামান লিটন 

বিশেষ প্রতিনিধিঃ 


সাতক্ষীরার শ্যামনগরে অনলাইন জুয়ায় হেরে যাওয়ার বকেয়া টাকা আদায় করতে মোটরসাইকেল কেড়ে নেয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায়  আব্দুল হাকিম (৬০) বাদী হয়ে শ্যামনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায় উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের উত্তর আটুলিয়ার আব্দুল হাকিম (৬০) এর পুত্র নাহিদ হোসেন (২৫) দীর্ঘদিন যাবত অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। তার সাথে  একই এলাকার খোকন শেখের পুত্র মিলন শেখের সাথে অনলাইন জুয়ার লেনদেন নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত ঝামেলা চলছে। এবিষয়ে কয়েকমাস পুর্বে শ্যামনগর থানার দারোগা মোঃ সজিব ও সালিশ করেছেন। যার জের ধরে টাকা আদায়ের জন্য মোটরসাইকেল নেয়ার ঘটনা ঘটেছে। 

আব্দুল হাকিমের লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা যায় উত্তর আটুলিয়ার খোকন শেখের পুত্র  মিলন শেখ (৩৫)  কিছুদিন পূর্বে বিবাদী আমার একমাত্র ছেলে নাহিদ হোসেন (২৫) কে আমার অজান্তে জুয়ার খেলায় সম্পৃক্ত করে নেশায় পরিণত করায়। বিবাদীর নামে এর আগে জুয়ার 1xbet এর মাঠের এজেন্ট এর বিষয়ে অনেক নিউজ পেপারে নিউজ হয় কিন্তু টাকার বিনিময়ে বিবাদীকে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা তাকে আড়াল দিয়ে আসছে। জুয়া খেলার এক পর্যায়ে বিবাদীর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়। এরপর থেকে সে বিভিন্ন সময়ে আমার ছেলের নিকট টাকা দাবি করতে থাকে। যদিও বিবাদীর নিকট আমার ছেলের কিছু টাকা পাওনা ছিল বলে দাবি করা হয়, সে প্রেক্ষিতে আমি জমি বিক্রয় করে প্রায় ৩/৪ (তিন/চার) লক্ষ টাকা পরিশোধ করেছি। কিন্তু তারপরও বিবাদী আমার ও আমার পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। গত ২৯/০৫/২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে আমার ছেলে বাড়ি ফেরার পথে বিবাদী ও তার সহযোগীরা আমার ছেলের গতিরোধ করে। এক পর্যায়ে তারা ভয়ভীতি ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করে এবং আমার মালিকানাধীন মোটরসাইকেল (মডেল: DAYANG RUNNER-80 যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১,০০,০০০/-) টাকা জোরপূর্বক নিয়ে যায়। পরবর্তীতে মোটরসাইকেল ফেরত চাইলে বিবাদী আমার ছেলেকে প্রাণনাশসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির হুমকি প্রদান করে। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।  

এবিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ খালেদুর রহমান বলেন, আব্দুল হাকিম বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এবিষয়ে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Labels: , ,

Wednesday, May 27, 2026

অধ্যাপক আব্দুল ওয়ারেছের অংশগ্রহণে চেলার ডাঙ্গীতে ঈমান আলীর জানাজা সম্পন্ন

 



নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের চেলার ডাঙ্গী গ্রামের মোঃ ঈমান আলী (৬৮)-এর জানাজা নামাজ সম্পন্ন হয়েছে।


 বুধবার (২৭ মে) বাদ জোহর মরহুমের নিজ বাসভবনের সামনে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।


এসময় জানাজায় অংশগ্রহণ করেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য এবং ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল ওয়ারেছ। তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।


এসময় আরও বক্তব্য রাখেন ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতের ৭ নং ওয়ার্ড সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম, মাওলানা আরিফ বিল্লাহ, মরহুমের একমাত্র সন্তান মোঃ আবুল হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।


জানাজা নামাজে ইমামতি করেন মরহুমের নাতি মাওলানা ইয়াছিন আলী। 


পরবর্তীতে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

Labels: ,

শ্যামনগরে জমি বিরোধে সংঘর্ষ: নারীসহ একই পরিবারের ৬ জন আহত, শ্লীলতাহানির অভিযোগ

 


মোঃ আছাদুজ্জামান লিটন 

বিশেষ প্রতিনিধি ঃ


সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নারীসহ একই পরিবারের অন্তত ৬ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী মোঃ আবু হুসাইন (২৮) অভিযোগ করেন, উপজেলার মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের মথুরাপুর এলাকায় তার বাড়ির পাশের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে বুধবার (২৭ মে) ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে একদল লোক তার বসতভিটার উত্তর পাশের সীমানা পিলার উপড়ে ফেলে। এ সময় তার পিতা প্রতিবাদ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

তিনি জানান, সংঘর্ষ চলাকালে ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। একই সময়ে তার ভগ্নিপতি মোঃ বেলাল হোসেন, পিতা আব্দুল মজিদ গাজী, বোন মর্জিনা খাতুন, ভাই আবু হাসান ও ভাবী খাদিজা খাতুনও আহত হন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে কাটা ও আঘাতজনিত গুরুতর জখম হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় পরিবারের দুই নারী সদস্যের শ্লীলতাহানি করা হয়।

স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত দু’জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় আবু হুসাইন বাদী হয়ে শ্যামনগর থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।

অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে, এটি মূলত জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা। তাদের দাবি, তারা কোনো পরিকল্পিত হামলা বা শ্লীলতাহানির সঙ্গে জড়িত নন।


শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


Labels: , ,

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বজ্রপাতে এক গৃহবধূ নিহত

 


মোমিনুর রহমান:

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পার্শ্বেমারী গ্রামে বজ্রপাতে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছে।

 বুধবার সকালে এ বজ্রপাত হয়। নিহতের নাম মোছাঃ সাহানারা বেগম (৩৮)। তিনি পার্শ্বেমারী গ্রামের জাকের মোল্লার মেয়ে।


গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম বলেন, বুধবার (২৭মে) সকালে আবহাওয়া খারাপ থাকার সময় হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বাড়ির পাশের মাছের ঘেরে ছিপ দিয়ে মাছ ধরা কালে আকস্মিক বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন সাহানারা বেগম। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার উদ্যোগ নিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।


তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম। প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।


এদিকে চলমান বৈরী আবহাওয়ায় সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা, মাঠ কিংবা গাছের নিচে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Labels: ,

দুর্নীতি বাজ, চাঁদাবাজি, জমি দখল করা চলবে না বল্লেন, তালা কলারোয়ার সাবেক, এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব

 


আব্দুর রশিদ সাতক্ষীরা:


সাতক্ষীরা তালায় সদর ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে মঙ্গলবার রাত ৯টায়, এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বহু দলীয় গণতন্ত্রের  প্রবক্ত স্বাধীনতার ঘোষক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের  রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে  এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তালা কলারোয়ার সাবেক সংসদ সদস্য,এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব।তালা উপজেলা বিএনপির সভাপতি বাবু মূণাল কান্তি রায়)। তালা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, তালা মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম শফি)  এটিএম গোলাম মোস্তফা। সরদার মহব্বত হোসেন, তালা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি, ও তালা উপজেলা প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি,তালা ছায়াবিথী ক্লাবের সভাপতি সাইদুর রহমান সাইদ,তালা আনিশা ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী জোয়াদ্দার ফারুক হোসেন , রফিকুল ইসলাম দাদু ভাই, মোঃ হাফিজ , রিজভী, অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম।

উক্ত প্রস্তুতি সভার  সঞ্চালনা করেন, তালা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কলেজের অধ্যক্ষ  মোশারফ হোসেন। 

প্রমুখ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন,

Labels: ,

Tuesday, May 26, 2026

সাতক্ষীরায় প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার বিতরণ

 



মোঃ হাফিজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা :মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা–২০২৬ উপলক্ষে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার গরীব, অসহায় ও দুঃস্থ জনসাধারণের মাঝে ঈদ সহায়তা (নগদ অর্থ) বিতরণ করা হয়েছে।



মঙ্গলবার (২৬ মে ২০২৬) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে উপজেলা প্রশাসন, সাতক্ষীরা সদর-এর আয়োজনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ঈদ উপহার বিতরণের উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা-২ (সাতক্ষীরা সদর ও দেবহাটা) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মুহাম্মাদ আব্দুল খালেক। 


এসময় তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই ঈদ সহায়তা বিতরণের মাধ্যমে অসহায় মানুষের মাঝে ঈদের আনন্দ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত। সার্বিক সমন্বয় করেন উপজেলা কৃষি অফিসার মনির হোসেন।


বিশেষ অতিথি ও উপস্থিত নেতৃবৃন্দ হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন— সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আমীর মাওলানা মোশাররফ হোসেন,

শহর জামায়াতের আমীর জাহিদুল ইসলাম, সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমান,শহর সেক্রেটারি খোরশেদ আলম এবং সদর উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী সহিদ হাসান প্রমুখ।


এ সময় প্রতি উপকারভোগীকে ২,০০০ (দুই হাজার) টাকা করে ঈদ সম্মানী প্রদান করা হয়। স্বল্প সময়ের মধ্যে নির্বিঘ্নে ও কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় উপকারভোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।


এবিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি ও সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী প্রভাষক ওমর ফারুক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেকের মাধ্যমে সাতক্ষীরা পৌরসভা, সদর উপজেলা ও দেবহাটা উপজেলার মোট ৫০০ জন অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের মাঝে ঈদ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, মোট ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দের মাধ্যমে এই সহায়তা বিতরণ করা হয়, যাতে সুবিধাভোগীরা সুন্দরভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারেন। তিনি এ উদ্যোগকে একটি মানবিক ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Labels: ,

Monday, May 25, 2026

চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগে সেই জামায়াত নেতাসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা!!

 


শেখ রেজাউল ইসলাম বাবলু :

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের চলমান বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে এবার জামায়াত নেতাসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।


রোববার (২৫ মে) রাতে শ্যামনগর থানায় মামলাটি দায়ের করেন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও শ্যামনগর উপজেলা কর্ম পরিষদ ও সুরা সদস্য হাজী মো. নজরুল ইসলামকে। এছাড়া তার ছেলে আব্দুর রহমান, স্থানীয় কথিত ক্যাডার বিশ্বজিৎ মণ্ডলসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০/২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।


মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শ্যামনগরের পূর্ব দুর্গাবাটি এলাকায় জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে ডিএল-উন্নয়ন (জেভি) ও ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের পক্ষে আর-রাদ করপোরেশন। অভিযোগ রয়েছে, গত বছরের আগস্ট থেকে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন এবং কাজ বন্ধের জন্য চাপ প্রয়োগ করছিলেন।


এজাহারে বলা হয়, চাঁদা না দেওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে প্রকল্পের কাজ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। পরে বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হলে অভিযুক্তরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। গত ১৯ মে রাতে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম প্রকাশ্যে ১৫ লাখ টাকা দাবি করেন এবং কাজ চালিয়ে গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ মে দুপুরে চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, তার ছেলে আঃ রহমান ও স্থানীয় কয়েকজন মোটরসাইকেল বহর নিয়ে প্রকল্প সাইটে যান। সেখানে প্রকৌশলী জাহিদ হাসানকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। আহতদের বাধা দিতে গেলে কিউরিং ম্যান ফেরদৌসকেও মারধর করা হয়। পরে প্রকৌশলী জাহিদের হাতে থাকা একটি অ্যাপল আল্ট্রা স্মার্টওয়াচ ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।


মামলার বাদী দাবি করেন, পুরো ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ রয়েছে। আহত জাহিদ হাসান ও ফেরদৌস শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতায় প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে এবং সাইটে থাকা কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।


এর আগে গত ১৩ মে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে বলা হয়, খোলপেটুয়া, মালঞ্চ ও কালিন্দী নদীর তীররক্ষা এবং বাঁধ সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে স্থানীয়ভাবে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।


প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দাবি, বর্ষার আগে বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ করা না গেলে উপকূলীয় বিস্তীর্ণ এলাকা নদীভাঙন ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অর্থায়নের এই প্রকল্প বাধাগ্রস্ত হলে দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সবুজ আলী খান বলেন, বর্ষার আগে কাজ শেষ করা না গেলে পুরো উপকূলীয় এলাকা ঝুঁকির মুখে পড়বে। অথচ বারবার বাধা ও হুমকির কারণে কাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।


তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আর যেদিন হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে, ওই সময় আমি ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট অধিবেশনে ছিলাম।


সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(ক্রাইম এন্ড অপারেশন) মোঃ আমিনুর রহমান বলেন, সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পাওয়া যায়। এর কয়েক দিন পর আবারও প্রকল্প এলাকায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে হামলা ও মারপিটের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।


তিনি জানান, পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারে তৎপর রয়েছে। আশা করছি দ্রুতই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি সরকারের চলমান এই প্রকল্প যাতে নির্বিঘ্নে বাস্তবায়ন করা যায়, সে ব্যাপারেও পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

Labels: ,

মাওঃ মইনুদ্দীনের বিরুদ্ধে অবৈধ ক্ষমতা দখল, অর্থ আত্মসাৎ

 

ঘটনায় মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে


নিজস্ব প্রতিনিধি:


“প্রতিষ্ঠান নয় ব্যক্তি মাওঃ মইনুদ্দিন ও তার চার সিন্ডিকেট সদস্যকে অবিলম্বে গ্রেফতার করো করতে হবে” সেøাগানকে সামনে রেখে দাতা সদস্য, অবিভাবক সদস্য ও সচেতন নাগরিক এর ব্যানারে সাতক্ষীরা দারুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিম খানার মাওলানা মইনুদ্দীনের বিরুদ্ধে অবৈধ ক্ষমতা দখল, জবাবদিহিতাহীন একনায়কতন্ত্র, অর্থ আত্মসাৎ ও স্বৈরাচারী শাসনের ভয়াবহ দৃশ্য, দুই হাজার বাইশ তেইশ ও দুই হাজার তেইশ চব্বিশ দুই বছরের অডিট রিপোর্টে প্রকাশিত হওয়ায় সোমবার বিকালে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে মানব বন্ধন ও সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানব বন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা মাওঃ মইনুদ্দীনকে অবিলম্বে গ্রেফতার, এতিমদের ও মাদ্রাসার আত্মসাৎকৃত সকল অর্থ অবিলম্বে ফেরত এবং ক্ষতিগ্র¯’ শিক্ষক, শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরনের দাবি তুলে ধরেন। মানববন্ধন ও সমাবেশটি শেখ হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও মফিজুর রহমানের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন হাফেজ মাওলানা মুফিÍ ওয়াহিদুজ্জামান, আব্দুস সামাদ, শেখ রিয়াজুল ইসলাম, আব্দুল আলীম, বাপ্পি, শাহিদা খাতুন, তাসলিমা খাতুনসহ আরো অনেকে। প্রায় অর্ধ শতাধিক নারী পুরুষের অংশগ্রহনে বক্তারা বলেন মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে বক্তারা বলেন অনতিবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহন করা না হলে ঈদের পরে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

Labels: ,

শ্যামনগর পাংসের খাল পুনঃখনন কাজে বাধা ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে কৃষকদের মানববন্ধন

 



মোঃ আছাদুজ্জামান লিটন 

বিশেষ প্রতিনিধিঃ 


সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের পাংসের খাল পুনঃখনন কার্যক্রমে বাধা প্রদান এবং অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার বিকাল ৫ টায় মুন্সিগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ জনগণ। এতে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, শিক্ষক মোঃ সালাউদ্দিন, মোফাজ্জল হোসেন, কৃষক আবুল কালাম আজাদ, মাওলানা আবুজার রহমান,ওয়াজেদ আলী, ইব্রাহিম খলিল, আবুজার গাজী, আলামিন হোসেন সহ আরো অনেকে।

মানববন্ধনে মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পাংসের খাল ভরাট ও নাব্যতা সংকটের কারণে কৃষি উৎপাদন, পানি নিষ্কাশন এবং স্থানীয় জনজীবনে নানা সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এসব সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে সরকারি খাল পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হলে বেসরকারি সংস্থা সুশীলন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভিন্ন অপপ্রচার চালিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

শিক্ষক সালাউদ্দিন বলেন, সুশীলন এনজিও ভুমি খাদক এরা যে জমির উপরে চোখ দেয় সেই জমির মালিকদের দেশছাড়া করে। এই প্রভাব দেখিয়ে সরকারি খাল দখল করে পানি প্রবাহ বাধা সৃষ্টি করে আসছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী খাল খননের বাধা প্রদান করায় এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

তারা আরও বলেন, খাল পুনঃখননের ফলে এলাকার কৃষকরা উপকৃত হবেন, জলাবদ্ধতা কমবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তাই জনস্বার্থে চলমান এই কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা অপপ্রচার ও উন্নয়নমূলক কাজে বাধা প্রদানকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

পরে মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরবর্তীতে বড় ধরনের কর্মসূচি দেয়ার ঘোষণা করেন।

Labels: ,

কেশবপুরের পশুর হাটে কোরবানির আমেজ

 



বিক্রির অপেক্ষায় ১৪ হাজারের বেশি পশু, ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কায় খামারিরা


ইমরান হোসেন, যশোর জেলা প্রতিনিধি:

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে যশোরের কেশবপুর উপজেলার পশুর হাটগুলোতে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর বেচাকেনা। শুরুতে তীব্র তাপদাহের কারণে হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও সোমবার (২৫ মে) কেশবপুর বড় পশুর হাটে ছিল উপচে পড়া ভিড়। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সরব উপস্থিতিতে পুরো হাটজুড়ে বিরাজ করছে কোরবানির উৎসবমুখর পরিবেশ।


উপজেলার কেশবপুর বড় হাট, সরসকাটি, সাতবাড়িয়া, বগা, শুড়িঘাটা, ভান্ডারখোলা ও মঙ্গলকোট পশুর হাটে এখন চলছে কোরবানির পশু কেনাবেচার ব্যস্ততা। স্থানীয় খামারিদের পাশাপাশি যশোর, খুলনা, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট ও দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা গরু ও ছাগল নিয়ে আসছেন। একইভাবে দূর-দূরান্তের ক্রেতারাও ভিড় করছেন এসব হাটে।


সরেজমিনে দেখা যায়, হাটে ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত মূল্যের গরু বিক্রির জন্য তোলা হয়েছে। এছাড়া ১০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা দামের ছাগলও রয়েছে পর্যাপ্ত। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে অনেক খামারি তাদের পশুর ভিন্নধর্মী ও আকর্ষণীয় নামও রেখেছেন।


কেশবপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় কোরবানির উপযোগী গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার সংখ্যা ১৪ হাজার ৩৩১টি। এর মধ্যে গরু রয়েছে ৩ হাজার ৪৫৯টি এবং ছাগল, ভেড়া ও মহিষ রয়েছে ১০ হাজার ৮৬৪টি। উপজেলার চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত ৬৫৯টি পশু রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।


তবে পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খামারিদের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে কয়েকগুণ। এ অবস্থায় বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ার আশঙ্কায় অনেক খামারি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।


হাসানপুর গ্রামের গরু ব্যবসায়ী ওজিয়ার রহমান এবং বাউশলা গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক বলেন, “এবার স্থানীয় জাতের গরু-ছাগলের সরবরাহ ভালো। কিন্তু সেই তুলনায় বাজারে দাম কিছুটা কম। তবে ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ কম থাকায় দেশীয় খামারিরা কিছুটা সুবিধা পাচ্ছেন।”


কেশবপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অলোকেশ কুমার সরকার বলেন, “উপজেলায় অসংখ্য ছোট-বড় খামারি সারা বছর ধরে কোরবানির পশু লালন-পালন করেন। তারা যদি ন্যায্যমূল্য না পান, তাহলে ভবিষ্যতে পশুপালনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন।”


তিনি আরও বলেন, “এ বছর কোরবানির পশুর সরবরাহ সন্তোষজনক। ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ না থাকায় দেশীয় খামারিরা কিছুটা লাভবান হচ্ছেন। কেশবপুরের বড় পশুর হাটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা আসছেন। হাটে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।”

Labels: ,

Sunday, May 24, 2026

দেবহাটার কুলিয়ায় মাদক বিকিকিনির সর্গরাজ্য, প্রতিনিয়ত হচ্ছে চুরিসহ নানা অপকর্ম

 


নিজস্ব প্রতিবেদক, দেবহাটা: 

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া বাজার ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে মাদকসেবী এবং মাদক বিক্রেতাদের দাপট চরম আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে এলাকায় প্রতিনিয়ত দিন ও রাতে চুরির ঘটনা ঘটছে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুলিয়া বাজার এবং এর আশপাশের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে দীর্ঘদিন ধরে একটি চিহ্নিত মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। দিন-রাত সমানতালে চলছে মাদক বেচাকেনা ও সেবন। উঠতি বয়সের যুবক থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষ এই মরণনেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। আর এই মাদকের টাকা জোগাড় করতেই মাদকসেবীরা বেছে নিয়েছে চুরির পথ।

ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কুলিয়া বাজার এলাকায় এখন কোনো কিছুই নিরাপদ নয়। সুযোগ পেলেই দোকানের তালা ভেঙে, স্থানীয় বাড়ি ঘরের জানালা দিয়ে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা, বাইসাইকেল, দোকানের মালামাল এমনকি বাসাবাড়ির হাঁস-মুরগি, ছাগল সহ গাছের ফল পর্যন্ত চুরি হয়ে যাচ্ছে। শুধু রাতের আঁধারেই নয়, দিনের বেলাতেও মানুষ একটু অসতর্ক হলেই ঘটে যাচ্ছে চুরির ঘটনা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবীদের এই সিন্ডিকেট এতটাই বেপরোয়া যে, তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পায় না। প্রতিবাদ করলে উল্টো নানাভাবে হুমকি-ধমকি ও হেনস্তার শিকার হতে হয়। ফলে অনেকেই ক্ষয়ক্ষতি সহ্য করেও মুখ বুজে থাকছেন।

কুলিয়া বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, কুলিয়া শহীদ মিনারে পাশে গাঁজা ব্যবসায়ী রাজ্জাক ওরফে খোঁড়া রাজ্জাক , একই এলাকার মোমে ,  কালো ময়না ,  হযরত আলী, আবু রায়হান  ডিসি বাবু , কালু , মিজানুর রহমান মিজান, খোকন , মনি ও কুলিয়া পাল পাড়া দুর্গা মন্দিরের পাশের ইয়াবা সম্রাট মাদাই , মাদক ব্যবসায় জড়িত ,যে কারণে উঠতি বয়সী যুবকেরা মাদক সেবনের টাকা জোগাড় করতে 

প্রতিনিয়ত চুরি ছিনতাইসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। আমরা ব্যবসায়ীরা এখন নিরাপত্তা নিয়ে চরম সংশয়ে মধ্যে আছি। বাজারে নৈশপ্রহরী থাকলেও চোরের উপদ্রব কমানো যাচ্ছে না। মাদক ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ না হলে এই চুরির সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন তারা। বিশেষ করে দিনের বেলায় দোকান বন্ধ থাকার সময়ে পাহারাদার না থাকায় দুপুরের সময় অনেক দোকানেও চুরির ঘটনা ঘটছে। এছাড়া রাতের বেলায় মাদকচক্র হয়ে উঠে বেপরোয়া। বাজারের নাইটগার্ডদের সাথেও প্রতিনিয়ত বাক বিতন্ডায় লিপ্ত হচ্ছে এই চক্র। সুযোগ বুঝে তারা বিভিন্ন ভাবে চুরির ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে বাজার কমিটির নির্দেশ অমান্য করে মধ্যরাত পর্যন্ত কিছু দোকানপাট খোলা রাখার কারনে উক্ত অপরাধ সিন্ডিকেট দোকানে যাবার সহজ অযুহাত দেখিয়ে অবাধ বিচরন করে। এছাড়া দিনের বেলায় কুলিয়া মৎস্য শেড বন্ধ হবার পর থেকে রাত্রব্যাপি সেখানে বসে মোবাইল জুয়ার আসর ও মাদক বিকিকিনি। শহীদ মিনার পাশে পরিত্যাক্ত দোকানের জায়গাগুলোতে এবং দোতলা মার্কেটের আন্ডারগ্রাউন্ড পরিত্যাক্ত স্থানে, চার রাস্তার মোড়ে যাত্রী ছাউনীর ভিতরে বাহিরে কুলিয়া ব্রীজের নিচের অংশে এদের নিয়মিত আডডাস্থল। তবে এই চক্রটি মুলত স্থানীয় হওয়ায় বাজারের ব্যবসায়ীরা সবকিছু দেখেও কিছু বলার সাহস পায়না। ইতিমধ্যে তারা অপ্রতিরোধ যোগ্য হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে সচেতন মহল অবিলম্বে কুলিয়া বাজার ও আশপাশ এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে মাদক কেনাবেচার মূল আস্তানাগুলোতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ ও দেবহাটা থানা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Labels: , ,

চলে গেলেন মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তী পারুলিয়ার আতিয়ার রহমান গদাই

 


মোমিনুর রহমান:

মহান মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তী বীরমুক্তিযোদ্ধা, রনাঙ্গনের বীরসেনানী আতিয়ার রহমান গদাই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেলেন।পাক বাহীনীর সাথে সম্নুখ যুদ্ধের মহানায়ক আতিয়ার রহমান গদাই পারুলিয়ার মৃত এজাহার আলী সরদারের কনিষ্ঠপুএ। আজ সকাল ছয়টার দিকে পারুলিয়াস্হ নিজস্ব বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মহান এই প্রয়াত বীর সেনানী তিন পুএ সন্তানের জনক।বড়পুএ তাহজ্জত হোসেন হিরু ব্যাংকার, দ্বিতীয় পুএ সাহাদাৎ হোসেন হিরু বিসিএস ক্যাডার আনসার বাহিনীর ২৪ ব্যাটলিয়নের কমাণ্ডার ও কনিষ্ঠপুএ মিথুন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উর্ধত্নত কর্মকর্তা।এই বীরযোদ্দার মৃত্যুর খবর প্রচার হলে মূহুর্তে পারুলিয়ার জনজীবনে শোকাহত পরিবেশ ছড়িয়ে পড়ে।সব শ্রেনির মানুষের প্রিয় স্বজন গদাই নামে বেশী পরিচিত মানুষটি ছিলেন সব ধরনের বিতর্কের উর্ধে।মানুষের অভাবে তিনি সহায়তায় এগিয়ে আসতেন।পিতা,মাতার জীবন দশায় পিতার থেকে অর্থ,ধান,চাল নিয়ে গরীব দুঃখীদের দেয়ার যে অভ্যাস তৈরী করেন নিজের জীবন দশাতে ও গরীব, অসহায় মানুষদের আর্থিক সহায় করে গেছেন। দেবহাটা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমাণ্ডার বীরমুক্তি যোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল বারী মোল্ল্যা  বলেন,আমি গদাই চাচার সাথে বিহারে প্রশিক্ষন গ্রহন করি,তিনি আমাকে, মশুভাই কে সহ প্রয়াত এ্যাডঃ ইউনুস আলী,ইয়াছিন মেঝে ভাই,সহ অনেক কে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহনের জন্য উদ্বুদ্ধ করেন এবং প্রশিক্ষনে একসাথে রওয়ানা হই। বিহার, দেরাদু ও হাবলঙে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জন প্রশিক্ষন গ্রহন করি। পিতা মাতার অতি আদরেরর গদাই অতি সুঠাম দেহের অধিকারী ৭১ সালে কাউকে না জানিয়ে দেশকে স্বাধীন করার দুর্দান্ত ইচ্ছাশক্তিতে আমাদের নিয়ে সীমান্ত পাড়ি দেন। গদাই চাচার একমাএ বড় ভাই আমাদের শ্রদ্ধাভাজন লুৎফর রহমান সরদার চাচা গদাই চাচার মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার বিষয় জানতেন এবং সহযোগিতা করেন। তিনি ছিলেন অসীম সাহসী। পাক বাহিনীর প্রতি ছিলেন চরম ক্ষুদ্ধ।গদাই চাচা বলতেন আমি পাক সেনাদের মুখোমুখি হবো এবং যুদ্ধ মাঠে পরাজিত করবোই। আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় গদাই চাচার দেশপ্রেম আর সম্নহোনী শক্তি,বীরত্ব এবং আত্নত্যাগ বীরত্বগাঁথা হয়ে থাকবে।,পাক বাহিনীর সাথে দেবহাটা ও সাতক্ষীরার একাধীক যুদ্ধে তিনি জীবনপন যুদ্ধে পাকিস্তানী সেনাদের পরাস্হ করেন এখানেই শেষ নয়, আমাদের গদাই চাচার বন্দুকের গুলি ফুরিয়ে গেলে তিনি যুদ্ধরত থাকা অস্ত্রসহ পাকসেনাকে জাপটে ধরে বন্দী করে।প্রয়াত বীরসেনানীর বীরত্বে মুক্তিযোদ্ধারা কয়কটি যুদ্ধে জয় পায় এবং বহু মুক্তিযোদ্ধারর জীবন রক্ষা করতে তিনি বীরত্বময় ভূমিকা রাখেন। মরহুমের পারিবারীক সূএ জানায়,গত কয়েকমাস যাবৎ তিনি শারিরীক অসুস্হতা জনিত করনে বাসভবনে চিকিৎসাধীন ছিলেন।আজীবন সাধারন জীবন যাপনকারী বীরমুক্তিযোদ্ধা আতিয়ার রহমান মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন দেশে ভারতীয় অধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কারীদের অন্যতম।রনাঙ্গনের সাথী মেজর জলিল, আ,স,ম আব্দুর রবে সহ অন্যান্য জাতীয় নেতাদের সাথে একাত্বতায় জাসদ রাজনীতে সম্পৃক্ত হন ও সমাজতন্ত্রে দীক্ষা নেনএবং সারা বাংলাদেশের ন্যায় ক্যাপ্টেন শাহজাহান মাষ্টারের ছায়াসঙ্গী হিসেবে সাতক্ষীরায় জাসদের কলেবর বৃদ্ধিতে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন।জাসদ রাজনীতি করার কারনে ৭১ পরবর্তি সরকারের সময়গুলোতে রাষ্ট্রীয় বাহিনী, ,রক্ষী বাহিনী কর্তৃক শারিরীক নির্যাতনের শিকার হন।বাংলাদেশের রাজনীতির পরিচিত নাম সিরাজুল আলম খানের অতি কাছের মানুষ ছিলেন এই প্রয়াত বীরমুক্তিযোদ্ধা।সাধাসিধে অথচ বজ্র কঠিন বীরত্বের আর দেশপ্রমের অদিকারী প্রয়াত আতিয়ার রহমান রা বারবার আসে না,তিনি যেমন তার মত ছিলেন অনুরুপ তিনি আর ফিরবেন না,তিনি আর আসবেন না,আজ বাদ আছর জানাজা শেষে পারিবারীক গোরস্হানে চির নিন্দ্রায় শায়িত হবেন।

Labels: ,

মাস্কের আড়ালে ঘুষের সাম্রাজ্য সাতক্ষীরার ভূমি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠার


​টাকা ছাড়া ফাইল নড়ে না শর্মিষ্ঠার: স্বামী-বোনের অ্যাকাউন্টে ঘুষের টাকা পাচারের অভিযোগ



শেখ রেজাউল ইসলাম বাবলু :সবসময় মুখে মাস্ক পরে থাকার কারণে স্থানীয় মহলে তিনি ‘মাস্ক লেডি’ হিসেবে পরিচিত। তবে এই মাস্কের আড়ালে রয়েছে দুর্নীতির এক বিশাল নেটওয়ার্ক। বলা হচ্ছে সাতক্ষীরা পৌর ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সরকারের কথা। মিষ্টি ভাষা ও চতুর কৌশলে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের বিভ্রান্ত করে তিনি গড়ে তুলেছেন ঘুষের এক বিশাল সাম্রাজ্য। চাকরিজীবনের বিভিন্ন কর্মস্থলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি গড়ে তুলেছেন ঘুষের সিন্ডিকেট, যা দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ১৬১ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীর গুরুতর অপরাধমূলক অসদাচরণ হিসেবে গণ্য।অনুসন্ধানে জানা যায়, কালিগঞ্জের মৌতলা, ভাড়াশিমলা, বসন্তপুর, শ্যামনগর, পারুলিয়া এবং সদরের আগরদাড়ি ভূমি অফিসে কর্মরত থাকাকালীন সময়েও তিনি ব্যাপক অনিয়মের জন্ম দেন। বর্তমানে সাতক্ষীরা পৌর ভূমি অফিসে যোগদানের পর সেখানেও দালাল ও নিজস্ব পিয়নের মাধ্যমে ঘুষ বাণিজ্য টিকিয়ে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।প্রতি নামজারির জন্য ১,০০০ টাকা এবং তদন্ত রিপোর্টের জন্য ১ থেকে ২ হাজার টাকা বাধ্যতামূলক।জটিলতা ভেদে ৫০ হাজার থেকে শুরু করে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করা হয়।​ঘুষের ভাগ বাটোয়ারা নিশ্চিত করতে কেস নম্বরসহ নিজস্ব ডায়েরিতে হিসাব রাখার অভিযোগ রয়েছে।অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চোখ ফাঁকি দিতে শর্মিষ্ঠা সরকার নিজের নামে সম্পদ না রেখে স্বামী এবং ছোট বোনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঘুষের টাকা জমা রেখেছেন। এছাড়া তার বোনের নামে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে জমি ও দুতলা বাড়ি নির্মাণ এবং কালিগঞ্জে ৫০-৬০ লক্ষ টাকার প্লটসহ স্বামীর নামে বিপুল পরিমাণ কৃষি জমি ক্রয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। সরকারের অনুমতি ব্যতীত এবং দুর্নীতির টাকা দেশের বাইরে পারাপার বা সম্পদ রূপান্তর করা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর আওতায় কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ।চালতেতলা এলাকার  ভুক্তভোগী আলম ড্রাইভার জানান, আদালতের রায় পাওয়ার পর নামজারির জন্য  শর্মিষ্ঠা সরকারের ব্যক্তিগত দালালোর মাধ্যমে  ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরবর্তীতে ২০ হাজার টাকায় কাজ করতে রাজি হন। ​শহরের থানাঘাটা গ্রামের ফারুক হোসেন অভিযোগ করেন, একটি জমির ১৪৫ ধারার প্রতিবেদনের জন্য টাকা না দেওয়ায় বিরোধী পক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে তাদের পক্ষে প্রতিবেদন জমা দেন ভূমি নায়েব শর্মিষ্ঠা সরকার । এছাড়া আগরদাড়ির করিম দালাল এবং ভাড়াশিমলার হরিদাস ঠাকুরসহ একাধিক ব্যক্তি খ-তফসিল ও খাস জমি বরাদ্দের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেছেন।অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত  সহকারী কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সরকারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোনটি  রিসিভ করেন তার কাছে এসব অভিযোগের বিষয়ে শুনতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য না করে  ফোনের লইন কেটে দেন।সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) বদরুদ্দোজা বলেন, বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দুর্নীতির বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।​স্থানীয় নাগরিক নেতা আবুল হোসেন বলেন অবিলম্বে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করে অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং তাকে চাকরিচ্যুত করার দাবি জানিয়েছেন।

Labels: , ,

Saturday, May 23, 2026

মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর উদ্যোগে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন: গুমের বিচার ও সন্ধান দাবি

 


মোঃ হাফিজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা :

গুমের শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত সন্ধান, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং দায়ীদের বিচারের দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।


শনিবার (২৩ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে আন্তর্জাতিক গুম সপ্তাহ উপলক্ষে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর উদ্যোগে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য, মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।


মানববন্ধনে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে নিখোঁজ থাকা জনির পরিবারের হৃদয়বিদারক বক্তব্যে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। জনির পিতা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেকে নিয়ে গেছে, কিন্তু আজও জানি না সে কোথায়। বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে— সেটাও জানি না। অন্তত তার কবরটা দেখে মরতে পারতাম…” তার এই আর্তনাদে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।


বক্তারা বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে গুমের ঘটনা ঘটলেও অনেক পরিবার এখনো তাদের প্রিয়জনের কোনো সন্ধান পায়নি। তারা দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে গুমের প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।


গুমের শিকার জনির এক দশকের নিখোঁজ জীবনের প্রসঙ্গ তুলে বক্তারা বলেন, জীবিত বা মৃত— কোনো অবস্থাতেই তার সন্ধান না মেলায় পরিবারটি চরম মানসিক যন্ত্রণা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।


পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার সঙ্গে তৎকালীন ওসি এমদাদসহ কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকলেও দীর্ঘ সময়েও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতিতে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।


মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর সাতক্ষীরা জেলা সমন্বয়ক সাংবাদিক মুজাহিদুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক ফিরোজ হোসেন। এতে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক কামরুল ইসলাম, সাংবাদিক শাহজাহান আলী মিটন, মানবাধিকার কর্মী হাফিজুর রহমান প্রমুখ।


এসময় ১০ দিন নিখোঁজ থাকা শিক্ষক টিপু সুলতান তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নিখোঁজ থাকার সময়কার ভয়াবহ স্মৃতি ও মানসিক যন্ত্রণার কথা জানান।

বক্তারা আরও বলেন, গুমের ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে চললেও অধিকাংশ ঘটনারই এখনো বিচার হয়নি। তাই দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রতিটি নিখোঁজ ঘটনার সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।


তারা সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন—

১. অবিলম্বে গুম প্রতিরোধ আইন জাতীয় সংসদে পাশ করতে হবে।

২. নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারকে সম্পত্তি ও ব্যাংক হিসাব পরিচালনার অধিকার দিতে হবে।

৩. ভারতের কারাগারে বাংলাদেশি গুমের শিকার ব্যক্তিদের বিষয়ে কূটনৈতিকভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।

৪. গুম-সংক্রান্ত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে ভুক্তভোগীদের মুক্তি দিতে হবে।

৫. গুমের সঙ্গে জড়িতদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের আওতায় আনতে হবে।


মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা নিখোঁজদের সন্ধান ও ন্যায়বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

অনুষ্ঠানে নবীন মানবাধিকার কর্মী কাজী মশিউর রহমান, দৈনিক নয়া দিগন্তের সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি জিললুর রহমানসহ বিভিন্ন মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক, গুম ভিকটিম পরিবারের সদস্য ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

Labels: ,

Friday, May 22, 2026

মিরপুরে পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা, মামলা হলো বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে

 


নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীর বাউনিয়াবাঁধ এলাকায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের দখল হওয়া সরকারি জমি উদ্ধার অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন জাতীয় গৃহায়নের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ পুলিশের একাধিক সদস্য। 


বৃহস্পতিবার (২১ মে) এ ঘটনায় মিরপুরের জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকোশলী (ঢাকা ডিভিশন-১) কাওসার মোর্শেদ রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেছেন।


মামলার আসামিরা হলেন- মোকসেদা, হাশিম, মো. সিরাজুল ইসলাম, মো. সামির মল্লিক, ইয়াসিন, কালা চান, পচা সুমন, কিরিস রুবেল, রাসেল হোসেন ওরফে সিন্নি রাসেল, রনি, কামাল, কালাম, শফিক প্রকাশ রিকশা চোর শফিক, সাইমন, রোবু, শাহ আলম রকি, মহর আলী, মামুন, জাবেদ, আলম, ফারুক হোসেন লাল চান, মাহিউদ্দিন সিজান ও অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১২০ জন। এরমধ্যে মামলার ৬ নম্বর আসামি কালা চান যুবদলের সদস্য, ২১ নম্বর আসামি লাল চান, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, পল্লবী থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহিউদ্দিন সিজান, মামলার ১০ নাম্বার আসামি রনি পল্লবী থানার ৫ নাম্বার ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি পদপ্রার্থী।


মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বাউনিয়া মৌজার অধিগ্রহনকৃত সরকারি জায়গা ও রাস্তার ধারে থাকা অবৈধ স্থাপনা খালি করার জন্য উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে জাতীয় গৃহায়ন কতৃপক্ষের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। অভিযানে পুলিশ মোতায়েন ছিল। একপর্যায়ে অবৈধ দখলদার ও মামলার আসামিরা অভিযান বানচাল করতে উত্তেজনা তৈরি করে। তারা হাতে লোহার রড, হাতুড়ি, ধারালো ছ্যান, চাইনিজ কোড়াল, কাঠের কাঠাম, লাঠিসহ দেশিয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রমে নিয়োজিত পুলিশ এবং ম্যাজিস্ট্রেট ও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।


মামলার ১ ও ২নং আসামি তাদের হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) জাকির হোসেনকে হত্যার উদ্দেশে মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করে। একপর্যায়ে পুলিশের ৪টি বাস ভাঙচুরসহ ৪ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে।


এ ব্যাপারে ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোস্তাক সরকার বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

Labels: ,

সড়কের কাজে অনিয়মের অভিযোগ, মাঠে নেমে মানসম্মত ইট নিশ্চিত করলেন জামায়াত নেতা মাওলানা আব্দুস সবুর

 


নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ০৯ নং ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের জেয়ালা দাশপাড়া থেকে ০৮ নং ধুলিহর ইউনিয়নের বড়দল ভাগ্যের মোড় পর্যন্ত চলমান সড়ক সংস্কার কাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ উঠলে এলাকাজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পিসি  প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়নাধীন এই সড়ক সংস্কার কাজে শুরুতে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছিল। এতে রাস্তার স্থায়িত্ব ও গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয় স্থানীয়দের মধ্যে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসী প্রতিবাদ জানিয়ে কাজ বন্ধের দাবি তোলেন।


এ অবস্থায় শুক্রবার দুপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুস সবুর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এসময় তার সঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী (ইঞ্জিনিয়ার) উপস্থিত ছিলেন। তারা সড়কের কাজে ব্যবহৃত ইট ও নির্মাণ সামগ্রীর মান সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।


পরবর্তীতে মাওলানা আব্দুস সবুর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে মানসম্মত ইট ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরে উপজেলা প্রকৌশলীর তদারকিতে পুনরায় সঠিক মান বজায় রেখে সড়কের কাজ শুরু হয়।


এ প্রতিবাদের সময় স্থানীয় বাসিন্দা মাস্টার আব্দুস ছাত্তার আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “সাবাশ! আপনিই পারবেন। আর কাউকে পেলাম না।”তার এ বক্তব্যে উপস্থিত জনতার মধ্যেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন পর উন্নয়ন কাজে অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ সরাসরি মাঠে নেমে ব্যবস্থা নেওয়ায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন।


ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “এই সড়কটি আমাদের চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। নিম্নমানের কাজ হলে অল্প সময়েই রাস্তা নষ্ট হয়ে যেত। এখন মানসম্মত ইট ব্যবহার হওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট।”


এদিকে এলাকাবাসী উন্নয়ন কাজে গুণগত মান বজায় রাখতে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর তদারকির দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, জনগণের স্বার্থে এ ধরনের দায়িত্বশীল ভূমিকা অব্যাহত থাকলে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।

Wednesday, May 20, 2026

দেবহাটার টিকেটে প্রতিপক্ষকের হামলায় গৃহিণী আহত: কান ছিড়ে দুল ও গলার চেন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ

  


মোমিনুর রহমান: দেবহাটার টিকেটে শেখ পাড়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষকের হামলায় এক গৃহিণী আহত হয়েছে।

এ সময় গৃহিণীকে মারপিট করে কান ছিড়ে দুল ও গলার চেন কেড়ে নেওয়ার  অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার বিকাল ৫ টার দিকে কুলিয়া ইউনিয়নের টিকেট শেখ পাড়া গ্রামে।

বর্তমানে গৃহিনী শামীমা আক্তার দেবহাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসাধী রয়েছে। 

আহত শামীমার স্বামী মাদ্রাসা শিক্ষক ফরহাদ গাইন জানান, ঈদ উপলক্ষে দুস্থদের চাউল দেওয়াকে কেন্দ্র করে বুধবার সকাল ১১ টার দিকে টিকেট গ্রামের মফিজুলের স্ত্রী আশুরা খাতুনের সাথে কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে আমার স্ত্রী শামিমা আক্তারের সাথে কথা কাটা কাটি হয়। কথা কাটা কাটির এক পর্যায়ে শান্ত হয়ে উভয়ই বাড়িতে ফিরে আসে। 

বিকাল ৫ টার দিকে আমার স্ত্রী শামীমা বাড়ি থেকে বাহিরের রাস্তায় আসলে প্রতিপক্ষরা ক্ষিপ্ত হয়ে রহমত শেখর ছেলে সালামত হোসেন ( বাবু), বাবুর স্ত্রী খুকুমনি ও মফিজুলের স্ত্রী আশুরা খাতুন আমার স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি মারপিট শুরু করে। এক পর্যায়ে দুই কান ছিড়ে কানের দুল ও গলার চেইন কেড়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। 

আহত অবস্থায় এলাকাবাসী আমার স্ত্রীকে দেবহাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করে। 

এ রিপোট লেখা পর্যন্ত দেবহাটা থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিলো বলে জানা যায়।

এ বিষয় দেবহাটা থানায় অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আলিম জানান, এখনও কেউ অভিযোগ দায়ের করে নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Labels: , ,

শ্যামনগরে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

 


মোঃ‌ আছাদুজ্জামান লিটন 

বিশেষ প্রতিনিধিঃ 


 বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা শাখার আয়োজনে খুলনায় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করা হয়েছে। বুধবার(২০মে) সংগঠনের  ৩৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়।উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত  অনুষ্ঠানে  সংগঠনের আহবায়ক বিষ্ণুপদ মন্ডলের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মুন্সীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ বিধুশ্রবা মন্ডল। সংগঠনের সদস্য সচিব কিরণ শংকর চ্যাটার্জীর সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সাবেক  উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা  সংসদের কমান্ডার দেবীরঞ্জন মন্ডল। বক্তব্য রাখেন সংগঠনের অন্যতম নেতা মহাদেব মন্ডল,  রঞ্জিত দেবনাথ, প্রভাষক পথিক মন্ডল, শ্যামনগর পৌরসভা কমিটির সভাপতি সুকদেব বিশ্বাস, সম্পাদক শিক্ষক শংকর তরফদার, যুবঐক্য পরিষদের সভাপতি উমেশ রায়, সম্পাদক তরুণ ঘরামি,সাবেক প্রধান শিক্ষক রামরঞ্জন বিশ্বাস,শিব প্রসাদ বৈদ্য,সাধন বৈদ্য,নিহার রঞ্জন,প্রভাষক প্রীতিস গায়েন, ইউপি সদস্য নিপা চক্রবর্তী, রঞ্জিত রপ্তান, প্রবীর মন্ডল, অশোক মিস্ত্রী, মনোরঞ্জন, বিশ্বজিৎ, রাজীব, শ্রীমতি মনীষা, শ্রীমতি মনিমালা প্রমুখ। সভায় সাংগাঠনিক কার্যক্রম সহ অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

Labels: ,

Tuesday, May 19, 2026

সাতক্ষীরার দেবহাটায় সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তি, শিক্ষক,সাংবাদিক ও সুধীজনদের সাথে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময়।


মোমিনুর রহমান:
দেবহাটা উপজেলার সরকারি কর্মকর্তা/ কর্মচারী, রাজনৈতিক ব্যক্তি, শিক্ষক,সাংবাদিক ও সুধীজনদের সাথে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ কাউসার আজিজ'র মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯ মে মঙ্গলবার সকাল ১১.৩০ টার সময় উপজেলা পরিষদ সন্মেলন কক্ষে উক্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। দেবহাটা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা'র সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে  বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ কাউসার আজিজ। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্যে রাখেন যথাক্রমে দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আলিম, দেবহাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক ও  সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য শেখ সিরাজুল ইসলাম, দেবহাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও  সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য মহিউদ্দিন সিদ্দিকী , উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা অলিউল ইসলাম, সখিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মকর্তা ডাঃ সাইফুল ইসলাম, উপজেলা বীরমুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আঃ বারী, সখিপুর খান বাহাদুর আহছানউল্লাহ কলেজ এর সাবেক অধ্যক্ষ অলোক কুমার ব্যানাজি,  পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদএর চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক বাবু, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাম, জুলাই যোদ্ধা মুজাহিদ বিন ফিরোজ,দেবহাটা প্রেক্লাবের সাধারন সম্পাদক বায়েজিদ বোস্তামী উজ্জ্বল, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি ডাঃ অহিদুজ্জামান ও সাধারন সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম।  এসময় উপস্থিত ছিলেন  দেবহাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বকুল, কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এর প্যানেল চেয়ারম্যান প্রভাষ চন্দ্র মন্ডল, উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক  কর্মকর্তা নাসরিন জাহান, উপজেলা একাডেমিক সুপার ভাইজার মিজানুর রহমান, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা সাহিনা খাতুন,  দেবহাটা সরকারি বিবিএমপি ইনস্টিটিউট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মোদন মোহন পাল, উপজেলা ইমাম সমিতির সভাপতি আঃ সাত্তার ও বীরমুক্তিযোদ্ধা আঃ ওহাব প্রমুখ। বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন,  প্রতিবর্ষার দেবহাটা ইছামতী নদী ভাঙ্গন রোধ, রুপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোফ উন্নয়নে লাইট স্থাপন, দেবহাটাতে জ্বালানি তেলের পাম্প স্থাপন, সাতক্ষীরা টু ভেটখালি রাস্তার নির্মাণে যাহাতে গাফিলতি ও দূনীতি না হয়, মাদক কারবারি বন্ধের জোর তদারকি,  অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের ব্যবস্থা ও দেবহাটা থানায় গাড়িটি অকেজো হওয়ায় জরুরী ভাবে একটি গাড়ির ব্যবস্থা করা সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়। প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজ তিনি তার বক্তব্যে দেবহাটা উপজেলার সকল সমস্যার কথা শোনেন এবং সমস্যা গুলো সমাধান করার আশ্বাস প্রদান করেন।

Labels: , ,

কুলিয়ার টিকেট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হলেন সাংবাদিক লিয়ন

 


 মোমিনুর রহমান:দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের টিকেট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সাংবাদিক আবীর হোসেন লিয়ন। 

সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী টিকেট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ হলে। গত ১৭ মে রবিবার ২০২৬ তারিখ স্কুলের সকল অভিভাবকদের উপস্থিতিতে পুরুষ অভিভাবক পদে সাংবাদিক আবীর হোসেন লিয়ন ও সহাদেব হালদার, মহিলা অভিভাবক পদে লাবনী দাশ ও প্রীয়াংকা বিশ্বাস, বিদ্যুৎসাহী পদে ডাঃ নব কুমার দাশ ও অতশী রানী দাশ বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ১৮ মে সোমবার ২০২৬ তারিখ  বিদ্যালয়ের অন্যান্য পদের মোট  ১২ জন সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সংখ্যাগরিষ্ট সদস্য হওয়ায় সাংবাদিক আবীর হোসেন লিয়নকে টিকেট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।

Labels: , ,

পবিপ্রবিতে জাতীয় স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

 


দুমকি ও পবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ



পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) জাতীয় স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর আঞ্চলিক পব অনুষ্ঠিত হয়েছে| 

সূত্র জানায়, শনিবার সকাল ৯টায় বিসিসি ও এনসিএসএ কতৃর্ ক আয়োজিত পবিপ্রবির টিএসসি কনফারেন্স কক্ষে প্রতিযোগিতার উদ্বোধণ করেন সিএসআইটি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোঃ আতিকুর রহমান|  এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিসিসির প্রোগ্রামার মোঃ মাসুদুর রহমান, পবিপ্রবি’র প্রফেসর গোলাম মুরাদুল বশির, প্রফেসর মোঃ নাঈমুর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক ¯^র্না মজুমদার, প্রভাষক ড. ফারজানা সুলতানা মীম, প্রভাষক মুহতাসিম, পটুয়াখালী জেলা আইসিটি অফিসার মোঃ সবুজ তালুকদার, দুমকি উপজেলা আইসিটি অফিসার সমীর হালদার, মির্জাগঞ্জ উপজেলা আইসিটি অফিসার শাহ মুসাব্বির মিরাজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন| এছাড়া জাতীয় কুইজ ২০২৬, সিএসও ও নিরাপদ ইন্টারনেট দিবসের কুইজ, সাইবার সিকিউরিটি অলিম্পিয়াড ২০২৬, নিরাপদ ইন্টারনেট দিবসের সেমিনার এবং প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে সনদপত্র, মেডেল ও ক্রেস্টসহ পুরস্কার বিতরণ করা হয়|


Labels: ,

শ্যামনগরে মানববন্ধনের প্রতিবাদে শ্যামনগর প্রেসক্লাব সংবাদ সম্মেলন

 



মোঃ আছাদুজ্জামান লিটন 

বিশেষ প্রতিনিধিঃ


 গত  ১৮মে শৈলখালী মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসর  সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও মিথ্যাচার মানববন্ধনের প্রতিবাদে প্রকৃত জমির ওয়ারেশগন ১৯ মে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গোলাম মোস্তফা। তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী মৌজার এস,এ ৫০, ৫১, ৫২, ৫৩, ৫৪, দাগে ১৫ বিঘা জমি সামালী ওরফে সামছুর রহমান গত ইং- ২০/১২/১৯৭৬ সালে ৫৯১৪ নং দলিল মূলে শৈলখালী মৌজার মহমার্থীয়া আলিয়া মাদ্রাসার নামে দানপত্র করেন। উক্ত দলিলে উল্লেখ থাকে যে, উক্ত স্থানে বা উক্ত মাদ্রাসার নামে মাদ্রাসা না হলে দানকৃত সম্পত্তি মুল মালিকের নামে খাস দখলে আসিবে। উক্ত জমি খাস খতিয়ানে চলিয়া যায়। পরবর্তীতে ৫৯১৪ নং দানপত্রের ১৫ বিঘা জমি মাদ্রাসার নামে আনার জন্য মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ একই নম্বরে দাগ বাড়িয়ে একটি জাল দলিল সৃষ্টি করে। এর পর ১৫ বিঘা জমি দখলে নেওয়ার জন্য সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক তৎপক্ষ সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস দরখস্ত করেন। বিষয়টি জানতে পেরে ওয়ারেশগন পক্ষ হয়ে আবেদন করে। বিজ্ঞ বিচারক শুনানী শেষে জাল দলিল প্রমান হওয়ায় মাদ্রাসার পক্ষের দরখস্তটি খারিজ করে দেন। এরপর জমির ওয়ারেশগন খুলনা জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে রেকর্ড সংশোধনের আবেদন করে। যেখানে  সেটেলমেন্ট অফিস ওয়ারেশদের পক্ষে রায় দেন এবং রেকর্ড সংশোধনের নির্দেশ দেন। সেই মোতাবেক তারা ৪৯ নং দাগে রেকর্ড পায়। বর্তমানে ওয়ারেশগনের নামে প্রিন্ট পর্চা হয়েছে। যার ভিপি- ৩০৯৭, এদিকে মাদ্রাসা রক্ষার্থে  ভিন্ন  দাগে সামছুর রহমানের মেঝ পুত্র আবুল কানাম আজাদ  ১ একর জমি দান করেন। উক্ত জমিতে বর্তমান শৈদখালী মদিনাতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা নির্মিত হয়েছে। বর্তমানে উক্ত সম্পত্তি ছাড়া অন্যান্য মানুষের দেওয়া সম্পত্তিতে মাদ্রাসা চলমান আছে। এরপর শামসুর রহমানের ওয়ারিশগণ মিউটেশন করে প্রিন্ট পর্চা পায়। সেই মোতাবেক তারা উক্ত জমিতে মৎস্য ঘের পরিচালনা করিয়া আসিতেছে।  গত- ১৮ মে  আল মামুনের নেতৃত্বে য়েরের ঘেরা বেড়া ভাঙচুর ও মাছ লুট করে। এ ঘটনায় তারা পত্রিকায় লিখনের মাধ্যমে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Labels: ,

Monday, May 18, 2026

শ্যামনগরে বন বিভাগের গুলিতে জেলে নিহতের অভিযোগ, সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি

 


সাইফুল আজম খানঃ


সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার ১২নং গাবুরা ইউনিয়নের ৯নং সোরা গ্রামের বাসিন্দা আকছেদ গাজীর ছেলে আমিনুর রহমানকে বন বিভাগের সদস্যদের গুলিতে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় জেলে ও এলাকাবাসী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবন এলাকায় মাছ ও কাঁকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন আমিনুর রহমান। সম্প্রতি বন বিভাগের স্পট/ওয়াইল্ড টিমের অভিযানের সময় তাকে গুলি করা হয় বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় বন বিভাগের কর্মকর্তা “ওসি মোবারক”-এর বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। তারা দাবি করেন, প্রকৃত বনদস্যু ও ডাকাতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলেও নিরীহ জেলে ও মৎস্যজীবীদের হয়রানি ও নির্যাতন করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, “আমিনুর একজন সাধারণ জেলে ছিলেন। তিনি মাছ ও কাঁকড়া ধরে পরিবার চালাতেন। এমন একজন নিরীহ মানুষকে গুলি করে হত্যা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।”

এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে দ্রুত ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত, অভিযুক্তদের পূর্ণ পরিচয় প্রকাশ এবং তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নিহত আমিনুর রহমানের পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নেওয়ারও আহ্বান জানান তারা।

ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Labels: ,

বনজীবী নিহতের ঘটনায় বিজিবি মোতায়েন, এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ

 



শেখ রেজাউল ইসলাম বাবলু সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বনজীবীর মৃত্যুর ঘটনায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবার (১৮ মে)  সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের সোরা এলাকার বাসিন্দা আকসেদ গাজীর ছেলে আমিনুর রহমান (৪৫) নামে এক কাঁকড়া জেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষোভে ফেটে পড়ে।


এসময় তারা সাতক্ষীরা রেঞ্জ বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন অফিসে হামলা চালিয়ে পাঁচজন বনকর্মীকে আহত করে এবং বিভিন্ন অসববপত্র ভাংচুর করে বিক্ষুব্ধরা। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে হামলা, ভাংচুরের পর আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ও বিজিবির যৌর্থ প্রচেষ্টায় বিক্ষুব্দরা পিছু হটে। এদিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশের পাশাপাশি নীলডুমুর ১৭ ব্যাটালিয়নের বিজিবি সদস্যরা এই কাজে অংশ নেন। যেহেতু ঘটনাস্থল থানা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার হওয়ায় সেখানে বিজিবি শক্ত অবস্থানে থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।


জানাগেছে, নীলডুমুর ১৭ ব্যাটালিয়নের লে: কমান্ডার ফরিদুল ইসলাম ও সহকারী পরিচালাক নুর হোসেনের নেতৃত্বে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় বিজিবির টহল কার্যক্রম অব্যহত রয়েছে। সেই সাথে এলাকার পরিস্থিত থমথমে বিরাজ করছে। পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত বিজিবির এই টহল কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে জানা গেছে।


অন্যদিকে আহত ফরেস্টার শেখ মো: ফারুক আহমেদ (৫৫), বনরক্ষী মো: মেজবাউল ইসলাম (৪৫), ফায়জুর রহমান (৪০), আজাদুল ইসলাম (৪২) ও স্বেচ্ছাসেবক এখলাছুর রহমান (২৭)কে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।


সাতক্ষীরা বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা ফজলুর রহমান জানান, হামলার বিষয় আচ করতে পেরে তারা পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশকে আগেই অবহিত করেছিলেন। পরে বিজিবি, নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ড সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন।  


শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জাহান কনক জানান, গুলিতে এক বনজীবী নিহতের ঘটনায় উপকুলীয় এলাকায় বসবাসরত বনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়ে কিছু অনাকাঙ্খিত ঘটনার সৃষ্টি হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল কার্যক্রম অব্যহত রয়েছে।


উল্লেখ্য, তিনদিন আগে বনবিভাগের পাশ (অনুমতিপত্র) নিয়ে দুটি নৌকাযোগে তারা চারজন বনজীবী সুন্দরবনে যায় কাঁকড়া শিকারের জন্য। সোমবার সকাল থেকে খুলনা রেঞ্জের পাটকোসটার ঝিলে এলাকায় (অভয়ারণ্য) নৌকায় বসে তারা কাঁকড়া শিকার করছিলেন। একপর্যায়ে সোমবার সকাল সাতটার দিকে পাশ্ববর্তী টহলফাঁড়ির ইনচার্জ মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে টহল টিমের সদস্যরা পিছন থেকে ডাক দেয় এবং টিমের সদস্যরা এক রাউন্ড গুলি ছুঁড়লে ঘটনাস্থলে আমিনুরের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে দুপুর একটার দিকে মৃতদেহ নিয়ে এলাকায় ফিরে আসে সাথে থাকা বনজীবীরা।

Labels: ,

সুন্দরবনে বনবিভাগের ছোড়া গুলিতে কাঁকড়া আহরণকারী জেলের মৃত্যু




মোঃ আছাদুজ্জামান লিটন

বিশেষ প্রতিনিধি ঃ


শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা এলাকার বাসিন্দা আকসেদ গাজীর ছেলে আমিনুর রহমান (৪৫) নামে এক কাঁকড়া জেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে।

সোমবার (১৮ মে) সকালে সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের শতমুখি খাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানগেছে।

 সহযোগী জেলেদের দাবি,তারা সুন্দরবনের শতমুখি খালে কাঁকড়া ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় বনবিভাগের খুলনা স্মার্ট পেট্রোল টিমের সদস্যরা তাদের ডাক দেন। জেলেরা কাছে না গেলে বনবিভাগের সদস্যরা গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ করেন তারা। এতে আমিনুর রহমান গুলিবিদ্ধ হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানান সঙ্গীরা।

ঘটনার বিষয়ে বনবিভাগের কাছে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে খবর পেয়েছেন এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। বনবিভাগের কর্মকর্তা মোবারক বলেন, “সুন্দরবনের ভেতরে বর্তমানে বনদস্যু নির্মূলে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছে। সেখানে বনবিভাগ, কোস্টগার্ডসহ অন্যান্য বাহিনী একযোগে দায়িত্ব পালন করছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম বলেন, তিনি ইতোমধ্যে খুলনার ডিএফও, সাতক্ষীরার এসিএফ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং থানাকে বিষয়টি অবহিত করেছি। তিনি আরও বলেন, “বনবিভাগের ডিএফও আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভ বিরাজ করছে।


Labels: ,

সাতক্ষীরা থেকে সৌদি হাসান হজ্জ্ব গ্রুপের ১৭০ হাজির ঢাকা যাত্রা

 


নিজস্ব প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা :

“এবাদত আপনার, সেবা আমাদের” এই স্লোগানকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার সৌদি হাসান হজ্জ্ব গ্রুপ এজেন্সির মাধ্যমে হজ্জ পালনের উদ্দেশ্যে ১৭০জন হাজি ঢাকার পথে রওনা দিয়েছেন।

সোমবার (১৮ মে) বিকাল ৫টায় সাতক্ষীরা শহরের বাইপাস সড়কের লন্ডন প্লাজা চত্বর থেকে হাজিদের বহনকারী বাস ঢাকার হাজি ক্যাম্পের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। এ সময় হাজিদের বিদায় জানাতে স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও এজেন্সির পরিচালক আবু হাসান, সাতক্ষীরা ৯৩ এর সদস্য মো: ইদ্রিস আলী শোবন, মোঃ আব্দুল মুজিদ, সাজেন্ট মো: আব্দুল আজিজ, রবিউল সমুন, আব্দুল কাদের, কামরুজ্জামান,  ও মাসুদ বাবু সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, সৌদি হাসান হজ্জ্ব গ্রুপ এজেন্সির ব্যবস্থাপনায় এবার জেলার ১৭০ জন হজ্জযাত্রী পবিত্র হজ্জ পালনের জন্য সৌদি আরব যাচ্ছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাদের সৌদি আরবগামী ফ্লাইট নির্ধারিত রয়েছে। যাত্রার আগে হাজিদের জন্য দোয়া ও মোনাজাত করেন, হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ। 

এ সময় উপস্থিত স্বজনরা আবেগঘন পরিবেশে হাজিদের বিদায় জানান এবং তাদের সুস্থভাবে হজ্জ পালন শেষে দেশে ফিরে আসার কামনা করেন।

হজ্জ্বযাত্রীরা জানান, দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে তারা পবিত্র ভূমির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তারা দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন যাতে সুন্দরভাবে হজ্জ্বের সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পারেন।

লন্ডনপ্লাজার সস্তাঅধিকারী আলহাজ্ব মো: আজিজার রহমানের পক্ষ থেকে হাজিদের উপহার প্রদান করেন।

Labels: , ,

শ্যামনগরে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ

 


মো: আসাদুজ্জামান লিটন,

 বিশেষ প্রতিনিধিঃ 


সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় উষা রানী দাস (২৪) নামের এক নারী সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে স্বেচ্ছায় পবিত্র ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে আয়েশা খাতুন রেখেছেন।

​আবেদন সূত্রে জানা যায়, আয়েশা খাতুন (পূর্বের নাম উষা রানী দাস) শ্যামনগর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের শচীন দাসের কন্যা। তিনি বর্তমানে উপজেলার গৌরীপুর (ফকিরান) গ্রামের মো: আবুল খায়ের মিস্ত্রীর স্ত্রী হিসেবে বসবাস করছেন।

​তিনি জানান, কোনো প্রকার প্ররোচনা ছাড়াই নিজের ইচ্ছায় এবং সজ্ঞানে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে তাঁর স্বামী ছেলে মেয়ে নিয়ে বসবাস করছে ছেলের নাম মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, ছয় বছর বয়স মেয়ের নাম মোছাঃ আমিনা বয়স চার বছর নতুন পরিবারের সাথে তিনি ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক জীবন অতিবাহিত করছেন।

​ইতোমধ্যে তিনি নাম ও ধর্ম পরিবর্তনের বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন করেছেন। তবে তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) কার্ডে পূর্বের নাম ও ধর্ম উল্লেখ থাকায়, তা সংশোধনের জন্য বর্তমানে তিনি প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করছেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি স্থানীয় সংবাদপত্রের মাধ্যমে বিষয়টি সর্বসাধারণকে অবহিত করেছেন।

Labels: ,

দেবহাটা উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক ও ঈদুল আজহা'র প্রস্তুতি সভা

 



 মোমিনুর রহমান:দেবহাটা উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক ও ঈদুল আজহা পালনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৮ এপ্রিল  ২০২৬, সোমবার  সকাল ১১ টা থেকে পর্যায় ক্রমে উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা'র সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন দেবহাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক ও  সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য শেখ সিরাজুল ইসলাম, দেবহাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও  সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য মহিউদ্দিন সিদ্দিকী, দেবহাটা থানার ওসি তদন্ত রেজাউল ইসলাম , সখিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মকর্তা ডাঃ সাইফুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুল আলম, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা অলিউল ইসলাম, উপজেলা বীরমুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আঃ বারী, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাম, উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক  কর্মকর্তা নাসরিন জাহান, দেবহাটা প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক বায়েজিদ বোস্তামী উজ্জ্বল, দেবহাটা  রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি অহিদুজ্জামান ও সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম ,সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম,  নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোনায়েম হোসেন, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি প্রভাষক চন্দ্রকান্ত মন্ডল। এসময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন  পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন হীরা, উপজেলা একাডেমিক সুপার ভাইজার মিজানুর রহমান,  দেবহাটা সরকারি বিবিএমপি ইনস্টিটিউট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মোদন মোহন পাল, উপজেলা ইমাম সমিতির সভাপতি আঃ সাত্তার,  বীরমুক্তিযোদ্ধা আঃ ওহাব ও উপজেলা ফায়ার সার্ভিস প্রতিনিধি মুজিবর রহমান প্রমুখ।

Labels: ,

সরকারি কাজে চাঁদাবাজির অভিযোগ জামাত নেতার বিরুদ্ধে, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চায় পানি উন্নয়ন বোর্ড



আল মাহফুজ সাতক্ষীরা :

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন নদীভাঙন প্রতিরোধ ও বাঁধ সুরক্ষা প্রকল্পে বারবার বাধা, চাঁদা দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এর আগেও একই ধরনের অভিযোগ ওঠার পর এবার বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) প্রকল্প পরিচালক জেলা প্রশাসকের কাছে বিস্তারিত লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।


অভিযুক্ত হাজী মো. নজরুল ইসলাম শ্যামনগর উপজেলার ৯ নম্বর বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্ম পরিষদ ও সুরা সদস্য। তার বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে হস্তক্ষেপ, কাজ বন্ধ, শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখানো, প্রকল্প কার্যালয়ে হামলার হুমকি, চাঁদা দাবি এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।


গত ১৩ মে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর পাঠানো একাধিক পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ‘দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সম্প্রসারণ প্রকল্প (কম্পোনেন্ট-১, বাপাউবো অংশ এর প্রকল্প পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া দাবি করেন, শ্যামনগরের খোলপেটুয়া, মালঞ্চ ও কালিন্দী নদীর তীররক্ষা এবং বাঁধ সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখন কার্যত হুমকির মুখে।


পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন নদীতীর রক্ষায় প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় পোল্ডার-৫ এলাকায় খোলপেটুয়া, মালঞ্চ ও কালিন্দী নদীর তীররক্ষা, স্লোপ প্রোটেকশন, জিওব্যাগ ডাম্পিং ও সিসি ব্লক স্থাপনের কাজ চলছে।


প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ডিএল-উন্নয়ন (জেভি), ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের পক্ষে আর-রাদ করপোরেশন। প্রকল্প এলাকা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে শ্যামনগরের পূর্ব দুর্গাবাটি, পশ্চিম দুর্গাবাটি, দাতিনাখালী ও ঝাপালি এলাকা।


প্রকল্প পরিচালকের অভিযোগ, শুরু থেকেই স্থানীয় চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম কাজটি বন্ধ করতে নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করেন। প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দায়িত্বরত প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়া, শ্রমিকদের ভয় দেখানো এবং বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়।


অভিযোগপত্রে বলা হয়, গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সরাসরি প্রকল্প কার্যালয়ে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন এবং বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে প্রকল্প অফিস ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, যন্ত্রপাতি নষ্ট এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার হুমকি দেওয়া হয়।


এরপর সেনাবাহিনী ক্যাম্প, জেলা প্রশাসন ও শ্যামনগর থানায় একাধিকবার লিখিত অভিযোগ করা হলেও দীর্ঘ সময় কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।


প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নদীভাঙন ঠেকাতে কাজ বন্ধ রাখা সম্ভব ছিল না। কারণ বর্ষার আগে বাঁধ সুরক্ষা না হলে জোয়ারের পানিতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। সেই কারণে ঝুঁকি নিয়েই সীমিত পরিসরে জিওব্যাগ ডাম্পিং ও সিসি ব্লক তৈরির কাজ চালু রাখা হয়।


অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৪ এপ্রিল শ্যামনগরের পূর্ব দুর্গাবাটি এলাকায় প্রকল্প সাইটে গিয়ে চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, স্থানীয় কয়েকজন জামায়াত নেতাকর্মী এবং বহিরাগত লোকজন মানববন্ধনের নামে বিক্ষোভ করেন। এ সময় প্রকল্প এলাকায় কর্মরত শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের মারধরের হুমকি দেওয়া হয়।


অভিযোগ রয়েছে, স্কেভেটরের চালক ও সহকারীকে যন্ত্রের ভেতরে আটকে রেখে আগুন ধরিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। পরে উপস্থিত সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পুলিশের সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।


প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই ঘটনার পর থেকে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তাহীনতায় অধিকাংশ শ্রমিক কাজ বন্ধ করে দেন। এতে প্রকল্পের অগ্রগতি থমকে যায়।


প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সবুজ আলী খান অভিযোগ করেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্প পরিদর্শনে গেলে চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে তার কাছে ১২ লাখ টাকা কমিশন দাবি করা হয়। টাকা না দিলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া, মানববন্ধন করা এবং কোম্পানির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর হুমকি দেওয়া হয়।


তিনি দাবি করেন, “চাঁদা না দেওয়ায় শ্রমিকদের কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে। সাব-ঠিকাদারদেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে। ফলে পুরো প্রকল্প এখন ঝুঁকিতে।”


এ নিয়ে এটিই প্রথম অভিযোগ নয়। গত ১৪ এপ্রিলও শ্যামনগর থানায় দায়ের করা এক লিখিত অভিযোগে আর-রাদ করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন একই ধরনের অভিযোগ করেছিলেন।


সেই অভিযোগে বলা হয়েছিল, প্রকল্পের সিসি ব্লক তৈরির স্থান ও যন্ত্রপাতি রাখা সরকারি জমিতে কাজ চলাকালে চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম লোকজন নিয়ে এসে কাজ বন্ধ করে দেন। পরদিন আবার ৩০ থেকে ৪০ জন লোক নিয়ে গিয়ে নির্মাণাধীন বাঁধ ভেঙে ফেলা হয়। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।


তখন শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছিলেন, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


অভিযোগ অস্বীকার করে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারি সামাজিক বনায়নের জায়গায় অবৈধভাবে ব্লক নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছিল। পরিবেশ রক্ষার স্বার্থেই আমি বাধা দিয়েছি। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।


তিনি আরও দাবি করেন, জমি সংক্রান্ত পূর্বের বিরোধের জের ধরেই আমাকে হয়রানির চেষ্টা চলছে।



পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প পরিচালক তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, বর্ষা মৌসুমের আগেই কাজ শেষ করা না গেলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিতে পারে। এতে জনবসতি, কৃষিজমি ও উপকূলীয় প্রতিরক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়বে।


একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, প্রকল্পটি জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়িত হওয়ায় সময়মতো কাজ শেষ না হলে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশ সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।


এ অবস্থায় প্রকল্প এলাকায় প্রশাসনিক নিরাপত্তা নিশ্চিত, কাজের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।


সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম. রাজু আহমেদ বলেন, নতুন পুলিশ সুপার যোগদান করেছেন। বিষটি আমরা এখও অবগত নয়। সরকারী কাজ বাস্তবায়নে জন্য জেলা পুলিশ সহযোগীতা করবে।


অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন বলেন, আমরা বিষটি অবগত হয়েছি। তবে এখনো অভিযোগ অফিসিয়াল পাইনি, পেলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Labels: , ,

ঘুষ কেলেঙ্কারি ঢাকতে সাতক্ষীরার এলজিইডির হিসাব রক্ষক মোস্তাফিজের প্রত্যয়ন নিয়ে আয়নাবাজি



 হাফিজুর রহমান কালীগঞ্জ ( সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ

অফিসে বসে গুনে গুনে ঘুষের টাকা নেওয়ার ভিডিও ও খবর  ভাইরালকে কেন্দ্র করে আলোচিত এলজিইডির হিসাব রক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত ও বিভাগীয় মামলার তদন্ত ঠেকাতে প্রত্যয়ন পত্রের আয়নাবাজি নিয়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু। নিজের অপকর্ম ঢাকতে প্রথমে অফিসে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরা খুলে ফেলেন। যাতে করে পরবর্তীতে ঘুষ নেওয়ার দৃশ্য কেউ  দেখতে না পারে। এ যেন ঠাকুর ঘরে কে রে আমি কলা খাইনি। এরপরও নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য প্রকাশিত, সংশ্লিষ্ট ঘুষ দেওয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে  উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেনের নাম ভাঙিয়ে প্রত্যয়ন পত্র আদায় করে নেওয়া হয়েছে। এই ভাবে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি) অফিসের ঘুষখোর মোস্তাফিজুর রহমান প্রত্যয়ন পত্র নিয়ে দৌড়ঝাপ করে  বেড়াচ্ছেন। দেশব্যাপী প্রকাশ্যে অফিসে বসে ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল হওয়া ও  বিভিন্ন সংবাদপত্র, টিভি চ্যানেল সহ বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত খবরকে মিথ্যাচার আখ্যা দিয়ে নিজের অপকর্ম ঢাকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে নিজের অফিসের সহকারী চঞ্চল কুমার দাসের উপর দায় চাপিয়ে নিজে সাধু সাজার চেষ্টা করে যাচ্ছেন । মোস্তাফিজুর রহমান যোগদানের আগে দেশের যে সমস্ত জেলা, উপজেলায় চাকুরীকরা কালীন  সময়ে ঘুষখোর খ্যাত মোস্তাফিজ সেখানেই ঠিকাদার, ইউপি সচিব , চেয়ারম্যানদের নিকট থেকে ঘুষ নিয়ে  সংবাদ শিরোনাম হয়েছে। তালায় এক ঠিকাদারের নিকট থেকে  ধার নেওয়া টাকা চাইতে গেলে ফেরত না দেওয়ার ধান্দায় তার সাথে মোবাইলে কথোপকথনের রেকর্ড ধারণ করে উল্টো তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ দায়ের করে। এ ঘটনায় তালা উপজেলার সাংবাদিক সমাজ ফুঁসে ওঠে। পরে আন্দোলনের মুখে তাকে বদলি করা হয়। সেখান থেকে বদলি হয়ে বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ঘুরে অবশেষে কালীগঞ্জে যোগদানের খবরে কালিগঞ্জ এলজিইডি অফিসের সমস্ত কর্মকর্তা কর্মচারীরা নড়েচড়ে বসে। ঐ সময় হিসাব রক্ষক  মোস্তাফিজ যাতে যোগদান করতে না পারে সে লক্ষ্যে কালিগঞ্জ এলজিইডি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান কার্যালয়ে গণস্বাক্ষরিত আবেদন করেন। এরপরও রহস্যজনক কারণে যোগদান করেও বদলাইনি মোস্তাফিজুর রহমানের ঘুষ গ্রহণের স্বভাব অভ্যাস। অফিসে লাগানো সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ঘুষের ভিডিও ফাঁসের জন্য তার অফিসের সহকারি  চঞ্চল কুমার দাসকে অভিযুক্ত করেন । তবে সে  অভিযোগ  প্রত্যাখ্যান করে অফিস সহকারি চঞ্চল কুমার দাস সাংবাদিকদের জানান এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এর সাথে তিনি জড়িত না তদন্ত করলে মূল বিষয় বেরিয়ে আসবে। তিনি আরো জানান আমি এই অফিসের সবার থেকে জুনিয়র বিষয়টির সঙ্গে তার জড়িতর বিষয়টি অস্বীকার করেন।  মোস্তাফিজের নেওয়া প্রত্যয়নপত্র সম্পর্কে চাম্পাফুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক গাইন জানান এ ঘটনা সম্পর্কে আমার কোন কিছু জানা ছিল না। হঠাৎ করে এলজিডি অফিসের হিসাবরক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান এসে বলে উপজেলা স্যার এইটা সই করে দিতে বলেছেন। আমি উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারের  কথা বললে সই করে দেই। পরবর্তীতে প্রতারণার বিষয়টি জানতে পেরে আমার দেওয়া প্রত্যায়ন পত্র প্রত্যাহার করে নতুন করে প্রত্যায়ন পত্র দিয়েছি। ঐ সময় ঐ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু সাঈদ ও একই কথা বলেন। তিনি জানান হিসাবরক্ষক মোস্তাফিজের তৈরি করা প্যাডে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার এবং অন্যান্য ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, সচিবরা সই করেছে আপনি চেয়ারম্যানের নিকট থেকে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে পেরে আমি আমার বক্তব্য ও প্রত্যয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছি। একইভাবে মৌতলা ইউনিয়ন পরিষদে গেলে চেয়ারম্যান ফিরদৌস মোড়ল জানান ঘুষ কেলেঙ্কারি বিষয়ে আমি কিছু জানতাম না হঠাৎ হিসাব রক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান এসে বললো উপজেলা প্রকৌশলী জাকির স্যার সই করে দিতে বলেছে। পরে বিষয়টি জানতে পেরে জাকির সাহেবের নিকট জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করলে আমি আমার দেওয়া প্রত্যায়ন পত্র প্রত্যাহার করে নতুন প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করেছি। একইভাবে ঐ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম একই কথা বলে তার দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেন। কুশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে গেলে চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোঃ আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের জানান এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা তবে স্বাক্ষর করানোর জন্য মোস্তাফিজ আমার নিকট এবং পরিষদে কয়েকবার এসেছে আমি তার দুর্নীতিতে সাপোর্ট করেনি। যে কারণে মোস্তাফিজের প্রত্যয়ন পত্রের প্যাডে আমি স্বাক্ষর করেনি এবং আমার অফিস থেকে কোন প্রত্যয়নপত্র প্রদান করা হয়নি। উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) অফিসের উপ-সহকারী ইঞ্জিনিয়ার সাঈদ হোসেন জানান হিসাবরক্ষক মোস্তাফিজ  যোগদান করতে না পারে সে ব্যাপারে আবেদনপত্রে আমি সহ অফিসের সবাই স্বাক্ষর করেছি। বিষয়টি নিয়ে মোস্তাফিজের লোকজন প্রতিনিয়ত মিথ্যা ,অপ্রচার চালাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) জাকির হোসেনের নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের জানান অফিস ছাড়াও আমাকে সারাদিন বিভিন্ন প্রকল্পের সাইডের কাজ নিয়ে বাইরে ব্যস্ত থাকতে হয়। বিভিন্ন প্রকল্পের কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিজেরাই স্ট্যাম্প কিনে দিবেন এর বাইরে যদি কেউ অফিসে বসে কারোর নাম ভাঙিয়ে টাকা পয়সা নেয়  সেজন্য সে নিজেই দায়ভার বহন করিবে আমি এর জন্য দায় নেব না। এর আগেও আমার নিকট থেকে মোস্তাফিজ  সাংবাদিকদের নিকটে কথা বলতে বাধ্য করেছে অথচ আমি কিছু না জেনে সরল বিশ্বাসে যে কয়টি প্রকল্পের  স্ট্যাম্পের টাকার কথা বলেছি। পরে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন খাতে ব্যবহার করা হয়েছে। কালিগঞ্জ এলজিইডি অফিসে মোস্তাফিজ চাকরি করাকালীন উপজেলা ডরমেটরিতে থাকলেও থাকার কোন অনুমতি গ্রহণ করেননি। তা ছাড়াও তিনি সেখানে যতদিন থেকেছেন তার কোন ভাড়া বাবদ কোন টাকা না দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

Labels: , ,