Saturday, February 28, 2026

নার্সিং ভর্তি পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় মায়ের বকুনিতে ছাত্রীর আত্মহত্যা

 



সাইফুল আজম খান (মামুন) সাতক্ষীরা :

নার্সিং ভর্তি পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় মায়ের বকুনিতে অভিমান করে সাতক্ষীরায় আমেনা খাতুন (২০) নামের এক কলেজছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।


শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সাতক্ষীরা শহরের কাঠিয়া দাসপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের সরকারি নার্সিং ভর্তি পরীক্ষায় ২৭ ফেব্রুয়ারি অংশ নেন আমেনা খাতুন। পরীক্ষা আশানুরূপ না হওয়ায় বাড়ি ফিরে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এ নিয়ে রাতে তার মা বকাবকি করেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেই অভিমান থেকেই তিনি গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন।


স্থানীয়রা জানান, পারিবারিক কিছু কলহও ছিল। এছাড়া আমেনার বিয়ে হয়েছিল বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।


খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

Labels: ,

নায়েব আশরাফুজ্জামানের কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ

 সম্পদের উৎসের তদন্ত দাবি সচেতন মহলের

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:


অসচ্ছল পরিবার থেকে উঠে আসা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব আশরাফুজ্জামান ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়েছেন। একজন সরকারি কর্মচারী হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে তিনি সাতক্ষীরা ও খুলনায় গড়ে তুলেছেন বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তি। সরকারি জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার নামে কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ এখন লোকমুখে।

সম্প্রতি আটুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের দোকানঘর বরাদ্দে মোটা অংকের ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এরপর আস্তে আস্তে তার দুর্নীতির মহাযজ্ঞ সামনে আসতে শুরু করে। তবে দোকানঘর বরাদ্দে মোটা অংকের ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের পর সংবাদ প্রকাশ করলে টনক নড়ে দুর্নীতিবাজ নায়েব আশরাফুজ্জামানের। বিষয়টি মিমাংসা করতে শুরু করেন বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাপ। অবশেষে ভুক্তভোগী জি.এম. আবুল বাশারের টাকা ফেরত দিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে ভুক্তভোগী টাকা ফেরত পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ধুরন্ধর নায়েব টাকা ফেরত দেবে না বলে বিভিন্ন মাধ্যমে টাকা ফেরত দেওয়ার গুজব রটিয়েছেন। 

ভুক্তভোগী আটুলিয়া ইউনিয়নের ০২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য জি.এম. আবুল বাশার সূত্রে জানা গেছে, সরকারি জায়গায় দোকানঘর বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নায়েব তার থেকে তিন লাখ টাকা উৎকোচ নিয়েছে। একটি লাল রঙের শপিং ব্যাগে করে ওই অর্থ ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে তিনি প্রদান করেন। 

ভুক্তভোগীর দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দোকানঘর বরাদ্দ না পেয়ে তিনি টাকা ফেরত চাইলে তাকে নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে টালবাহানা করা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের বসুন্ধরা পত্রিকায় সংবাদটি প্রকাশের পর পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। অভিযোগ রয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নায়েব আশরাফুজ্জামান ভুক্তভোগীর কাছে তিন লাখ টাকা ফেরত দেন। এতে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হলেও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

নায়েব আশরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে তথ্যনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি সাতক্ষীরা শহরের প্রাণকেন্দ্রে বিলাসবহুল রাজ হোটেলের পূর্ব পাশে ১ কোটি ২ লাখ টাকা মূল্যের একটি দুই তলা বাড়িসহ জমি ক্রয় করেছেন। এখানেই শেষ নয়, শহরের আমতলা মোড়ে আরও একটি দুই তলা বাড়ি ও দুটি দোকান কিনেছেন যার বাজারমূল্য প্রায় ৭৫ লাখ টাকা। নিজের অবৈধ উপার্জনকে আড়াল করতে তিনি শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়দের নামেও সম্পদ গড়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর এলাকায় শ্বশুরের নামে ৫ শতক আম বাগান কিনেছেন, যার বর্তমান মূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা।

বর্তমানে আটুলিয়া ইউনিয়নে কর্মরত থাকাকালীন তার দুর্নীতির মাত্রা চরমে পৌঁছেছে। অভিযোগ রয়েছে, নওয়াবেঁকী বাজারে সরকারি পেরিফেরিভুক্ত জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার নাম করে তিনি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

দালাল সিন্ডিকেট স্থানীয়রা জানান, ‘শাহাদাৎ’ নামের এক বিশ্বস্ত দালালের মাধ্যমে তিনি প্রতিটি প্লট ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি করছেন। সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে টাকার বিনিময়ে ভুয়া কাগজপত্র ও বন্দোবস্তর আশ্বাস দিয়ে এই বাণিজ্য চালানো হচ্ছে।

একজন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার (নায়েব) বেতন ও বৈধ আয়ের সাথে এই বিপুল সম্পদের কোনো সংগতি নেই। তার নামে ইতোমধ্যে একাধিক অভিযোগ বিভিন্ন দপ্তরে জমা পড়লেও রহস্যজনক কারণে তিনি বহাল তবিয়তে আছেন। তার এই নামে-বেনামে গড়ে তোলা সাম্রাজ্যের সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। স্থানীয়দের দাবি, দুদক (দুদক) তদন্ত করলে তার আরও ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র বেরিয়ে আসবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নায়েব আশরাফুজ্জামানের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি রাশেদ হোসাইন জানান, নায়েব আশরাফুজ্জামানের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, টাকা ফেরত দেওয়া মানেই দায়মুক্তি নয়; বরং পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের দুর্নীতি ভবিষ্যতে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

Labels: , ,

Friday, February 27, 2026

নলতা চৌমহনী টুটুল মাস্টার দম্পতির বিরুদ্ধে দোকান দখলের অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক :  সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা চৌমহনী বাজারে একটি কাঁচা মাল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দোকান ঘর জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে আইনগত সহায়তা চেয়েছেন।


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব নলতা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ মাহাবুবার রহমান (৪৫) দীর্ঘদিন ধরে নলতা চৌমহনী বাজারে একটি কাঁচা মালের দোকান ভোগদখলে রেখে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, একই এলাকার মোঃ টুটুল মাস্টার (৪৮) ও তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে দোকানটি দখলের উদ্দেশ্যে নানা কৌশল অবলম্বন করে আসছিলেন।

ভুক্তভোগীর দাবি, দোকান জবরদখলের চেষ্টা প্রতিহত করতে গেলে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ব্যর্থ হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তিনি দোকানে অনুপস্থিত থাকার সুযোগে অভিযুক্তরা দোকানে নিজেদের তালা লাগিয়ে দেন। পরে বিষয়টি জানতে চাইলে তাকে হুমকি দিয়ে বলা হয়, দোকানটি জোরপূর্বক দখল করা হবে এবং বাধা দিলে তাকে হত্যারও হুমকি দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যেকোনো সময় তার বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযুক্ত টুটুল মাস্টারের ব্যবহারিত মোবাইল নাম্বারে একাধিক বার কল দিলে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 

এবিষয়ে সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহা: মিজানুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি আশ্বস্ত করেন, একটি অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত প্রক্রিয়াধীন। সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত করে দখলমুক্ত করা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ ধরনের প্রকাশ্য দখলচেষ্টা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বাজার এলাকায় ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

Labels: , ,

Thursday, February 26, 2026

‎লাগামহীন ওয়ান এক্স বেট সম্রাট রাহাত বেপরোয়া

  


নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের সর্বশেষ উপকূলীয় সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরার শ্যামনগরের একটি দ্বীপ ইউনিয়নের নাম পদ্মপুকুর, ভৌগলিক অবস্থানে এর চারপাশেই কয়েকটি থানার সীমান্ত। আর এই প্রত্যান্ত এলাকার মানুষের এক সময়ের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র মাধ্যম ছিলো মাছ চাষ ও মাছ ধরা। তবে বর্তমানে এই এলাকা এখন জেলা ছাড়িয়ে দেশজুড়ে বেশ আলোচিত, কারন এখানেই নিয়ন্ত্রন হয় লাখ লাখ টাকার অনলাইন জুয়ার সাইটের লেনদেন। এই লেনদেনে দেশব্যাপী শীর্ষ মাস্টার এজেন্টদের হাতে গোনা কয়েক জনের মধ্যে একজন ওয়ান এক্স বেট সম্রাট খ্যাত রাহানুল ইসলাম রাহাত। সে এই ইউনিয়নের চালঘোলা গুচ্ছগ্রামের কাঠমিস্ত্রি হারুনার রশিদের ছেলে। হতদরিদ্র পরিবারের এক সময়ের ইট ভাটা শ্রমিক রাহাত এখন শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছে ওয়ান এক্স বেট সম্রাট।

‎দেশজুড়ে মাদকের থেকে ভয়ংকর রূপ ধারন করেছে অনলাইন জুয়া। কৈশোর থেকে বৃদ্ধ, সব বয়সের নারী পুরষ, দরিদ্র শ্রেণীর থেকে ধর্নাঢ্য সকল পর্যায়ের মানুষ এই জুয়ায় আসক্ত হয়ে সর্বশান্ত

‎হচ্ছে। কেউ কেউ করছে আত্মহত্যা, ঠিক সম্প্রতি সময়ে রাহাতের প্ররোচণায় জুয়ায় আশক্ত হয়ে সম্প্রতি সময়ে একই এলাকার ওহেদ সানার ছেলে মোঃ কাজল সানা ও মহাসিন সানার ছেলে মোঃ মেহেদী হাসান সানা আত্মহত্যা করেছে বলে জানা গেছে।

‎খুলনা, সাতক্ষীরা সহ রাহাতের নিজ এলাকায় তার রয়েছে শত শত বিঘা মাছের ঘের ও বিলান জমি। শ্যামনগরসহ জেলা শহরেও প্রচার রয়েছে রাহাত এসপি, ডিআইজি ছাড়া মেলা মেশা করে না। শুধুমাত্র পদ্মপুকুর এলাকাতে তার রয়েছে তার নিয়ন্ত্রিত শতাধিক মাস্টার এজেন্ট। কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এই এলাকায় ভৌগলিক কারনে নেই তেমন কোন আইনি নজরদারি। অলিখিত এক মাশওয়ারা এর মাধ্যমে এখানকার আইনকে ম্যানেজ করে বলে জানান এলাকাবাসী।

‎এদিকে ওয়ান এক্স বেট সম্রাট নামক লাগামহীন রাহাত রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়ার পরে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তার এলাকা ছাড়িয়ে জেলা শহরের আলোচিত রাহাতের সম্পর্কে প্রচার আছে ডিআইজি এসপি সব তার পকেটে। এলাকাবাসী জানায়, রাহাত এলাকায় প্রচার করে, শ্যামনগর থানার ওসি, তদন্ত ওসি ও এএসআই ওলিউর রহমান তার কাছের লোক।

‎গত বছরের ১৫ জানুয়ারি, পদ্মপুকুর ইউনিয়নের খুটিকাটা চালখোলা গুচ্ছগ্রাম নিজ বাড়ি থেকে আটক করে থানা পুলিশ। সেবার কারাভোগ করে বেড়িয়ে রাহাত হয়ে ওঠে আরো বেপরোয়া। পুরো শ্যামনগর উপজেলায় তার রয়েছে তিন শতাধিক কিশোর গ্যাং।

‎তথ্য অনুসন্ধানে বেড়িয়ে আসে রাহাতের জুয়ার এজেন্টে ব্যবহারিত হোয়াটসএ্যাপ নম্বর ০১৭২৭-৬০৫১৮৩, ০১৯১০-৩৩৩৩০১, সিটি ব্যাংকে তার বাবার নামের একাউন্ট নম্বর: ২৩০৩৪৮-৬১৫৪০০১, তার নিজ নামীয় ওয়েস্টার্ন ব্যাংকের একাউন্ট: ৪৫২০১৭২৪০৬০৭৬৮৩৬, তার বিকাশ পেমেন্ট মার্চেন্ট নম্বর: ০১৯১০-৩৩৩৩০১ এবং তার বিকাশ ও নগদ এজেন্ট নম্বর: ০১৭১০-৭৮৩৮৭৭। জানা গেছে জেলায় মোবাইল এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা, নগদ ও বিকাশের ডিলাররা সরাসরি এই জুয়ার টাকা লেনদেনে জড়িত। যার কারনে প্রতিষ্ঠান ও সঠিক তথ্য সরবরাহ না করেই এই জুয়া চক্রের হাতে চলে যায় এজেন্ট সিম ও ভিন্ন তরিকায় চলে এই টাকার লেনদেন।


‎একজন বিগ মাস্টার এজেন্ট এর মুভক্যাশ সহ বিকাশ, নগদ, রকেটের পেমেন্ট, এজেন্ট, পার্সোনাল একাউন্টে সব সময় কোটিকোটি টাকা থাকে। যেকারনে তারা সব সময় নিরাপদে থাকার চেষ্টা করে।

‎এদিকে দেশের আরেক বিগ মাস্টার এজেন্ট মেহেরপুরের মুরশীদ আলম লিপুকে গত বছর আটক করে জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি আভিযানিক দল। অনুসন্ধানে পাওয়া যায়, অভিযানের ঘটনাস্থল কাগজ কলমে মামলার বাদী রইচপুর বাইপাস সড়ক দেখালেও, ওপেন সিক্রেট হলো দীর্ঘ সাত মাস লিপু মোজাফ্ফার গার্ডেন নামক রিসোর্টের জাহাজবাড়ি নামক ভবনে অবস্থান করছিলো। সকলের মাঝে চাওর আছে মাশওয়ারা ও উপঢৌকনে কমতি হলেই আটক হয় এই এজেন্টরা। অভিযানের ঘটনাস্থান পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ নিজাম উদ্দিন জানান, এবিষয়ে মামলার বাদি বলতে পারবে, ঘটনাস্থান যেটাই হোক তদন্তে সঠিকটা বেড়িয়ে আসবে।

‎শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এরা নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে তারা প্রকৃত অপরাধি, ভৌগলিক সমস্যার কারনে এরা সংবাদ পেয়ে যায়। ওই এলাকায় যেতে গেলে একটা ফেরী পার হতে হয় এবং এরা খুবই চালাক পালিয়ে যায়। তিনি আরো বলেন, তাকে ধরতে জেলা পুলিশ সুপার মহোদয় একটা টিম গঠন করেছেন।

‎স্থানীয়রা জানান, ওয়ান এক্স বেট সম্রাট এর বিরুদ্ধে কোন কিছু বলতে গেলে, রাহাতে ডান হাত তার তৈবুর ইসলাম অস্ত্র সহ মহড়া দেয়। কিছু দিন আগে রাহাতের ডান হাত তৈবুর অস্ত্র সহ মহড়া দেয়ার সময় এলাকাবাসীর ধাওয়া খেয়ে অস্ত্র ফেলে পালিয়ে যায়। ওয়ান এক্স বেট সম্রাট রাহাত এর বিরুদ্ধে বহুবার অভিযোগ করলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায় নাই।

‎স্থানীয়রা আরো জানান, চুরি ছ্যাচড়ামির মত ছোট খাটো অপরাধ পুলিশের অগোচরে করা গেলেও, ওয়ান এক্স বেট সম্রাট রাহাতের মত সঙ্গবদ্ধ চক্র পুলিশ প্রসাশন ম্যানেজ না করে তাদের অপকর্ম

‎চালোনো প্রায় অসম্ভব। সচেতন মহল ও এলাকাবাসী এদেরকে আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশ সুপার সহ সংশ্লিষ্ট সকলের আশু হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন।

Labels: , ,

দোকানঘর বরাদ্দে ঘুষের অভিযোগ: সংবাদ প্রকাশের পর টাকা ফেরত দিলেন ভূমি কর্মকর্তা

 




সাইফুল আজম খান(মামুন) সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের দোকানঘর বরাদ্দকে কেন্দ্র করে গুরুতর ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান এর বিরুদ্ধে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নের ০২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য জি.এম. আবুল বাশার এর কাছ থেকে দোকানঘর বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিন লাখ টাকা উৎকোচ নেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, লাল রঙের একটি শপিং ব্যাগে করে ওই অর্থ ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার কার্যালয়ে গ্রহণ করা হয়।

ভুক্তভোগীর দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দোকানঘর বরাদ্দ না পেয়ে তিনি টাকা ফেরত চাইলে তাকে নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে টালবাহানা করা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের বসুন্ধরা পত্রিকায় সংবাদটি প্রকাশের পর পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। অভিযোগ রয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নায়েব আশরাফুজ্জামান ভুক্তভোগীর কাছে তিন লাখ টাকা ফেরত দেন। এতে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হলেও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।


এ বিষয়ে অভিযুক্ত নায়েব আশরাফুজ্জামানের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি রাশেদ হোসাইনের সাথে কথা বলে জানতে পারি- নায়েবের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, টাকা ফেরত দেওয়া মানেই দায়মুক্তি নয়; বরং পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের দুর্নীতি ভবিষ্যতে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

Labels: , ,

Wednesday, February 25, 2026

দুমকি উপজেলায়, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির দায়ে দোকানিকে জরিমানা






জাকির হোসেন হাওলাদার

দুমকী পটুয়াখালী প্রতিনিধি :




 মাহে রমজানে পণ্যের মান ও মূল্য স্বাভাবিক রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে পটুয়াখালী জেলার  দুমকি উপজেলায়, এক দোকানিকে জরিমানা করা হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ আইসক্রিম বিক্রির দায়ে তাকে এক হাজার টাকা জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ ফরিদা সুলতানা।মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার লেবুখালীর পাগলা এলাকায় এ মনিটরিং পরিচালনা করার সময় নজরে আসে মোঃ আরিফুর রহমান মোল্লা নামের এক দোকানির দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ আইসক্রিম বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে ভোক্তা অধিকার সংক্রান্ত আইনে তাকে এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।দণ্ডিত দোকানির গ্রামের বাড়ি কার্তিকপাশা এলাকায় বলে জানা গেছে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, রমজান মাসে বাজার তদারকি অব্যাহত থাকবে এবং জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।

Labels: , ,

দোকানঘর বরাদ্দে তিন লাখ টাকার লেনদেনের অভিযোগ; নায়েবের বিরুদ্ধে প্রশ্ন


সাইফুল আজম খান (মামুন) সাতক্ষীরা :

শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের দোকানঘর বরাদ্দকে কেন্দ্র করে গুরুতর ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামানের দিকে।


ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের ০২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য জি.এম. আবুল বাশারের কাছ থেকে দোকানঘর বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিন লাখ টাকা উৎকোচ গ্রহণ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, লাল রঙের একটি শপিং ব্যাগে করে ওই টাকা ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার কার্যালয়ে গ্রহণ করেন নায়েব আশরাফুজ্জামান।


অভিযোগকারী দাবি করেন, নির্ধারিত সময় পার হলেও দোকানঘর বরাদ্দ না পেয়ে তিনি টাকা ফেরত চাইলে তাকে নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে দিনের পর দিন টালবাহানা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।


স্থানীয়দের মতে, সরকারি সম্পদ বরাদ্দকে কেন্দ্র করে এ ধরনের অনিয়ম প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা যাচাই ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


এ বিষয়ে অভিযুক্ত নায়েব আশরাফুজ্জামানের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি রাশেদ হোসাইনের সাথে কথা বলে জানতে পারি- নায়েবের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, সরকারি সেবা পেতে যদি ঘুষ দিতে হয়, তবে তা দুর্নীতির চক্রকে আরও শক্তিশালী করে। তাই দ্রুত তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগ আর না ওঠে।


Labels: , ,

সাতক্ষীরায় সাংবাদিকদের সম্মানে শহর ছাত্রদলের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

 


সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা শহর ছাত্রদলের উদ্যোগে আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার সপ্তম রমজানে সাংবাদিকদের সম্মানে এক দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাহিন ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে শহরের নিউমার্কেট এলাকার নোঙ্গর অডিটরিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরা নিউ মার্কেট ক্লাবসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ এবং শহর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। ইফতারের আগে উপস্থিত সকলে মিলে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন এবং অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত সাংবাদিকরা তাদের সম্মানে আয়োজিত এই সুন্দর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে ছাত্রদল নেতাদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

Labels: ,

Tuesday, February 24, 2026

খোলপেটুয়া নদীর চর দখলে নায়েব আশরাফুজ্জামান হাতিয়েছেন কোটি টাকা, নেপথ্যে দালাল সিন্ডিকেট

 


আসাদুজ্জামান নয়ন সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি :

সরকারি জমি রক্ষার দায়িত্ব যার কাঁধে, সেই ‘রক্ষক’ ই এখন ‘ভক্ষক’ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব আশরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে খোলপেটুয়া নদীর চর দখল করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি গড়ে তুলেছেন এক বিশাল ‘দালাল সিন্ডিকেট’, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ব্যক্তিগত সম্পদের পাহাড় গড়েছেন এই নায়েব।



অনুসন্ধানে জানা গেছে, নায়েব আশরাফুজ্জামান আটুলিয়া ইউনিয়নের নওয়াবেঁকী বাজার সংলগ্ন খোলপেটুয়া নদীর বিশাল চর এলাকা টাকার বিনিময়ে প্রভাবশালীদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী ও সমিল মালিক মারুফ বিল্লাহকে মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে নদীর চর দখল করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি পেরিফেরিভুক্ত জমি এভাবে ব্যক্তিমালিকানাধীন দখলে দেওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন— "সরকারি কর্মকর্তা হয়ে তিনি কীভাবে নদীর বুক চিরে দখলদারিত্বের সুযোগ করে দেন?"



সূত্র বলছে, নায়েব আশরাফুজ্জামান একা নন, তার আশেপাশে একঝাঁক ‘বিশ্বস্ত দালাল’ পুষে রেখেছেন। এদের মধ্যে ‘শাহাদাৎ’ নামের এক দালালের মাধ্যমে তিনি প্রতিটি প্লট ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি করছেন। সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে ভুয়া কাগজপত্র ও মৌখিক আশ্বাসে এই কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তিকে ম্যানেজ করে এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের টাকার বিনিময়ে চুপ করিয়ে তিনি এই সাম্রাজ্য চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।



একজন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার বেতন কত? সেই প্রশ্ন এখন সবার মুখে। জানা গেছে, নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা এই নায়েবের বর্তমান মাসিক হাত খরচই প্রায় ৫ লাখ টাকা। সাতক্ষীরা শহরের প্রাণকেন্দ্রে রাজ হোটেলের পাশে ১ কোটি ২ লাখ টাকার দ্বিতল বাড়ি, আমতলা মোড়ে ৭৫ লাখ টাকার বাড়ি ও দোকান এবং সুলতানপুরে শ্বশুরের নামে ৬০ লাখ টাকার আম বাগান— এই বিপুল সম্পদের উৎস কী, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।



বর্তমানে এই নায়েবের দুর্নীতির মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, স্থানীয়রা এখন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। যদিও ইতোমধ্যে বিভিন্ন দপ্তরে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে, কিন্তু অদৃশ্য কারণে তিনি এখনো বহাল তবিয়তে তার ‘আলাদিনের চেরাগ’ চালিয়ে যাচ্ছেন।

"আমরা অসহায়। সরকারি জমি নায়েব নিজেই বিক্রি করে দিচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসন চুপচাপ থাকায় দখলদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।" — নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় বাসিন্দা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নায়েব আশরাফুজ্জামানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের দাবি, তার সম্পদের সুষ্ঠু তদন্ত করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।


আসছে তৃতীয় পর্ব...

নায়েব আশরাফুজ্জামানের এই অবৈধ সাম্রাজ্যের আরও গোপন তথ্য, কোন কোন রাঘববোয়াল এর ভাগ পাচ্ছেন এবং নথিপত্র জালিয়াতির রোমহর্ষক সব তথ্য ফাঁস করা হবে আগামী পর্বে। চোখ রাখুন।

Labels: , ,

Monday, February 23, 2026

ঝাউডাঙ্গায় পেরীফেরীভুক্ত জমিতে অবৈধভাবে ভবন নির্মানের অভিযোগ : ভূমি কর্মকর্তার কথা শুনছেন না দখলদার

 



নিজস্ব প্রতিনিধি : আইন অমান্য করে ঝাউডাঙ্গা বাজারে পেরীফেরী ভুক্ত জমিতে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ অব্যহত থাকলেও যেন দেখার কেউ নেই। অবৈধভাবে ভবন নির্মান বন্ধের দাবিতে অভিযোগ দায়ের করেও কোন সুফল পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীরা। 

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ওয়ারিয়া মৌজার আর এস ০১ নং খতিয়ান ভুক্ত ১৫৯৮ নং দাগের ঝাউডাঙ্গা বাজারের পেরীফেরী ভূক্ত জমির দোকান রয়েছে। সরকারি সম্পত্তিতে কোন প্রকার পাকা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ না থাকলেও বলাডাঙ্গা এলাকার মৃত মোসলেম আলীর পুত্র শহিদুল বাহার সাবেক চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় জমির সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে পাকা ভবন নির্মান শুরু করে। এনিয়ে একাধিকবার স্থানীয়রা জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। 

অভিযোগকারী শিরিনা সুলতানা বলেন, অভিযোগের পরেও ভবন নির্মান বন্ধের জন্য দৃশ্যমান কোন কার্যক্রম চোখে পড়েনি। যদিও ভূমি কর্মকর্তা বারবার বলছেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে শহিদুল বাহার আইনের কোন তোয়াক্কা না করে তিনতলা ভবন নির্মান কাজ অব্যাহত রেখেছেন। এবিষয়ে তিনি দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। 

এবিষয়ে সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার(ভূমি) বদরুদ্দোজা বলেন, আমরা সরেজমিনে জায়গটা পরিদর্শন করেছি। তাদের নোটিশও দিয়েছি। কিন্তু তারা কোন শোনেনি। আমরা অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। ##

Labels: , ,

সাতক্ষীরা জেলা সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ এবং আইসিটি ও ইনোভেশন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

 


নিজস্ব প্রতিবেদক সাতক্ষীরা :সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টায় টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (শিক্ষা ও আইসিটি) শরীফ আসিফ রহমান এর সভাপতিত্বে এ সকল সভা অনুষ্ঠিত হয়। 


সভায় গতমাসের রেজুলেশনে উপর অগ্রগতি ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যাড অপস্) মিথুন সরকার, আইসিটি সহকারী পরিচালক সুব্রত, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা একাডেমিক সুপারভাইজার আনম নাজমুল উলা, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সাকিবুর রহমান বাবলা, ওসিসি প্রোগ্রাম অফিসার আব্দুল হাই সিদ্দিক, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স এর ইনচার্জ মোঃ শরিফুল ইসলাম, সাইবার ক্রাইম এলার্ট টিম লিডার শেখ মাহবুবুল হক, সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোবাশ্বেরুর রহমান, ঋশিল্পী সেন্টার হাইস্কুলের আইসিটি শিক্ষক মোঃ সাইফুল আলম প্রমূখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন কমিটির অন্যান্য সদস্যগণ।


সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ; মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুলে সাইবার প্রতিরোধে কমিটি গঠন ও কার্যক্রম জোরদার, সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সচেতন, প্রশিক্ষণ, সচেতনতামূলক কন্টেইন তৈরি ও সম্প্রচার করা, আইসিটি শিক্ষকদের মধ্যেমে: ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ কৌশল, নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার, এলাকা ভিত্তিক অনলাইন অপসংস্কৃতি প্রতিরোধ, অনলাইন মনিটরিং জোরদার, এআই জেনারেটেড তথ্য ও কন্টেইন চিহ্নিতকরণ, আমলযোগ্য অপরাধ দ্রুত আইনের আওতায় আনা, সিভিল প্রটেকশন ফোর্স তৈরি করা। আইসিটি ও ইনোভেশন; সরকারি অফিসের সকল তথ্য  জেলার মোট ১৩১টি আইসিটি ল্যাব সম্বলিত স্কুলগুলোর ল্যাব সচল ও শিক্ষার্থীদের ব্যবহার নিশ্চিত ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় পর্যায়ে তদারকিকরণ, মাস্টার ট্রেইনারদের সম্পৃক্তকরা, ইনোভেশন হাব ও নতুন নতুন কন্টেইন ধারণা সংগ্রহ ও মূল্যয়ন করা,।

সভাগুলো সঞ্চালনা করেন সহকারী কমিশনার আফরিন সিদ্দিকা।


Labels: ,

সাতক্ষীরায় স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন প্রকল্পের উদ্বোধন ও উপকারভোগীদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

 


সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে ‘স্বাস্থ্যসম্মত সেমিপাকা স্যানিটারি ল্যাট্রিন’ প্রকল্পের উদ্বোধন ও উপকারভোগীদের নিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ সেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩:৩০টায় পুরাতন সাতক্ষীরাস্থ শহরের ক্রিসেন্ট কার্যালয়ে এই কর্মসূচি উদ্বোধন হয়।


উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব অর্ণব দত্ত। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক মোজাম্মেল হোসেন।


সভার বক্তারা বলেন, গ্রামীণ স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্যানিটেশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন অপরিহার্য। এবিষয়ে বেসিক প্রশিক্ষণ এবং উপযুক্ত এরিয়াগুলোতে এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ের অস্বচ্ছল মানুষেরা সরাসরি উপকৃত হবেন। 


অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা আলীয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ও সংস্থার সদস্য ড. মোঃ আক্তারুজ্জামান, সংস্থার সাবেক সভাপতি ও সাতক্ষীরা জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ পাড় এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন জেলা কমিটির সদস্য সাকিবুর রহমান বাবলা।


অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রকল্পের উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রশিক্ষণ শেষে প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়।

Labels: ,

Saturday, February 21, 2026

শ্যামনগরে ত্রাসের রাজত্ব ও নিয়োগ জালিয়াতি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা রাজ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

 

নিজস্ব প্রতিবেদক সাতক্ষীরা :


সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ৯ নং বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নে ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি, ভূমি দস্যুতা এবং সরকারি হাসপাতালের ওষুধ চুরির এক ভয়াবহ সাম্রাজ্য গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের স্থানীয় সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন রাজের বিরুদ্ধে। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ হলেও এই নেতার দাপট ও রহস্যজনকভাবে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।


অনুসন্ধানে জানা যায়, আল-আমিন রাজের উত্থানের পেছনে রয়েছে জালিয়াতির এক অভিনব কৌশল। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে 'আউটসোর্সিং' পদ্ধতিতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে প্রবেশ করে পরবর্তীতে মোটা অংকের আর্থিক লেনদেন ও রাজনৈতিক প্রভাবে নিজের পদটি স্থায়ী করে নেন তিনি। নিজেকে সরকারি কর্মচারী পরিচয় দিলেও মূলত তিনি হাসপাতালের সরকারি ওষুধ পাচারকারী চক্রের মূল হোতা বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, হাসপাতালের বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ চুরি করে রাজ তার আবাদ চন্ডিপুর গ্রামের 'মোল্লাবাড়ি মোড়ে' অবস্থিত নিজস্ব ফার্মেসিতে বিক্রি করেন। এই ফার্মেসি পরিচালনা করেন তার ছোট ভাই আমিনুর রহমান। এই ওষুধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের প্রাপ্য চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।


আল-আমিন রাজের ক্ষমতার মূল খুঁটি ছিল তার শ্বশুরবাড়ি। তার শ্বশুর আনসার আলী সাবেক এমপি আতাউল হক দোলনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং শ্যালক অয়েজ উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ায় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় রাজত্ব কায়েম করেন তিনি। সাধারণ মানুষের জমি দখল এবং ঘের দখল ছিল তাদের নিত্যনৈমিত্তিক কাজ। ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতিবাদ করলে ছাত্রলীগের ক্যাডার বাহিনী দিয়ে চলত অমানবিক নির্যাতন।


রাজের পিতা আবু দাউদ তরফদারের বিরুদ্ধেও পাহাড়সম অভিযোগ রয়েছে। আবাদ চন্ডিপুর হাই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য থাকাকালীন তিনি স্কুলের উন্নয়ন তহবিল তছরুপ এবং শিক্ষক নিয়োগের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বাবা-ছেলের এই অবৈধ উপার্জিত অর্থে নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ ও জমি কেনা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।


ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পর নিজেকে আড়াল করতে রাজ ও তার পরিবার নতুন কৌশল নিয়েছেন। বর্তমানে তার পিতা আবু দাউদ তরফদার স্থানীয় বিএনপি সমর্থিত ইউপি সদস্য আবিদ হাসানের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে এলাকায় পুনরায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা হয়েও রাজ কেন এখনও আইনের আওতায় আসছেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও রাজের নিয়োগের বিষয়টি এবং ওষুধ চুরির সিন্ডিকেট খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি—অবিলম্বে আল-আমিন রাজকে গ্রেপ্তার, তার অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং দখলকৃত জমি প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দিতে হবে।

Labels: ,

Friday, February 20, 2026

সুন্দরবনে নিষিদ্ধ ‘পার্শে’র পোনা লুটের মহোৎসব কাঠগড়ায় কৈখালী ফরেস্ট অফিসের এসও

 


নিজস্ব প্রতিবেদক সাতক্ষীরা :

  সুন্দরবন সংলগ্ন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ও রমজাননগর এলাকায় পার্শে মাছের পোনা অবৈধভাবে আহরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কৈখালী ফরেস্ট অফিসের স্টেশন অফিসারের (এসও) প্রত্যক্ষ মদদ ও ‘নৌকা প্রতি মাসোহারা’র বিনিময়ে প্রতিদিন সংরক্ষিত বন থেকে পাচার হচ্ছে বিপুল পরিমাণ মাছের পোনা।

যেভাবে চলছে লুটতরাজ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ১০–১২টি নৌকায় নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে পার্শে মাছের পোনা শিকার করা হচ্ছে। প্রতিটি নৌকা থেকে গড়ে ৮–৯ কেজি পোনা আহরণ করা হয়। অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই মাছভর্তি নৌকাগুলো নির্বিঘ্নে কৈখালী ফরেস্ট অফিসের সামনে দিয়ে প্রবাহিত মাদার নদী হয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এরপর ইঞ্জিনচালিত ভ্যানে করে সেই পোনা জেলার বিভিন্ন মাছের বাজারে ও ঘেরে সরবরাহ করা হচ্ছে।

অভিযোগের তীর ফরেস্ট কর্মকর্তার দিকে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, একটি প্রভাবশালী দালাল চক্রের মাধ্যমে এই সিন্ডিকেট পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি নৌকা থেকে ২ হাজার টাকা করে মাসোহারা নেন কৈখালী ফরেস্ট অফিসের বর্তমান স্টেশন অফিসার। টাকা দিলে মিলছে অবৈধভাবে মাছ ধরার অলিখিত অনুমতি।

স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন

“ফরেস্ট অফিসের সামনে দিয়ে দিনদুপুরে পোনা পাচার হচ্ছে, অথচ তারা অন্ধ সেজে বসে আছে। নৌকা প্রতি ২ হাজার টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। বারবার অভিযোগ দিয়েও কোনো ফল পাচ্ছি না। বন কর্মকর্তাদের সহায়তা ছাড়া এভাবে সরকারি সম্পদ লুট করা অসম্ভব।”

হুমকিতে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পার্শে মাছের পোনা এভাবে নির্বিচারে ধ্বংস করার ফলে সুন্দরবনের মৎস্য ভাণ্ডার শূন্য হয়ে পড়ছে। আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত বনাঞ্চলে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার এবং পোনা আহরণ দণ্ডনীয় অপরাধ। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে স্থানীয় ক্ষুদ্র জেলেরা কর্মহীন হয়ে পড়বে এবং সুন্দরবনের বাস্তুসংস্থান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

দাবি ও প্রতিকার সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সচেতন মহল অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় তদন্ত ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে। সেই সঙ্গে মাদার নদী ও সংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত টহল জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

Labels: ,

Thursday, February 19, 2026

সাতক্ষীরা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও জোর প্রতিবাদ

 


চ্যানেল এস টিভি-এর ভোলা জেলা প্রতিনিধি মোঃ মনসুর আলম-এর ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও জোর প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। এ ধরনের ন্যক্কারজনক ও কাপুরুষোচিত হামলা শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর আঘাত নয়, এটি স্বাধীন গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।


আমরা অবিলম্বে হামলাকারীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে এই ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানাচ্ছি।


সাংবাদিকরা জাতির বিবেক। তারা সমাজের অসঙ্গতি, দুর্নীতি ও অনিয়ম তুলে ধরেন বলেই কিছু অসাধু মহল ক্ষুব্ধ হয়ে এ ধরনের হামলার পথ বেছে নেয়। কিন্তু কোনো ভয়ভীতি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সত্য প্রকাশের পথ রুদ্ধ করা যাবে না।


আমরা দাবি করছি—


সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।


সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দানকারীদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।


ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।


গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক, সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় বন্ধ হোক।

সাংবাদিক নির্যাতনের অবসান চাই।

সাতক্ষীরা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন 

সভাপতি: শেখ রেজাউল ইসলাম বাবলু 

Labels: ,

সাতক্ষীরা দেবহাটা ভুয়া ডিগ্রি ও প্রতারণার অভিযোগে হেকিম আমিরুল ইসলাম: ১৮ বছর ধরে চিকিৎসার নামে প্রতারণা!

 

মোতালেব সরদার সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:


ভুয়া ডিগ্রি ও জাল নথি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে হেকিম আমিরুল ইসলাম বিরুদ্ধে তিনি বিভিন্ন সংগঠনের সাথে থেকে চালিয়ে যাচ্ছে সাধারণ রোগীদের সাথেও প্রতারণা দেবহাটা উপজেলার দুর্নীতি দমন কমিটির সদস্য, দেবহাটা উপজেলা সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক, সাতক্ষীরা সাংবাদিক ক্লাবের সদর উপজেলার সহ-সভাপতি ও দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক এছাড়া বহু সংগঠনের সাথে সম্পর্ক রেখে দিদারসে চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের অসহায় দরিদ্র রোগীদের সাথে প্রতারণা , হেকিম আমিরুল ইসলাম বাংলাদেশী ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক বোর্ড ঢাকার অধীনে খুলনা ইউনানী মেডিকেল কলেজ থেকে ডিপ্লোমা ইন ইউনানী মেডিসিন  রেজিস্ট্রেশন নাম্বার এ,১৫৮২। হেকিমি রেজিস্ট্রেশন করে তিনি তার নামের পূর্বে ডাক্তার লিখে রোগীদেরকে প্রতিনিয়ত ঠকাচ্ছে হেকিম আমিনুল ইসলাম । অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি দাবি করে আসছেন যে বাংলাদেশ ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক বোর্ড, ঢাকা’র অধীনে খুলনা ইউনানী মেডিকেল কলেজ থেকে ডিপ্লোমা ইন ইউনানী মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তার প্রদত্ত রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৮৪২৩/২০০৫-২০০৬ — যা সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে সম্পূর্ণ ভুয়া ও মনগড়া বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধভাবে ডিগ্রিধারী পরিচয় ব্যবহার করে বছরের পর বছর চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন তিনি। সময়ের সাথে নিজেকে বড় ডিগ্রিধারী চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি বিপুল সম্পদও গড়ে তুলেছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। নিজেকে আড়াল করতে তিনি বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ান বলেও অভিযোগ রয়েছে। তিনি বাংলাদেশ গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতির কুলিয়া ইউনিয়ন শাখার সদস্য (সদস্য নং-১৩৪১) হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। এছাড়া ২০২০ সালে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের অধীনে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণের একটি সনদ থাকলেও সেটির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ১৮ বছর ধরে চিকিৎসা সেবার নামে সাধারণ রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর নিজেকে রক্ষা করতে দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের ব্যানারে একটি প্রতিবাদ বিবৃতি দেওয়া হয়, যা সংশ্লিষ্ট মহলের মতে ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন। অভিযোগের বিষয়ে কথিত ডাক্তার আমিরুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি এ প্রতিবেদক কে বলেন, আমি ২১ দিনের সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের ট্রেনিং করেছি। অপর একটি প্রশ্ন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়- তিনি ২১ দিনের ট্রেনিংয়ে কি ডাক্তার লিখতে পারেন? এই প্রশ্ন ছুড়ে দিলে তার প্রতি উত্তরে তিনি খুলনা ইউনানী মেডিকেল কলেজ থেকে স্বীকৃত সনদের কথা বলেন। পরবর্তীতে তড়িঘড়ি করে আলাপ কলটি বিচ্ছিন্ন করেন।

সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুস সালামের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার এই সম্পর্কে জানতে হবে। আপনি বললেন আমি হুট করে বক্তব্য দিতে পারি না। ঠিক আছে ভালো থাকবেন। বলে তড়িঘড়ি করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। আবার অনেকে দাবি করছেন- সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন কে ম্যানেজ করে জেলা জুড়ে এই সকল হাতুড়ি ডাক্তাররা অবৈধভাবে তাদের এই কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন। দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: সাইফুল ইসলামের নিকট পাইলস্ ডক্টর চেম্বার বিষয়ে কথা হলে তিনি আশ্বস্ত করেন আগামীকাল আমি ওইখানে যাবো। সম্ভবত এই নামে কোন রেজিস্ট্রেশন নেই। বিষয়টি শুনেছি ব্যবস্থা নিবো। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পাবেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা রোধ করা সম্ভব হবে।

Labels: , ,

Wednesday, February 18, 2026

ঐতিহাসিক টিয়ে রাজার পুকুর সংরক্ষণে মানিকহারে বেলা’র উদ্যোগে আলোচনা সভা

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা: 


সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানাধীন মানিকহারে ঐতিহাসিক 'টিয়ে রাজার পুকুর' (দীঘি)-এর ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে এক মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪টার মানিকহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর আয়োজনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন 'বেলা'-এর খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী অ্যাড. মুকুল। তিনি তার বক্তব্যে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা ও স্থানীয় ইতিহাস সংরক্ষণে প্রাচীন জলাশয়গুলোর গুরুত্ব তুলে ধরেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা ইসিএ সদস্য ও বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী সাকিবুর রহমান বাবলা, তিনি বাংলাদেশ পরিবেশ ও প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইনের বাস্তবায়ন এবং এই পুকুরের ইতিহাস ঐতিহ্য উপর গুরুত্ব আরোপ করে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। 

সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অবসর মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা আব্দুল গফফার, মানিকহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রেজাউল করিম ও গোলাম মোস্তফা মল্লিক। 

বক্তারা টিয়ে রাজার পুকুরটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এর ঐতিহ্য রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন।


সভার দ্বিতীয় পর্যায়ে পুকুরটির ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ কার্যক্রমকে বেগবান করতে ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি 'আহ্বায়ক কমিটি' গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে জাবিদ ইকবাল বাবুকে আহ্বায়ক এবং আমান উল্লাহ মল্লিককে সদস্য সচিব নির্বাচিত করা হয়। নবগঠিত এই কমিটি ঐতিহ্যবাহী এই জলাশয়টি ইতিহাস ঐতিহ্য, প্রচার প্রচারণা, ঐতিহাসিক নিদর্শন সংগ্রহ, তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ, সংরক্ষণ, রচনাবলী তৈরি, ও বিবিধ বিষয়ে ঐতিহাসিক রূপ ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের সাথে সমন্বয় করে কাজ করবে।

এবিষয়ে জাতীয় পর্যায়ের উন্নয়ন সংস্থা বেলা ও স্থানীয় উন্নয়ন সংগঠন সুন্দরবন ফাউন্ডেশন সার্বিক সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন সুন্দরবন ফাউন্ডেশন এর নির্বাহী পরিচালক শেখ আফজাল হোসেন।

Labels: ,

সদ্য জেগে ওঠা প্রাণসায়ের খাল পুনঃমৃতকরণের অপচেষ্টার প্রতিবাদে প্রতিবাদী বন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

 


নিজস্ব প্রতিবেদক সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার প্রাণকেন্দ্র দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী প্রাণসায়ের খালকে পুনরায় দখল ও ভরাটের অপচেষ্টার প্রতিবাদে ব্যাপক মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

“সদ্য জেগে ওঠা প্রাণসায়ের খাল পুনঃমৃতকরণের অপচেষ্টার প্রতিবাদে প্রতিবাদী বন্ধন” শীর্ষক এ কর্মসূচিতে স্থানীয় সচেতন নাগরিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পরিবেশকর্মী, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা খাল রক্ষার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

কর্মসূচির আয়োজন করে প্রাণসায়ের ও পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চ, সাতক্ষীরা। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এক সময় প্রাণসায়ের খাল ছিল সাতক্ষীরা শহরের প্রাণ। এই খাল দিয়ে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন হতো এবং শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। কিন্তু দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দখলদারিত্ব ও অবৈধ ভরাটের কারণে খালটি প্রায় মৃতপ্রায় হয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে খাল পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ফলে খালটি নতুন করে প্রাণ ফিরে পেতে শুরু করে। ঠিক সেই মুহূর্তে আবারও খাল ভরাট ও দখলের অপচেষ্টা স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

এ সময় বক্তারা বলেন, একটি খাল শুধু পানি প্রবাহের মাধ্যম নয়, এটি একটি অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার অন্যতম উপাদান। প্রাণসায়ের খাল ভরাট হলে শহরে জলাবদ্ধতা, পরিবেশ দূষণ এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি আরও বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই শহরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে।

তারা অবিলম্বে খাল ভরাটের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং স্থায়ীভাবে খাল সংরক্ষণে কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত তদন্ত করে দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।

বক্তারা আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রাণসায়ের খাল রক্ষায় প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনে লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তারা জানান।

কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা খাল রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

Labels: ,

Monday, February 16, 2026

কালিগঞ্জ থানায় ‘পুলিশ ক্লিয়ারেন্স’ বাণিজ্য মামলার তথ্য গোপন করে আসামিকে বিদেশ পাঠানোর অভিযোগ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক সাতক্ষীরা :



সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ থানায় ‘পুলিশ ক্লিয়ারেন্স’ বা অপরাধমুক্ত সনদ নিয়ে ভয়াবহ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। থানার কম্পিউটার অপারেটর পিয়াসের বিরুদ্ধে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণ করে একাধিক মামলার আসামিকে দেশত্যাগের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এক ভুক্তভোগী। এমনকি মামলার নথি ও জিডি থাকা সত্ত্বেও তথ্য গোপন করে এই ছাড়পত্র প্রদান করা হয়েছে।



অনুসন্ধানে জানা যায়, কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের মদপুর গ্রামের নুর আলী মোল্লার মেয়ে মঞ্জুয়ারা বেগমের নামে আদালতে একাধিক সিআর (CR) মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তিনি ‘পুলিশ ক্লিয়ারেন্স’-এর জন্য আবেদন করেন। গত ৩ জুন ২০২৫ তারিখে আবেদন করার মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় ১৭ জুন থানা থেকে রহস্যজনকভাবে ক্লিয়ারেন্স সনদ বাগিয়ে নেন তিনি।

মঞ্জুয়ারার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার বাদী কাজী আব্দুস সালাম অভিযোগ করেন, আসামি যেন কোনোভাবেই দেশত্যাগ করতে না পারেন, সেজন্য তিনি নিজে কালিগঞ্জ থানায় গিয়ে মামলার সমস্ত নথিপত্র কম্পিউটার অপারেটর পিয়াসের হাতে তুলে দেন এবং একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।



ভুক্তভোগী আব্দুস সালাম সাংবাদিকদের জানান, "আমি নিজে পিয়াসের কাছে গিয়ে মামলার কফি দিয়ে আসি যাতে ক্লিয়ারেন্স না পায়। পিয়াস আমার কাছ থেকে ২ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে সে এটা আটকে দেবে। কিন্তু পরবর্তীতে জানতে পারি, বড় অংকের টাকার বিনিময়ে পিয়াস কোনো তদন্ত ছাড়াই তাকে ক্লিয়ারেন্স দিয়ে দিয়েছে। এমনকি এর সাত দিন পর ২৪ জুন থানায় তার বিরুদ্ধে আরও একটি এফআইআর (FIR) মামলা হয়।"



বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা অভিযুক্ত কম্পিউটার অপারেটর পিয়াসের মুখোমুখি হলে তিনি প্রথমে ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে প্রমাণের মুখে তিনি স্বীকার করেন যে তিনি ক্লিয়ারেন্স দিয়েছেন। পিয়াস দাবি করেন, "অনলাইনে সার্চ দিয়ে আমি কোনো মামলা পাইনি এবং তিনি একটি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।"

তবে প্রশ্ন উঠেছে, একজন কম্পিউটার অপারেটর কীভাবে একজন তদন্তকারী কর্মকর্তার (IO) ভূমিকা পালন করলেন এবং ডিএসবি (DSB) ভেরিফিকেশন বা মাঠ পর্যায়ের তদন্ত ছাড়াই নিজ সিদ্ধান্তে ছাড়পত্র ইস্যু করলেন?



এ ঘটনায় স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী কাজী আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, পুলিশের সেবাকে কলুষিত করা এবং আসামিকে পালানোর সুযোগ করে দেওয়ার দায়ে তিনি সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার (SP) এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স সিকিউরিটি সেলে লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, একজন কম্পিউটার অপারেটরের হাতে থানার এমন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থের বিনিময়ে ছাড়পত্র দেওয়ার ঘটনা পুলিশের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এ বিষয়ে দ্রুত বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।

এটা আমাদের প্রথম পর্ব দ্বিতীয় পর্বের জন্য আমাদের সাথে থাকুন।

Labels: , ,

আশাশুনিতে চোলাই মদ ও সরঞ্জামসহ গ্রেফতার-২




নিজস্ব প্রতিনিধি সাতক্ষীরা :  আশাশুনি থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে চোলাই মদ ও মদ তৈরির সরঞ্জামসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে।  সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে  উপজেলার খাজরা ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার ও মালামাল উদ্ধার করা হয়। 

আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ শামীম আহমদ খানের নির্দেশনায় এএসআই আরিফ,এএসআই ইব্রাহিম ও এসআই ফয়সাল আহমেদ অভিযান পরিচালনাকালে খাজরা ইউনিয়নের খাজরা পূর্বপাড়ার মৃত আইজ উদ্দিন খাঁ'র ছেলে বিল্লাল হোসেন খাঁ ও তার ভাবি তৈয়েবুর খাঁ'র স্ত্রী রিমা সুলতানার বসত বাড়ির রান্না ঘর হতে ১০ লিটার চোলাই মদ,মদ তৈরিতে ব্যবহৃত ৩০ লিটার চিটাগুড় মিশ্রিত পানি ও মদ তৈরি করার পাতিল,ড্রাম জব্দ করা হয় এবং দুই মাদক কারবারীকে গ্রেফতার করা হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছিল।

Labels: , ,

সাতক্ষীরা সাংবাদিক ক্লাবের এহেন কর্মকান্ডের জন্য কার্যকরী সদস্য পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি প্রদান

 


যথাবিহিত সম্মান প্রদর্শন পূর্বক বিনীত নিবেদন এই যে,আমি মোঃমোস্তাফিজুর রহমান আপনার নেতৃত্বাধীন 'সাতক্ষীরা সাংবাদিক ক্লাব'-এর একজন কার্যকরী সদস্য হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছি। ক্লাবটির সাথে আমার পথচলা এবং দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা আমার পেশাগত জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে কিন্তু বর্তমান সংগঠনের মধ্যে কোনো নিয়ম নীতি না থাকতে স্বেচ্ছায় পদ ত্যাগ করিলাম।

​তবে,বর্তমানে আমার ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক কিছু অনিবার্য কারণে (যেমন: পেশাগত ব্যস্ততা বা ব্যক্তিগত সমস্যা) ক্লাবের সাংগঠনিক কার্যক্রমে পূর্বের ন্যায় সক্রিয়ভাবে সময় দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমি মনে করি, যথাযথ সময় দিতে না পেরে কার্যকরী পদে থাকা সংগঠনের গতিশীলতাকে ব্যাহত করতে পারে।

​এমতাবস্থায়,আমি অদ্য ১৬/০২/২০২৬ইং হতে সাতক্ষীরা সাংবাদিক ক্লাবের কার্যকরী সদস্য পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি গ্রহণ করছি।

​অতএব, মহোদয়ের নিকট আকুল আবেদন, আমার এই অব্যাহতিপত্রটি গ্রহণ করে আমাকে কার্যকরী কমিটির দায়িত্ব থেকে মুক্তি দিয়ে বাধিত করবেন।সাতক্ষীরা সাংবাদিক ক্লাবের উত্তরোত্তর সাফল্য এবং সমৃদ্ধি কামনা করছি।

Labels: ,

Sunday, February 15, 2026

আশাশুনিতে নিরাপত্তার নামে আতঙ্ক

 

গোয়েন্দা সদস্যের বিরুদ্ধে নির্যাতন, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি ও ক্ষমতার অপপ্রয়োগের অভিযোগ



মোহাম্মদ মুজাহিদঃ



সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে ক্ষমতার অপব্যবহার, নির্যাতন ও চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মরত কর্পোরাল হুমায়ুনের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ব্যবসায়ী, মৎস্যচাষি ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মাসোহারা আদায়ের অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্য অনুযায়ী, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ড্রেজার মেশিন ও বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মাসিক টাকা না দিলে প্রশাসনিক ঝামেলা, মামলা বা হয়রানির ভয় দেখানো হয় । একইভাবে বিভিন্ন মৎস্য ব্যবসায়ীর কাছ থেকেও নিয়মিত অর্থ দাবি করা হয় বলে একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন।

অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর অংশ উঠে এসেছে মহাজনপুর বিলের একটি ঘটনায়। স্থানীয়দের দাবি, রাতের বেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি দুই যুবক ইমরান ও তারেক কে তুলে নিয়ে মারধর করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, তাদের ওপর এলোপাথাড়ি হামলা চালানো হয় এবং পরে ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। শেষ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করতে বাধ্য হন পরিবার।

আরেক ঘটনায় আশাশুনির আনুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ ফজর আলী গাজীর ছেলে রফিকুল ইসলামের ওপর তল্লাশির নামে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। পরিবারের দাবি, তাকে আটক করে মাদক উদ্ধারের কথা বলা হলেও পরবর্তীতে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয় এবং একটি মামলায় আসামি করা হয়। ভুক্তভোগীর স্বজনদের অভিযোগ, পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল ভয়ভীতি ও চাপ সৃষ্টি করার অংশ।

স্থানীয়দের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন? গোয়েন্দা সংস্থার একজন সদস্য কি সরাসরি অভিযান চালিয়ে কাউকে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন? আইনগতভাবে এসব কার্যক্রমের ক্ষমতা ও সীমা কী? তা নিয়েও জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো আইন প্রয়োগকারী কার্যক্রমে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও কর্তৃপক্ষের অনুমোদন জরুরি। কোনো সংস্থার সদস্য যদি ব্যক্তিগত উদ্যোগে অভিযান পরিচালনা করেন, তবে সেটি আইনগত প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্য উদঘাটন করা হোক। তারা বলছেন, নিরাপত্তা সংস্থার নাম ব্যবহার করে যদি কেউ ব্যক্তিস্বার্থে হয়রানি করে, তবে তা শুধু আইনের শাসনের জন্য নয় রাষ্ট্রের ভাবমূর্তির জন্যও ক্ষতিকর।

স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন, অভিযোগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিষয়টি জানতে অভিযুক্ত হুমায়ুনের আত্মপক্ষ সমর্থনের কোন নীতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। অন্য একটা প্রশ্নে তিনি বলেন আমি সার্জেন্ট সেনাবাহিনীর অনেক আগে থেকে। তাছাড়া আমার বিরুদ্ধে যেগুলো বলছেন তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আপনি তদন্ত করে দেখেন। 

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা ডিজিএফআই এর উপপরিচালক রেজাউল হকের সাথে কথা হলে তিনি আশ্বস্ত করেন– কোন অপরাধী আমার কাছ থেকে ছাড় পাবে না। আপনি ভুক্তভোগীদের আমার কাছে পাঠান। আমি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।

আশাশুনির ঘটনাগুলো এখন শুধু একটি ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়, এটি আইনের প্রয়োগ, জবাবদিহিতা ও নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে বৃহত্তর প্রশ্ন সামনে এনেছে। অভিযোগ সত্য হলে কঠোর ব্যবস্থা এবং মিথ্যা হলে স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করা দুই ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব অপরিহার্য।

জনগণের প্রত্যাশা একটাই আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, এবং নিরাপত্তার নামে যেন আর কোনো নাগরিককে ভয় ও নির্যাতনের মুখে পড়তে না হয়।

Labels: ,

ডাঃ নুরুল আমিন ইসলামী আন্দোলনের এক প্রাণ পুরুষ অধ্যক্ষ মোহাম্মাদ ইজ্জত উল্লাহ




 নিজস্ব প্রতিবেদক :সাতক্ষীরা আশাশুনি  উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর,সাবেক জেলা শুরা ও কর্ম পরিষদ সদস্য,বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ, বিশিষ্ট হোমিও চিকিৎসক ডাক্তার নুরুল আমিন(৭৩) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার দুপুর ১২:০৫ মিনিটে নিজ বাসভবনে স্ট্রোকজনিত কারণে তিনি ইন্তেকাল করেন। 

তিনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের চাকলা গ্রামের মৃত:নিছার উদ্দিন ঢালীর মেজ পুত্র। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী,তিন পুত্র,তিন কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও রাজনৈতিক সহকর্মী রেখে যান। গতকাল রাত ৯:০০ টায় আশাশুনি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জানাজা নামাজ শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজা নামাজে ইমামতি করেন সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা)আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। 


জানাজা নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনা রাখেন-বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মোহাম্মাদ ইজ্জত উল্লাহ। তিনি বলেন,আশাশুনি উপজেলার ইসলামী আন্দোলনের কাজ অনেক আগেই শুরু হয়েছে,কিন্তু সংগঠনটা সাংগঠনিকভাবে ভিত্তিটা ডাক্তার নুরুল আমিন সাহেবের হাতেই তৈরি হয়েছে। আশাশুনি সংগঠনের ভীত রচয়িতা ডাক্তার নুরুল আমিন। ডাঃ নুরুল আমিন ইসলামী আন্দোলনের এক প্রাণ পুরুষ।


সাতক্ষীরা-২(সদর-দেবহাটা)আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেন,ত্যাগের একজন প্রতীক ছিলেন ডাক্তার নুরুল আমিন,সাহসিকতার প্রতীক ছিলেন ডাক্তার নুরুল আমিন,ভয় ভীতি বলে কোন জিনিস আমরা তার ভেতর দেখি নাই,ত্যাগ ও কুরবানীর পরাকষ্ট ছিলেন তিনি। 


সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস রবিউল বাশার,বলেন,ডাক্তার নুরুল আমিনের তাকওয়া আমার কাছে স্পষ্ট,তিনি রাহা খরচ বেশী হয়েছে বলে দুই দুই বার বিশ হাজার টাকা আমার কাছে ফিরিয়ে দেন। তিনি ডাক্তার নুরুল আমিনের শাহাদাতি মৃত্যু কামনা করেন।


জেলা জামায়াতের আমির সাবেক উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল বলেন,ডাক্তার নুরুল আমীন একজন মেধাবী ছাত্র ছিলেন,পেশাগতভাবে খুলনা খালিশপুর থানায় ডাক্তারী প্র্যাকটিস করতেন এবং খালিশপুর থানা আমীরের দায়িত্ব পালন করতেন,সংগঠনের প্রয়োজনে কাজী শামসুর রহমানের আহবানে চলে আসেন আশাশুনিতে। তার ত্যাগ ও কোরবানি ছিল অপারিসীম।

অন্যদের মধ্য উপস্থিত ছিলেন,নায়েবে আমির নুরুল হুদা,সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, সহ-সেক্রেটারী মাওলানা ওবায়দুল্লাহ,সহ-সেক্রেটারি মাওলানা ওসমান গনি,সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট স.ম সালাউদ্দিন,জেলা কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট আব্দুস সোবান মুকুল,উপাধ্যক্ষ আব্দুস সবুর,এ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান, আশাশুনি উপজেলা আমির আবু মুছা তারিকুজ্জামান তুষার,নায়েবে আমীর মাওঃ নুরুল আফছার মোরতাজা,কালীগঞ্জ উপজেলা আমির আব্দুল ওহাব সিদ্দিকী,নায়েবে আমীর আবু ইসলাম,দেবহাটা থানা আমির মাওলানা অলিউল ইসলাম,শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সহ-সভাপতি চেয়ারম্যান মাওলানা আবু বক্কার সিদ্দিক,সেক্রেটারী প্রফেসর আব্দুল গফফার,মাওলানা মনিরুল ইসলাম বেলালী, বিএনপি নেতা স.ম হেদায়েতুল ইসলাম,আশাশুনি উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা আনওয়ারুল হক,কালীগঞ্জ উপজেলা সেক্রেটারী অধ্যাপক আব্দুর রউফ,সহ সেক্রেটারি মাওলানা আনারুল ইসলাম,ডাঃ রোকনুজ্জামান,প্রফেসর শাহজাহান,অফিস সেক্রেটারি মাওলানা রুহুল কুদ্দুস,বাইতুলমাল সম্পাদক মাওলানা শহিদুল ইসলাম,সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম,মরহুমের বড় জামাতা এবি এম আলমগীর পিন্টু,শ্যালক মাওঃ হাফিজুল ইসলাম,সদর ইউনিয়ন আমির হাফেজ আব্দুল্লাহ,সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হাই,ছাত্রশিবিরের থানা সভাপতি ইয়াছিনুর রহমান সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ,সাংবাদিক,শিক্ষক ও এলাকা ধর্ম প্রাণ মুসল্লিবৃন্দ।

Labels: ,

দুমকি উপজেলায়, সাতটি দোকানে চুরি

 




  

জাকির হোসেন হাওলাদার,

দুমকী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: 




পটুয়াখালী জেলার  দুমকি উপজেলায়, গভীর রাতে সাতটি দোকানে  চুরি সংঘটিত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার গভীর রাতে থানা ব্রীজ এলাকায় মোঃ আলামিনের মুদি দোকান, মোঃ মাহাবুব খানের মুদি দোকান, জাকির হোসেন খানের মুদি দোকান, আলো খানের চায়ের দোকান, ছিদ্দিক হাওলাদারের ভ্যারাইটিজ স্টোর এবং আঃ রব ও ইউনুসের ভাতের হোটেল লক্ষ্য করে চোরেরা টিনের বেড়া কেটে প্রবেশ করে নগদ টাকা, সিগারেট, দুধ ও তেলের বোতল নিয়ে যায়।

মাহাবুব খান জানান, প্রতিদিনের মতো রাতের বেলা দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাই। সকালে এসে দেখা যায় মালামাল এলোমেলো এবং দোকানের পিছনের বেড়ার টিন কেটে প্রবেশ করা হয়েছে।

অপর ব্যবসায়ী আলামিন জানান, তার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় চোর রাত সাড়ে ১১টায় ঢুকেছে এবং রাত সাড়ে ১২টায় বের হয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, থানাব্রীজ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নৈশ প্রহরী না থাকায় চুরি সহজ হয়ে উঠেছে।

দুমকি থানার এসআই মোঃ তাওহীদ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চোর সনাক্ত ও গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে।

Labels: ,

Saturday, February 14, 2026

হাতুড়ে ডাক্তার আমিরুল ইসলামকে নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন সাংবাদিক নাকি ডাক্তার

 


নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা জেলায় অর্শ, পাইলস, ভগন্দর, এনাল ফিশার, ফিস্টুলা ও পলিপাসসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দেওয়ার নামে দীর্ঘদিন ধরে এক ব্যক্তি পাইলস্ ডক্টর চেম্বারের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে একাধিক চেম্বার পরিচালনা করছেন এমন অভিযোগ উঠেছে ডা. এম আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। স্থানীয়ভাবে পরিচিত এই ব্যক্তি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করছেন সচেতন মহলের একাংশ, যা নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা পারুলিয়া বাসস্ট্যান্ডের সামনে সিঙ্গার শোরুম সংলগ্ন একটি চেম্বারে প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত রোগী দেখেন তিনি। এছাড়া কালিগঞ্জ উপজেলার মৌতলা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এবং কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা কলেজের সামনে প্রতি সোমবার একই সময়ে রোগী দেখার তথ্য পাওয়া গেছে।
জেলার বিভিন্ন স্থানে তার ডজনখানেক চেম্বার রয়েছে বলেও দাবি করছেন স্থানীয়রা, যেখানে পাইলস ও সংশ্লিষ্ট রোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়।

রোগীদের দেওয়া ব্যবস্থাপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সেখানে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে বিএসএস (সমাজবিজ্ঞান) এবং ডিইউএমএস (ডিপ্লোমা ইন ইউনানী মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি)। চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে রোগ নির্ণয়, ওষুধ প্রদান বা চিকিৎসাপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC) নিবন্ধনপ্রাপ্ত এমবিবিএস চিকিৎসক হওয়া প্রয়োজন। ফলে তার চিকিৎসা কার্যক্রমের আইনি বৈধতা এবং এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পাইলস বা অর্শের মতো রোগ অনেক সময় সাধারণ মনে হলেও ভুল চিকিৎসা বা বিলম্বিত চিকিৎসার কারণে গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই অননুমোদিত চিকিৎসা কার্যক্রম রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একাধিক রোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও চিকিৎসা পদ্ধতি দেওয়া হলেও সেগুলোর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি সম্পর্কে তারা স্পষ্ট ধারণা পাননি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক নজরদারির বাইরে থেকে এই কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। এতে সাধারণ মানুষ সহজে আস্থা পেয়ে চিকিৎসা নিতে আগ্রহী হচ্ছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে এম আমিরুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি কোন বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি বলে জানা গেছে।

সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুস সালামের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার এই সম্পর্কে জানতে হবে। আপনি বললেন আমি হুট করে বক্তব্য দিতে পারি না। ঠিক আছে ভালো থাকবেন। বলে তড়িঘড়ি করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। আবার অনেকে দাবি করছেন- সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন কে ম্যানেজ করে জেলা জুড়ে এই সকল হাতুড়ি ডাক্তাররা অবৈধভাবে তাদের এই কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন।

দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: সাইফুল ইসলামের নিকট পাইলস্ ডক্টর চেম্বার বিষয়ে কথা হলে তিনি আশ্বস্ত করেন আগামীকাল আমি ওইখানে যাবো। সম্ভবত এই নামে কোন রেজিস্ট্রেশন নেই। বিষয়টি শুনেছি ব্যবস্থা নিবো।
জনস্বাস্থ্য ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি মনে করছেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা প্রয়োজন। তাদের মতে, যদি কোনো অনিয়ম বা আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, না হলে রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।

সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, চিকিৎসা সেবার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রশাসন ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সমন্বিত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরার দাবি উঠেছে।

Labels: , ,

Thursday, February 12, 2026

সাতক্ষীরার চার আসনেই জামায়াত প্রার্থীদের জয়


 ডেক্স নিউজ : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। জেলার সব কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে তারা নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরাজিত করেন।


সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া)

সংসদীয় আসন নম্বর ১০৫-এর ১৬৮টি কেন্দ্রের ফলাফলে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের ইজ্জত উল্যাহ পেয়েছেন ২ লাখ ৭ হাজার ৫৯৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের হাবিবুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৮১ হাজার ৯৬৮ ভোট।

সাতক্ষীরা-২ (দেবহাটা-সাতক্ষীরা সদর)

সংসদীয় আসন নম্বর ১০৬-এর ১৮০টি কেন্দ্রের ফলাফলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মুহাদ্দিস আবদুল খালেদ পেয়েছেন ২ লাখ ৬০ হাজার ৪২৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের আব্দুর রউফ পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯১ ভোট।

সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ)

মোট ১৬৫টি কেন্দ্রের ফলাফলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের রবিউল বাশার পেয়েছেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৭৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফুটবল প্রতীকের ডা. শহিদুল আলম পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৮৩৪ ভোট। ধানের শীষ প্রতীকের কাজী আলাউদ্দীন পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৭৩৪ ভোট।

সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর)

সংসদীয় আসন নম্বর ১০৮-এর ৯৬টি কেন্দ্রের ফলাফলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের গাজী নজরুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ৪৬২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের ড. মো. মনিরুজ্জামান পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৪২৪ ভোট।

উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার বলেন, আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হবে।

Labels: , ,

সাতক্ষীরা-৪ ধানের শীষকে হারিয়ে বড় জয় পেলেন ‘দাঁড়িপাল্লা’র গাজী নজরুল ইসলাম

 


নিজস্ব প্রতিবেদক সাতক্ষীরা :


সাতক্ষীরা-৪ শ্যামনগর আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম। টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া এই নির্বাচনে তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ড. মনিরুজ্জামানকে ২১ হাজার ৩৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।


নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই আসনের মোট ৯৬টি কেন্দ্রের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে গাজী নজরুল ইসলাম তার ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে বড় ধরনের জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন।

প্রার্থী প্রতীক প্রাপ্ত ভোট গাজী নজরুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা ১,০৫,৪৬২ ড. মনিরুজ্জামান ধানের শীষ ৮৪,৪২৪ জয়ের ব্যবধান --- ২১,০৩৮


ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণার পর দেখা যায়, ৯৬টি কেন্দ্রের সবকটিতেই গাজী নজরুল ইসলামের শক্ত অবস্থান ছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি ১,০৫,৪৬২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। অন্যদিকে, বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ড. মনিরুজ্জামান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়াই করে ৮৪,৪২৪ ভোট সংগ্রহ করতে সক্ষম হন।

বিপুল এই বিজয়ের পর স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম তার প্রতিক্রিয়ায় ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং এলাকার উন্নয়নে সকলকে সাথে নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শ্যামনগর আসনের এই ফলাফল স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ড. মনিরুজ্জামানকে পরাজিত করে গাজী নজরুলের এই বিজয়কে কেন্দ্র করে পুরো নির্বাচনী এলাকায় এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

Labels: , ,

ষড়যন্ত্রের মুখে গোলখালীর সমাজসেবক জামু সম্মানহানির অপচেষ্টায় লিপ্ত এক বিশেষ চক্র

গোলাম শাহারিয়া:


সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের দ্বীপ এলাকা গোলখালীর সাধারণ মানুষের প্রিয়মুখ এবং ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত জামির আলী জামু-কে নিয়ে একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তি এবং তথাকথিত সংবাদকর্মী নিজেদের স্বার্থ হাসিলে ব্যর্থ হয়ে এই সাদা মনের মানুষটির সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতে উঠেপড়ে লেগেছে।



সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যমে জামির আলী জামু-কে সীমান্ত সিন্ডিকেট বা মাদক-অস্ত্র পাচারের সাথে জড়িয়ে যে সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অনুসন্ধানে জানা গেছে, জামু এলাকার একজন প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। গোলখালী এলাকায় মাদক ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তিনি সবসময় সোচ্চার থাকেন। মূলত পাচারকারী চক্রের হোতা ভারত নিবাসী যোগেশ এবং বর্তমানে কুয়েতে পলাতক আব্দুল্লাহর সাজানো ডিজিটাল প্রোপাগান্ডার শিকার হচ্ছেন তিনি।



গোলখালী দ্বীপের সাধারণ বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, জামির আলী জামু এলাকার সামাজিক বিবাদ মীমাংসা এবং মানুষের বিপদে-আপদে সবসময় পাশে থাকেন। তার জনপ্রিয়তা ও ন্যায়নিষ্ঠায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল তাকে ‘ডন’ বা ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়ার অপচেষ্টা করছে। স্থানীয়দের দাবি, তার বিরুদ্ধে অতীতে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ নেই। কিছু অসাধু সংবাদকর্মী কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই তাকে পলাতক আসামি আব্দুল্লাহর সহযোগী হিসেবে দেখানোর যে চেষ্টা করছে, তা হাস্যকর এবং চরম মানহানিকর।



অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, ভারতের কুখ্যাত পাচারকারী যোগেশ এবং কুয়েতে বসে থাকা আব্দুল্লাহর সাথে জামুর কোনো প্রকার সংশ্লিষ্টতা নেই। বরং আব্দুল্লাহর মতো অপরাধীরা যখন বিদেশ থেকে ভিডিওর মাধ্যমে সম্মানিত ব্যক্তিদের দিকে আঙুল তোলে, তখন স্পষ্ট হয়ে যায় যে এটি একটি ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইলের অংশ। জামু এই পাচারকারী চক্রের প্রধান বাধা হওয়ার কারণেই তাকে সামাজিকভাবে কোণঠাসা করার জন্য এই নোংরা খেলার অবতারণা করা হয়েছে।


জামির আলী জামুর পরিবার ও এলাকাবাসী এই মিথ্যা সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা জানান, যারা কলম বিক্রি করে একজন নিরপরাধ মানুষকে অপরাধী বানানোর চেষ্টা করছে, তাদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে সম্মানহানির দায়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।



গোলখালীর সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করেন, সত্যকে কখনো ধামাচাপা দিয়ে রাখা যায় না। জামির আলী জামু সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং তাকে জড়িয়ে পাচারকারী চক্র ও কতিপয় সুযোগসন্ধানী সাংবাদিক যে জাল বুনেছে, তা অচিরেই প্রশাসনের সুষ্ঠু তদন্তে পরিষ্কার হয়ে যাবে।

Labels: ,

দেশজুড়ে ‘ইনফিনিক্স’ আতঙ্ক নিম্নমানের হ্যান্ডসেটে প্রতারিত হচ্ছেন গ্রাহক

 



ডেক্স নিউজ  সাতক্ষীরা :

দেশের স্মার্টফোন বাজারে চটকদার বিজ্ঞাপনের আড়ালে নিম্নমানের হ্যান্ডসেট বিক্রি করে হাজার হাজার গ্রাহককে প্রতারিত করার অভিযোগ উঠেছে ‘ইনফিনিক্স’ (Infinix) নামক মোবাইল ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে। পকেটে রাখলেই বডি বেঁকে যাওয়া, মাদারবোর্ড নষ্ট হওয়া এবং কিস্তির নামে চড়া সুদ আদায়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে নিঃস্ব করার এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। সাতক্ষীরাসহ দেশের প্রতিটি প্রান্তেই এখন এই ব্র্যান্ডটি নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।


সারাদেশের ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, ইনফিনিক্স ফোনের স্থায়িত্ব বলতে কিছুই নেই। অত্যন্ত সস্তা মানের প্লাস্টিক ও নড়বড়ে বডি ব্যবহারের ফলে পকেটে থাকা অবস্থায় সামান্য চাপেই ফোনটি ধনুকের মতো বেঁকে যাচ্ছে। ঢাকার একটি সার্ভিস সেন্টারে আসা এক গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "স্মার্টফোনের নামে খেলনা কিনেছি। পকেটে নিয়ে চলাফেরা করাও দায়। কয়েকদিনেই ফোনের বডি বেঁকে গেছে এবং ডিসপ্লে ফেটে গেছে।"



অভিযোগ উঠেছে, সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষকে লক্ষ্য করে ‘সহজ কিস্তি’র ফাঁদ পেতেছে কোম্পানিটি। অল্প টাকা ডাউমপেমেন্টে ফোন দিলেও, মাস শেষে চড়া সুদ যোগ করে গ্রাহকের কাছ থেকে আসল দামের চেয়ে অনেক বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে। গ্রামীণ এলাকার সহজ-সরল মানুষ এই সুদের হিসাব বুঝতে না পেরে কিস্তির জালে আটকা পড়ছেন।


অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অসাধু মোবাইল ব্যবসায়ীরা বেশি কমিশনের লোভে সাধারণ ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করছেন। নামী ও টেকসই ব্র্যান্ডের বদলে তারা গ্রাহকদের হাতে ইনফিনিক্স ধরিয়ে দিচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের চটকদার কথায় বিশ্বাস করে সাধারণ মানুষ এই ‘বাজে’ ফোনগুলো কিনে প্রতারিত হচ্ছেন। বিশেষ করে সাতক্ষীরার মতো সীমান্ত জেলাগুলোতে এই সিন্ডিকেট আরও বেশি সক্রিয়।



সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং সরাসরি অভিযোগে গ্রাহকরা অন্যদের এই ব্র্যান্ডের ফোন কেনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের মতে, এটি কেবল অর্থের অপচয় নয়, বরং এক ধরনের পরিকল্পিত প্রতারণা। চটকদার ক্যামেরা বা বেশি র‍্যাম-রোমের প্রলোভন দিয়ে ভেতরে অত্যন্ত নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।



ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভুক্তভোগীরা বলছেন, এই ধরনের নিম্নমানের পণ্য বাজারে ছেড়ে সাধারণ মানুষের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া দ্রুত বন্ধ করতে হবে। কিস্তির নামে সুদের কারবার এবং গুণগত মানহীন ফোনের বাজারজাতকরণ বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে দেশজুড়ে।

Labels: , ,

সাতক্ষীরায় শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ সম্পন্ন কলারোয়ায় সর্বোচ্চ ৮১.৮৯ শতাংশ ভোট

 

নিজস্ব প্রতিবেদক সাতক্ষীরা :



সাতক্ষীরা জেলায় অত্যন্ত উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ভোটগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জেলার সার্বিক পরিস্থিতি ও ভোটের হার তুলে ধরেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার (এসপি)।

পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার সাতটি উপজেলায় গড়ে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। পুলিশ সুপার জানান, সকাল ৭:৩০ মিনিট থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৪:৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে। কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকায় জেলার কোথাও কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

এসপি'র দেওয়া তথ্যমতে বিভিন্ন উপজেলার ভোটের পরিসংখ্যান

পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের জানানো ভোটের হার নিচে দেওয়া হলো

কলারোয়া: ৮১.৮৯% (জেলায় সর্বোচ্চ)

তালা: ৭৫%

দেবহাটা: ৭২.৫০%

কালীগঞ্জ: ৭১.৯৮%

সাতক্ষীরা সদর: ৭০.৯৩%

আশাশুনি: ৬৮.৭৮%

শ্যামনগর: ৬৮%

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, "সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে কলারোয়া ও তালা উপজেলায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের মুগ্ধ করেছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পেরেছেন। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত পুলিশ, আনসার ও স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন ছিল।"

তিনি আরও যোগ করেন যে, ভোটগ্রহণ পরবর্তী সময়ে কোনো ধরনের সহিংসতা রোধে পুলিশ প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকবে।

সাতক্ষীরার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এখন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত ফলাফল সংকলনের কাজ চলছে। তবে প্রাথমিক এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি বিগত সময়ের তুলনায় বেশ ইতিবাচক।

Labels: , ,

Wednesday, February 11, 2026

সাতক্ষীরায় র‍্যাব টহল জোরদার : স্টাইকিং টিম মাঠে

 



সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন  সম্পন্নের লক্ষ্যে র‍্যাব এর টহল জোরদার করেছে । গত ৮ ফ্রেব্রুয়ারি থেকে জেলার বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করছেন র‍্যাব সদস্যরা। ভোট কেন্দ্র ভীতিকর ও প্রভাবমুক্ত রাখতে কাজ করছেন তারা। 


সাতক্ষীরা সিপিসি -১ কোম্পানি কমান্ডার জায়েন উদ্দিন মোহাম্মদ যিয়াদ  আজ ১১ তারিখ বিকালে ৪টায় খুলনা রোড মোড়ে সাংবাদিকদের জানায় , র‍্যাবের টহল জোরদার করা হয়েছে। জেলার নিরাপত্তার জন্য স্টাকিং ফোর্স হিসাবে ৯ টি টহল টিম মোতায়েন করা হয়েছে।  আমরা ভোটার দের অনুরোধ জানাবো তারা যেন নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্র আসেন, তারা নিরাপত্তার সাথে ভোটদান সম্পন্ন করতে পারবেন,  মানুষের মনে যাতে কোনো ভয় ভীতি না থাকে সেজন্য এলাকাবাসীদের সাথে কথা বলা হচ্ছে। কেউ তাদের হুমকি দিচ্ছে কিনা। হুমকি পেলে যাতে নিকটস্থ বাহিনী ও আমাদের কে  জানাই সে বিষয় অনুরোধ করা হচ্ছে।

Labels: , ,

Tuesday, February 10, 2026

সীমান্ত সিন্ডিকেটের ‘ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইল, নেপথ্যে ভারত-বাংলাদেশ মাদক ও অস্ত্র পাচারকারী চক্র

 

নিজস্ব প্রতিবেদক সাতক্ষীরা :


 সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সীমান্ত এলাকা কেন্দ্রিক একটি শক্তিশালী মাদক, অস্ত্র ও মানব পাচারকারী সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে এবং এলাকার সাধারণ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সামাজিক প্রতিপত্তি ক্ষুণ্ণ করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সুপরিকল্পিত অপপ্রচার শুরু করেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভারত ও বাংলাদেশের দুই প্রান্ত থেকে এই চক্রটি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে, যাদের প্রত্যেকের রয়েছে দীর্ঘ অপরাধমূলক রেকর্ড।



অনুসন্ধানে এই চক্রের তিন প্রধান হোতার অতীত কর্মকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে

আব্দুল্লাহ (কালইঞ্চি) পিতা আকবার তরফদার। শ্যামনগর থানা পুলিশের হাতে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের ভিডিও ফুটেজ এবং নথিপত্র তার অপরাধের সাক্ষ্য দেয়। বর্তমানে সে আইন এড়াতে ভারতের বাড়ি ব্যবহার করে কুয়েতে আত্মগোপন করে আছে এবং সেখান থেকেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

 মামুন কয়াল (সাপখালি) পিতা জারালে কয়াল। গত ১১ই নভেম্বর ২০২৫ তারিখে কোস্টগার্ডের বিশেষ অভিযানে অবৈধ অস্ত্র ও মাদকসহ হাতেনাতে গ্রেফতার হয় এই মামুন। বর্তমানে সে সাতক্ষীরা জেলহাজতে বন্দি।

জামির আলী জামু (গোলাখালি) পিতা সিয়াম উদ্দিন মোল্লা। গোলাখালি এলাকায় ‘ডন’ হিসেবে পরিচিত এই জামু কিছুদিন আগেই সেনাবাহিনীর হাতে আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়েছিল। জামিনে বের হয়েই সে সিন্ডিকেটকে পুনরায় চাঙ্গা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।



অনুসন্ধানে জানা যায়, এই চক্রের অন্যতম প্রধান সদস্য ভারতের যোগেশ। সে ভারত থেকে বাংলাদেশে অস্ত্র ও গরু পাচারের মূল যোগানদাতা। সম্প্রতি মামুন কয়াল গ্রেফতার হওয়ায় এই পাচার কাজে ব্যাঘাত ঘটে। এর প্রতিশোধ নিতে এবং এলাকার প্রতিবাদী মানুষদের মুখ বন্ধ করতে যোগেশ ভারত থেকে একটি ভিডিও তৈরি করে। সেই ভিডিওটি পরিকল্পিতভাবে পলাতক আব্দুল্লাহর ফেসবুক আইডি থেকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য যে, ভারতীয় গণমাধ্যমের সূত্রমতে, যোগেশ নিজেও সম্প্রতি ওপারে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রসহ সেদেশের পুলিশের খাঁচায় বন্দি হয়েছে। অর্থাৎ, দুই দেশের দুই কয়েদি ও পলাতক আসামি মিলে এই ডিজিটাল ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছে।



ভিডিওটিতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কালইঞ্চি গ্রামের রবিউল ইসলাম (পিতা আবু দাউদ গাজী), পূর্ব কৈখালীর সুনামধন্য ব্যক্তি দেলোয়ার হোসেন (পিতা মনসুর মোল্লা) এবং সাপখালি গ্রামের আইজুল গাজী (পিতা রুলআমিন গাজী)-কে জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, এসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় কোনো অপরাধের রেকর্ড তো নেই-ই, বরং তারা এলাকায় সজ্জন এবং পাচারকারীদের বিরোধী হিসেবে পরিচিত। মূলত তাদের প্রতিবাদী কণ্ঠকে থামিয়ে দিতেই এই সাজানো ভিডিওর আশ্রয় নিয়েছে পাচারকারী সিন্ডিকেট।


ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইল,অপরাধীরা নিজেরা গ্রেফতার হওয়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে থাকলেও, তারা এআই বা এডিট করা ভিডিওর মাধ্যমে অন্যদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

সীমান্ত সিন্ডিকেট,ভারত থেকে যোগেশ অস্ত্র পাঠায়, আর বাংলাদেশে জামু ও মামুন সেই নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করে।

অর্থ পাচার,আব্দুল্লাহ অপরাধের অর্থে ভারতে স্থাবর সম্পদ গড়েছে এবং বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে বসে এই প্রোপাগান্ডা তদারকি করছে।



এলাকার সচেতন মহল এই জঘন্য অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষকে এভাবে হয়রানি করা এবং সাজানো ভিডিওর মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

 একজন অস্ত্র পাচারকারী (জামু), একজন জেলবন্দি মাদক ব্যবসায়ী (মামুন) এবং একজন পলাতক আসামি (আব্দুল্লাহ) যখন কোনো সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে, তখন তার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যৌক্তিক। এই আন্তর্জাতিক চক্রের মূল উৎপাটন করা না গেলে সীমান্ত সুরক্ষা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে।

Labels: , ,